২০, জানুয়ারী, ২০১৮, শনিবার | | ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

বিজয় দিবসে লাল সবুজের জার্সি গায়ে তারকাদের মিলন মেলা

আপডেট: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:৩৮ এএম

 বিজয় দিবসে লাল সবুজের জার্সি গায়ে তারকাদের মিলন মেলা

শের-ই-বাংলার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিজয় দিবস প্রদর্শনী ম্যাচকে ঘিরে বসেছিল সাবেক তারকা ক্রিকেটারদের মিলন মেলা।  ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে নিহত হয়েছিলেন ক্রীড়া সংগঠক মুস্তাক আহমেদ।  মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ও গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম চৌধুরী (জুয়েল) শহীদ হয়েছিলেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বন্দি থাকা অবস্থায়।  তাদের শ্রদ্ধা জানাতে ১৯৭২ সাল থেকে বিজয় দিবসে আয়োজিত হয়ে আসছে প্রদর্শনী

ক্রিকেট ম্যাচ।

প্রতি বছরের মতো এ বারও শহীদ জুয়েল একাদশ ও শহীদ মুস্তাক একাদশ নামে দুটি দলে বিভক্ত হয়ে একটি টি-টোয়েন্টি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলে।  যেখানে শহীদ জুয়েল একাদশ ৪৬ রানে জয়ী হয়।

লাল জার্সি পড়ে মাঠে নামে শহীদ জুয়েল একাদশের ক্রিকেটাররা।  আর সবুজ জার্সিতে দেখা যায় শহীদ মুস্তাকের ক্রিকেটারদের।

এ ম্যাচটি আসলে প্রদর্শনীতেই সীমাবদ্ধ।  কেননা এখানে হার-জিতকে ছাপিয়ে বিজয় দিবস উদযাপন ও সাবেকদের পূর্ণমিলনী হয়।  বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন যেই শক্তিশালী অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে, তার অতীত নায়করা আজ একে অপরের সঙ্গে দেখা করা সুযোগ পেলেন।

ম্যাচে জুয়েল একাদশের অধিনায়ক ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের এক সময়ের অধিনায়ক ও টাইগারদের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানো আমিনুল ইসলাম বুলবুল।  আর অপপ্রান্তে শহীদ মুশতাক একাদলের নেতৃত্ব ছিল সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি কর্মকর্তা আকরাম খান।

ম্যাচে টসে জিতে শহীদ জুয়েল একাদশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় শহীদ মুস্তাক একাদশ।  যেখানে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে তিন উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান করে শহীদ জুয়েল একাদশ।  দলের হয়ে ৮২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন হান্নান সরকার।  ৩৯ বলে ১০টি চার ও তিনটি ছয়ে নিজের ইনিংস সাজান তিনি।  এছাড়া ৬২ বলে ছয়টি চার ও একটি ছয়ে ৭১ করে অপরাজিত থাকেন জাভেদ ওমর বেলিম।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো শহীদ মুস্তাক একাদশ ২০ ওভার শেষে আট উইকেট হারিয়ে ১২৬ করতে পারে।  সর্বোচ্চ  ৩৪ রান করেন দলনেতা আকরাম খান।  এছাড়া ৩১ রান আসে হারুনুর রশিদ।  জুয়েল একাদশের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট পান অধিনায়ক বুলবুল।  ম্যাচ সেরা হন হান্নান সরকার।

শহীদ জুয়েল : শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ, জাভেদ ওমর বেলিম, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, ইহসানুল হক সেজান, আব্দুল হান্নান সরকার, হাসানুজ্জামান, জাহাঙ্গীর আলম, নিয়ামুর রশিদ রাহুল, আতহার আলী খান, তালহা জুবায়ের, মোর্শেদ আলী খান, শফিউদ্দিন আহমেদ বাবু, আনোয়ার হোসেন।
 
 শহীদ মুস্তাক : হারুনুর রশিদ লিটন, হাবিবুল বাশার সুমন, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আকরাম খান, মুশফিকুর রহমান বাবু, খালেদ মাহমুদ সুজন, জামাল উদ্দিন বাবু, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ রফিক, হাসিবুল হোসেন শান্ত, সাইফুল ইসলাম, তারেক আজিজ খান, মিজানুর রহমান বাবুল, ফারুক আহমেদ।