২০, জানুয়ারী, ২০১৮, শনিবার | | ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

রেজিস্ট্রেশনের এক বছরেও হয়নি রাবির দশম সমাবর্তন

আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৬:১৫ পিএম

রেজিস্ট্রেশনের এক বছরেও হয়নি রাবির দশম সমাবর্তন

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দশম সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শেষ হয়। এক বছর পেরিয়ে গেলেও সমাবর্তন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেজিস্ট্রেশনকারী শিক্ষার্থীরা। 

এদিকে কর্তৃপক্ষ বলছেন, খুব দ্রুত সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় আচার্যের কাছে তারিখ চাওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর থেকে ১০ম সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়। চলে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। পরে রেজিস্ট্রেশনের

সময় বাড়িয়ে ১০ ডিসেম্বর করা হয়। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর এবং এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জনকারীরা এ সমাবর্তনে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পান।

রেজিস্ট্রেশন ফি ছিল তিন হাজার ৫৭০ টাকা। সমাবর্তনে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছিল বলে আইসিটি সেন্টারের প্রশাসক সহযোগী অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্যা জানিয়েছিলেন। ওই সময় ২০১৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর সমাবর্তনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়। সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহানকে আহ্বায়ক করে সমাবর্তন প্রস্তুতি কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু সমাবর্তন বক্তা ও প্রশাসনিক জটিলতা থাকায় তা অনুষ্ঠিত হয়নি।

এরপর ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ শেষ হয় উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন ও উপ- উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহানের মেয়াদ। সেইসঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় সমাবর্তন আয়োজনের কার্যক্রম। প্রায় দুই মাস অভিভাবক শূন্য থাকার পর ৭ মে উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. আব্দুস সোবহানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপরও পেরিয়ে গেছে সাত মাস। এতো দিনেও সমাবর্তনের আয়োজন করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেজিস্ট্রেশনকারী শিক্ষার্থীরা।

সমাবর্তনে রেজিস্ট্রেশন করা সফিকুল ইসলাম হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘অনেক আনন্দ উদ্দিপনা নিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম সবাই মিলে ক্যাম্পাসে যাবো, মজা হবে- এই ভেবে। সমাবর্তনের তারিখও ঠিক হলো, কিন্তু সমাবর্তন হলো না। নতুন উপাচার্য আসার পরে ভেবেছিলাম সমাবর্তন দ্রুতই হবে। তারপরও কোন আশা দেখছি না।

প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এনামুল হক বলেন, সমাবর্তন নিয়ে এমন টালবাহানা মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের টাকাগুলো নিয়ে ব্যাংকে ফেলে রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাইলে তখনই সমাবর্তন করতে পারতো, তাদের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাবর্তন চাই। 

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সোবহান বলেন, ‘সমাবর্তন কাছাকাছি চলে এসেছে। ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যে সময় চেয়ে আমরা মাননীয় আচার্যের কাছে আবেদন করেছি। কাগজপত্র প্রসেসও হয়ে গেছে। এ সপ্তাহেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বঙ্গভবনে যাবে। 

এখন রাষ্ট্রপতি এই দুই মাসের মধ্যে সুবিধামতো একটি তারিখ দেবেন। সেটা পেয়ে গেলেই বাকী প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। আর গত প্রশাসনেই কমিটি করা হয়েছিল। সেই কমিটিগুলোর মধ্যে সংযোজন-বিয়োজন বা পরিমার্জন হতে পারে।’ রেজিস্ট্রেশনে আবারো সুযোগ দেওয়া হবে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশনের জন্য ২০১১-১৪ সাল পর্যন্তই ঠিক থাকবে। তবে সমাবর্তনের তারিখটি পেয়ে গেলে আমাদের হাতে সময় বিবেচনা করে যারা বাদ পড়েছেন তাদের জন্য রেজিস্ট্রেশনে আবারো কিছু সময় দেওয়া হবে। সেটা ১০-১৫ দিনের জন্য হতে পারে।’