২৩, ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, শুক্রবার | | ৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

‘আমি সেই ভাগ্যবানদের একজন’

আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৭:২৪ পিএম

‘আমি সেই ভাগ্যবানদের একজন’
চলচ্চিত্র অঙ্গনের একটি অধ্যায় কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদি।  যে অধ্যায়ের অবসান ঘটে আজকের বসন্তের এই দিনে, ১৩ ফেব্রুয়ারি।  ভিন গ্রহের এই মানুষটি চলে যাওয়ার দিনটিকে স্মরণ করে নিজের ফেসবুকে লিখেছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা জয়া আহসান।  




তার সেই কথাগুলো পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল: 




দু’দিন ধরেই ভাবছিলাম তার (হুমায়ূন ফরীদি) সম্পর্কে কিছু লিখবো।  মনের অখন্ড অনুভূতিগুলো জড়ো করবো।  কিন্তু পারলাম না।  সকাল থেকেই বার বার কিপ্যাডের
ওপর অত্যাচার চলছে।  কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেল, এখনো গুছিয়ে লিখবার সাহস করতে পারলাম না।  




শুধু বার বার মনে হচ্ছে, হুমায়ূন ফরীদি ছয় বছর ধরে আমাদের সঙ্গে নেই? জ্ঞানের ভান্ডার নিয়ে যিনি বিরাজ করতেন আমাদের চারপাশে, তার জ্ঞান ছয় বছর ধরে আমরা স্পর্শ করছি না? 




প্রকৃতির নিয়মে মানুষ চলে যায়।  চলে যাবেই।  কিন্তু অমরত্ব পান ক’জন? আমার মনে হয়, হুমায়ূন ফরীদি সেই গুটিকয়েক ক্ষণজন্মাদের একজন।  তার দেহাবসান হলেও জীবনাবসান হয়নি।  তার জিয়নকাঠি ততদিন জ্বলবে, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, যতদিন বাংলাদেশে মঞ্চ থাকবে, নাটক থাকবে, চলচ্চিত্র থাকবে।  




একজন অভিনয়শিল্পী সব মাধ্যমে দাপটের সাথে অভিনয় করতে পারেন না।  সবার সে ক্ষমতা নেই।  সীমাবদ্ধতা থাকাটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়।  তবে হুমায়ূন ফরীদি পেরেছিলেন।  কী মঞ্চে, কী টিভি নাটকে, কী চলচ্চিত্রে-একটা সময় ছিল তার নামে নাটক চলতো, চলচ্চিত্র চলতো।  




এ কারণেই আমরা যারা অভিনয় করি তাদের আমি দুটি ভাগে ভাগ করতে চাই: সৌভাগ্যবান আর দুর্ভাগা।  আমার মনে হয় যারা হুমায়ূন ফরীদির সঙ্গে অভিনয় করবার সুযোগ পেয়েছেন, তারা সবচাইতে সৌভাগ্যবান অভিনয়শিল্পী।  আমি সেই ভাগ্যবানদের একজন।  




এমন মহীরুহ যখন পাশে থাকতেন, নিজেকে তুচ্ছ মনে হতো।  প্রতি মুহূর্তে ভাবতাম, আহা, কত কিছুই জানিনা।  পারিনা।  মানিনা।  বড় শিল্পী হতে হলে যে বড় মানুষ হতে হয়, হুমায়ূন ফরীদি সম্পর্কে যত জেনেছি, তত বেশি অনুধাবন করেছি।  




একটা গল্প শুনেছিলাম।  শীতকালে ফরীদি ভাই অনেক রাতে নিজের গাড়ি করে ফিরছিলেন।  হঠাৎ বিজয় সরণি মোড়ে তিনি গাড়ি থামালেন।  দেখলেন একজন অশীতিপর বৃদ্ধ ঠান্ডায় কাঁপছে।  পরণে তার লুঙ্গি ছাড়া কিছুই নেই।  ফরীদি ভাই সে সময় নিজের কোট আর শার্ট খুলে ঐ বৃদ্ধকে পড়িয়ে দিয়ে আসলেন।  ফরীদি ভাই বাড়ি ফিরলেন খালি গায়ে।  এরকম আরো অসংখ্য ঘটনা আছে।  স্মৃতি কথা আছে, যা এখন আমরা সবাই বলছি। 




ফরীদি ভাই, আপনি কখনো নায়ক হতে চাননি।  হতে চেয়েছিলেন অভিনেতা।  কিন্তু দেখুন, আজ এতদিন পরও আপনি আমাদের কাছে, সাধারণ মানুষের কাছে নায়ক হয়েই আছেন।  




এমন নায়ক ক’জন হতে পারে? অনেক অনেক ভালোবাসা, দোয়া আপনার জন্য।  ওপারে নিশ্চয়ই ভালো আছেন।  আমি অন্তত আপনার সেই ‌‌‍ট্রেডমার্ক হাসির শব্দ শুনছি! এভাবেই ভালো থাকবেন, সবসময়।