২২, ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৬ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

খালেদাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত

আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৭:৪৪ পিএম

খালেদাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনটি বাদীকে ফেরত দিয়ে আগামী ১৪ মার্চ গুলশান থানা পুলিশকে এ সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছে আদালত। 




যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার ওই মামলায় বুধবার মামলাটির বাদী বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী গ্রেপ্তার দেখানোর ওই আবেদন করেন। 




ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব শুনানি শেষে বেলা ৩টায় ওই সংক্রান্তে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছিলেন।  কিন্তু বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ওই
আবেদন কোনো কারণ ছাড়াই বাদীকে ফেরত দেওয়া হয়। 




এ সম্পর্কে মামলাটির বাদী এবি সিদ্দিকী জানান, ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর তিনি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।  ওইদিন আদালত তেজগাঁও থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।  তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান মানহানির অভিযোগে অভিযুক্ত করে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন।  এরপর আদালত ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ওই বছর ২২ মার্চ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন।  সমন জারি হওয়ার পর খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় ওই বছর ১২ অক্টোবর সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে গুলশান থানাকে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।  কিন্তু গুলশান থানা পুলিশ ওই আদেশ অদ্যাবধি বাস্তবায়ন না করেনি।  বর্তমানে আসামি খালেদা জিয়া যেহেতু জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে আছেন।  তাই আমরা ওই বিষয় উল্লেখ করে এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য হাজতি পরোয়ানা জারির আবেদন করি।  কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই আদালত থেকে তা ফেরত দেওয়া হলো। 




পুলিশের দাখিলকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন।  ওই মন্ত্রিপরিষদে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের যারা প্রকাশ্য এবং আত্মস্বীকৃতিরূপে পাকিস্তানের দোসর হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, আলবদর, আলশামস কমিটির সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রী ও এমপি বাবান।  পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।  এর মধ্যে খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রিত্বপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মুত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।  কিন্তু তারা ক্ষমতায় থাকাকালে মন্ত্রিত্বের সুবিধা নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকা তাদের বাড়ি এবং গাড়িতে ব্যবহার করেছেন।  বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বাধীনতা বিরোধী ব্যক্তিদের তার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিত্ব দিয়ে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে উক্ত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক জনগণের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছেন।  তাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধানার মানহানির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।  অন্যদিকে প্রচলিত আইনে মৃত ব্যক্তির বিচারের সুযোগ না থাকায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে অব্যাহতির প্রদানের সুপারিশ করা হলো।  




মামলায় বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর কলঙ্কিত মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বর সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে সামরিক সরকারের দায়িত্ব দখল করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছেন।  ১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসলে তাকে হুমকি তার বাবার বাড়িতে প্রবেশ করতে দেন নাই।  এ ছাড়া খালেদা জিয়া ২০০১ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করে স্বাধীনতাবিরোধী আলবদর রাজাকারদের হাতে মন্ত্রিত্ব তুলে দেয়।  যার মাধ্যমে স্বীকৃত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকা মানহানি ঘটিয়েছেন।