২৩, ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, শুক্রবার | | ৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

‘অসহায় বৃদ্ধকে নিজের কোট আর শার্ট দিয়ে খালি গায়ে বাড়ি ফিরেছিলেন হুমায়ুন ফরীদি’

আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৭:২৭ পিএম

‘অসহায় বৃদ্ধকে নিজের কোট আর শার্ট দিয়ে খালি গায়ে বাড়ি ফিরেছিলেন হুমায়ুন ফরীদি’
রেও অমর হয়ে আছেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তী অভিনেতা হুমায়ন ফরীদি।  তিনি মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছেন।  ২০১২ সালে আজকের দিনে তিনি সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গিয়েছিলেন না ফেরার দেশে।  তার আজ ৬ষ্ঠ তম  মৃত্যুবার্ষিকীতে শোকহত শোবিজ অঙ্গন। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে তার সহকর্মীরা তাকে স্মরণ করছেন।  আর জাতীয় চলচ্চিত্র বিজয়ী জয়া আহসানও তাদের মধ্যে একজন।  তিনি একটু আগে হুমায়ন ফরীদিকে স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত
হয়ে নিজের ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, ‘দু’দিন ধরেই ভাবছিলাম তার সম্পর্কে কিছু লিখবো।  মনের অখণ্ড অনুভূতিগুলো জড়ো করবো। 


কিন্তু পারলাম না।  সকাল থেকেই বার বার কিপ্যাডের ওপর অত্যাচার চলছে।  কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেল, এখনো গুছিয়ে লিখবার সাহস করতে পারলাম না। ’


‘শুধু বার বার মনে হচ্ছে, হুমায়ুন ফরীদি ছয় বছর ধরে আমাদের সঙ্গে নেই? জ্ঞানের ভাণ্ডার নিয়ে যিনি বিরাজ করতেন আমাদের চারপাশে, তার জ্ঞান ছয় বছর ধরে আমরা স্পর্শ করছি না? প্রকৃতির নিয়মে মানুষ চলে যায়।  চলে যাবেই।  কিন্তু অমরত্ব পান ক’জন? আমার মনে হয়, হুমায়ুন ফরীদি সেই গুটিকয়েক ক্ষণজন্মাদের একজন।  তার দেহাবসান হলেও জীবনাবসান হয়নি। ’


‘তার জিয়নকাঠি ততদিন জ্বলবে, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, যতদিন বাংলাদেশে মঞ্চ থাকবে, নাটক থাকবে, চলচ্চিত্র থাকবে।  একজন অভিনয়শিল্পী সব মাধ্যমে দাপটের সাথে অভিনয় করতে পারেন না।  সবার সে ক্ষমতা নেই।  সীমাবদ্ধতা থাকাটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। 


তবে হুমায়ুন ফরীদি পেরেছিলেন।  কী মঞ্চে, কী টিভি নাটকে, কী চলচ্চিত্রে-একটা সময় ছিল তার নামে নাটক চলতো, চলচ্চিত্র চলতো।  এ কারণেই আমরা যারা অভিনয় করি তাদের আমি দুটি ভাগে ভাগ করতে চাই: সৌভাগ্যবান আর দুর্ভাগা। ’


‘আমার মনে হয় যারা হুমায়ুন ফরীদির সঙ্গে অভিনয় করবার সুযোগ পেয়েছেন, তারা সবচাইতে সৌভাগ্যবান অভিনয়শিল্পী।  আমি সেই ভাগ্যবানদের একজন।  এমন মহীরুহ যখন পাশে থাকতেন, নিজেকে তুচ্ছ মনে হতো।  প্রতি মুহূর্তে ভাবতাম, আহা, কত কিছুই জানিনা।  পারিনা।  মানিনা। বড় শিল্পী হতে হলে যে বড় মানুষ হতে হয়, হুমায়ুন ফরীদি সম্পর্কে যত জেনেছি, তত বেশি অনুধাবন করেছি। ’


‘একটা গল্প শুনেছিলাম।  শীতকালে ফরীদি ভাই অনেক রাতে নিজের গাড়ি করে ফিরছিলেন।  হঠাৎ বিজয় সরণি মোড়ে তিনি গাড়ি থামালেন।  দেখলেন একজন অশীতিপর বৃদ্ধ ঠান্ডায় কাঁপছে।  পরণে তার লুঙ্গি ছাড়া কিছুই নেই।  অসহায় বৃদ্ধকে নিজের কোট আর শার্ট দিয়ে খালি গায়ে বাড়ি ফিরেছিলেন হুমায়ুন ফরীদি।  এরকম আরো অসংখ্য ঘটনা আছে।  স্মৃতি কথা আছে, যা এখন আমরা সবাই বলছি। ’


‘ফরীদি ভাই, আপনি কখনো নায়ক হতে চাননি।  হতে চেয়েছিলেন অভিনেতা।  কিন্তু দেখুন, আজ এতদিন পরও আপনি আমাদের কাছে, সাধারণ মানুষের কাছে নায়ক হয়েই আছেন।  এমন নায়ক ক’জন হতে পারে? অনেক অনেক ভালোবাসা, দোয়া আপনার জন্য।  ওপারে নিশ্চয়ই ভালো আছেন।  আমি অন্তত আপনার সেই ‌‌‍ট্রেডমার্ক হাসির শব্দ শুনছি!এভাবেই ভালো থাকবেন, সবসময়। ’