২৩, ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, শুক্রবার | | ৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

কব্জির জোর দেখাতে অভিষেক হচ্ছে আফিফ, আরিফুল আর মেহেদির !

আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:০৪ এএম

কব্জির জোর দেখাতে অভিষেক হচ্ছে আফিফ, আরিফুল আর মেহেদির !
যদিও শেষ মুহূর্তে সাকিব আল হাসানের জায়গায় আরেক বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুকে নেয়ার পর সবার কৌতুহলি প্রশ্ন ছিল একটাই- ‘১৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার সাথে প্রথম টি- টোয়েন্টি ম্যাচে কোন বাঁহাতি স্পিনার ছাড়াই মাঠে নামবে বাংলাদেশ?’

টেস্ট মর্যাদা পাবার পর থেকে এই দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে তিন মাস আগে হওয়া দুই ম্যাচের সিরিজ পর্যন্ত, যা কখনই দেখা যায়নি- এবার কি তা দেখা যাবে? মানে বাংলাদেশ কি স্মরণাতীতকালের মধ্যে প্রথমবার বাঁহাতি স্পিনার ছাড়া মাঠে
নামবে কাল?

কিন্তু আজ দুপুরে বাংলাদেশের প্র্যাকটিস সেশন শেষ না হতেই জেগে উঠেছে নতুন প্রশ্ন।  সবার মুখে একটাই কথা, ‘আচ্ছা, তামিম আর মুশফিক কি খেলতে পারবেন?’ এ দুই অতি নির্ভরযোগ্য পারফরমার যে হঠাৎ ইনজুরির শিকার। 

তামিমের বাহুর মাসলে সমস্যা।  আর মুশফিকুর রহিমের হাতের কব্জিতে ব্যথা।  তাদের খেলা নিয়ে আছে সংশয়।  তাই দুজনার ইনজুরির কারণে মোহামম্মদ মিঠুনকে শেষ মুহূর্তে দলে টানা হয়েছে। 

যদিও বিসিবি থেকে দুজনার ইনজুরিকে ‘মাইনর’ বা কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে।  তারপরও ভিতরে খবর, কাল সকালে খেলার আগে তামিম ও মুশফিকের অবস্থা খুঁটিয়ে দেখা হবে।  খেলার মত অবস্থায় থাকলেই কেবল দুজনকে খেলতে দেখা যেতে পারে।  সেটা অবশ্যই ইনজুরিমুক্ত হলে। 

যতদূর জানা গেছে, তামিমের বাহুর পেশির টান তত জটিল নয়।  তামিম নিজেও আজ এক অনুষ্ঠানে জাগো নিউজের সাথে আলাপে জানিয়েছেন, ভালো আছেন।  তার খেলার সম্ভাবনা আছে যথেষ্টই।  সে তুলনায় মুশফিকুর রহিমের কব্জির ব্যথা নাকি বেশি।  তার খেলার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। 

এদিকে তামিম ও মুশফিকের মত অতি নির্ভরযোগ্য পারফরমার যেহেতু অনিশ্চিত, কাল খেলার আগে পর্যন্ত তাদের সম্পর্কে কিছুই বলা যাচ্ছে না, তাই টিম ম্যানেজমেন্ট আগামীকালকের জন্য একাদশ চূড়ান্ত করেননি। 

যতদূর জানা গেছে, দুজনার জন্য দুরকম চিন্তা ভাবনা আছে।  দুজনই যদি ইনজুরিতে ছিটকে পড়েন তাহলে মোহাম্মদ মিঠুন আর জাকির হাসানের ভাগ্য খুলে যাবে।  তখন দুজনই দলে ঢুকে পড়বেন।  তামিম ইকবাল খেলতে না পারলে ড্যাশিং জাকির হাসানকে খেলানোর কথা ভাবা হচ্ছে।  আর মুশফিক বাইরে চলে গেলে ঢুকবেন মোহাম্মদ মিঠুন। 

এই দুজনার ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে সংশয় থাকলেও অন্য নয়জনের মনোনয়ন নাকি প্রায় চূড়ান্ত।  যেহেতু লঙ্কান স্কোয়াডে পাঁচ পাঁচজন স্বীকৃত বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, তাই দলে বাঁহাতি স্পিনার খেলানোর চিন্তা থেকে অনেকটাই সরে এসেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। 

তারপরও কাল খেলার আগে উইকেটের চেহারা দেখে স্পিনারের কোটা চূড়ান্ত হবে।  উইকেটে স্পিনারদের জন্য বেশি কিছু থাকলে বাঁহাতি নাজমুল অপুকে খেলানো হতে পারে।  তবে এমনিতে তার দলে জায়গা পাবার সম্ভাবনা খুব কম।  কারণ অফস্পিনার কোটায় দুই তরুণ মেহেদি হাসান ও আফিফ হোসেনের খেলার সম্ভাবনাই বেশি।  ভিতরের খবর, এ দুই তরুণেরই সম্ভবত অভিষেক ঘটছে কাল। 

আর সাথে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান কাম জেন্টল মিডিয়াম পেসার আরিফুল হকের জাতীয় দলে অভিষেকও নাকি একরকম নিশ্চিত । 

বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে বড় ম্যাচ গুলোয় বল হাতে ওপেন করে নিজের মেধা ও সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছেন অফস্পিনার মেহেদি।  ক্রিস গেইল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের মত ভয়ঙ্কর ও বিশ্ব মানের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বোলিং সূচনা করে সফলও হয়েছেন এ অফস্পিনার। 

আর স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে সাকিবের অনুপস্থিতিতে আফিফ হোসেনকে খেলানোর কথা ভাবা হচ্ছে।  কারণ ১৮ বছরের এ যুবাও ব্যাট ও বল হাতে সমান দক্ষ।  সদ্য শেষ হওয়া বিশ্ব যুব ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ব্যাট ও বল হাতে ভাল খেলেছেন।  দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড সহ বিশ্ব যুব কাপে চারটি হাফ সেঞ্চুরি তার সামর্থ্যের বড় দলিল। 

মেহেদি ও আফিফের সাথে তিন পেসার খেলানোর চিন্তাও নাকি চূড়ান্ত।  তিন জাতি ক্রিকেট আর টেস্টে পেসারদের চেয়ে স্পিনারদের কার্যকারিতা বেশি ছিল।  বাংলাদেশের একাদশেও ছিল বাড়তি স্পিনারের ছড়াছড়ি।  কিন্তু টি-টোয়েন্টি সিরিজে পেসারদের আধিক্যই বলে দিচ্ছিলো শেরে বাংলা ও সিলেটে স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হবে। 

খেলা যেহেতু পড়ন্ত বিকেলে (পাঁচটায় শুরু) তাই এক সেশনে শিশির পড়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি।  শিশিরের কথা ভেবেই জেনুইন স্পিনার কমিয়ে বাড়তি পেসার অন্তর্ভুক্তির চিন্তা।  শেষ মুহূর্তে একজন বাঁহাতি স্পিনারের দলভুক্তি ঘটুক আর নাই ঘটুক কাল সাইফউদ্দীনসহ বাংলাদেশ মাঠে নামতে যাচ্ছে তিন পেসার মোস্তাফিজ, রুবেল ও সাইফউদ্দীনকে নিয়ে।