২৩, ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, শুক্রবার | | ৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

মনে আছে হাসিনার মুক্তি চেয়ে খালেদার সেই বিবৃতি ?

আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৬:৫৬ পিএম

মনে আছে হাসিনার মুক্তি চেয়ে খালেদার সেই বিবৃতি ?
নে আছে সেই দিনটির কথা ? যেদিন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি চেয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়াপারসন বেগম খালেদা জিয়া। 

হ্যা, আজ থেকে প্রায় ১১ বছর আগের কথা।  ২০০৭ সালের ১৭ জুলাই তৎকালীন সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ৩ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার হওয়া শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বিবৃতি দিয়েছিলেন খালেদা।  এর একদিন আগে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোররাতে ধানমণ্ডির সুধা সদনের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়
শেখ হাসিনাকে।  প্রায় ৩ কোটি টাকার একটি চাঁদাবাজির মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। 


শেখ হাসিনাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশিষ্ট নাগরিক উল্লেখ করে তাকে মুক্তি দিয়ে অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়ার সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। 


সাড়ে ১০ বছর পর সেই সেনা সমর্থিত সরকারের আমলে দায়েরকৃত দুর্নীতি মামলাতেই সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে যেতে হয়েছে খালেদা জিয়াকে।  আর এই সময়ে সরকারে প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। 


এই গ্রেফতারের একদিন পরই তার মুক্তি চেয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেন খালেদা জিয়া।  সেই বিবৃতি গণমাধ্যমে প্রকাশও হয়। 


খালেদা তাতে বলেন, শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়া উচিত।  শেখ হাসিনাকে মুক্ত রেখে আইন পরিচালনা করা হলে পারস্পরিক অবিশ্বাস, সন্দেহ, সামাজিক উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক আশঙ্কা কমে আসবে। 


শেখ হাসিনাকে যেভাবে গ্রেফতার করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাতে খালেদা জিয়া দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শেখ হাসিনা একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় নেতার কন্যা এবং দেশের সম্মানিত নাগরিক।  তাকে গ্রেফতার করায় বিবেকমান নাগরিকেরা আহত হয়েছেন।  এর ফলে দেশে বিদেশেও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন খালেদা জিয়া। 





শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের আড়াই মাস পর ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছিল অন্য আরেকটি মামলায়।  খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দুই নেত্রীর বিরুদ্ধেই বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের হয়।  সেই সব মামলার ভেতরই একটি মামলা ছিল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা। 

উল্লেখ্য,  জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৫বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

এ মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১০ বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। 


গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন মামলার বিচারক ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান। মামলার অন্যান্য ৫ আসামীকেও ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।  

সাজা প্রাপ্ত অন্য আসামীরা হলেন- সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমান।  মামলায় শুরু থেকে পলাতক আছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান। 


রায়ে সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেকের ২কোটি ১০লক্ষ ৭১ হাজার টাকা সমপরিমান জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে।