২১, এপ্রিল, ২০১৮, শনিবার | | ৫ শা'বান ১৪৩৯

মহিউদ্দিন চৌধুরীর জানাযায় লাখো মানুষ

আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৫:৩৯ পিএম

মহিউদ্দিন চৌধুরীর জানাযায় লাখো মানুষ
শোকার্ত লাখো জনতার অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।   শুক্রবার বাদে আসর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত নামাজে জানাজায় বন্দরনগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের লাখো মানুষ শরিক হয়।   জুমার নামাজের পর থেকে লালদীঘি ময়দানমুখী মানুষের ঢল নামে।   নানা শ্রেণি পেশা ও বয়সের মানুষ লালদীঘি ময়দানে কফিনের অপেক্ষা করতে থাকেন।   জানাজা শুরুর আগে জনসমুদ্র বোস ব্রাদার্স,
কোতোয়ালী 

মোড়, জেল রোড হয়ে আন্দরকিল্লা মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।   জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা আনিসুজ্জামান।   জানাজার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।   তিনি আগত জনতার প্রতি তার পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান।  




তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষের নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ হওয়ার পর থেকে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের মানুষ তার প্রতি যে অকৃত্রিম ভালবাসা দেখিয়েছে তাতে আমাদের পরিবার এদেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ।   জানাজায় লাখো মানুষের ভিড় প্রমাণ করে তিনি চট্টগ্রামবাসীর কত আপন ছিলেন।   তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীর জীবদ্দশায় যদি কোন ভুল করে থাকেন অথবা কারো মনে যদি কোন কষ্ট দিয়ে থাকেন তার জন্য পিতার পক্ষ থেকে ক্ষমা চান।   তিনি সবাইকে তার পিতাকে ক্ষমা করে দেয়ার আহ্বান জানান।   শোকাহত নওফেলের এ বক্তব্যের সময় লালদীঘি ময়দান জুড়ে কান্নার রোল উঠে।   নামাজে জানাজা শেষে সংক্ষিপ্ত মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আনিসুজ্জামান।   নামাজে জানাজায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শরিক হন।   বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন চৌধুরীর কফিনে জাতীয় পতাকা আচ্ছাদিত করা হয়।   জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল এ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার প্রদান করেন।   জানাজার কার্যক্রম পরিচালনা করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।  




জুমার নামাজের পর চশমা হিলের বাসা থেকে মহিউদ্দিন চৌধুরীর কফিন নিয়ে যাওয়া হয় তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কার্যালয় নগরীর দারুল ফজল মার্কেটস্থ মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয় চত্বরে।   চশমা হিলের বাসা থেকে দারুল ফজল মার্কেট পর্যন্ত জনতার ভিড় ঠেলে কফিনবাহী গাড়ি পৌঁছতে ঘণ্টা পার হয়ে যায়।   সেখান থেকে বিকেল ৪টার আগে কফিন নেয়া হয় লালদীঘি ময়দানে।   সোয়া ৪টায় জানাজা শেষ হলেও লাখো মানুষ তখনও লালদীঘি ময়দানে সমবেত ছিলেন।  




সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে ওবায়দুল কাদের ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ মহিউদ্দিন চৌধুরীর কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।   সেখান থেকে কফিন মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমা হিলের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।   চশমা হিলের পারিবারিক কবরস্থানে পিতা হোসেন আহমদ চৌধুরীর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে চট্টলবীর খ্যাত গণমানুষের নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে।   ভোর রাতে নগরীর মেহেদীবাগের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।   তার ইন্তেকালে চট্টগ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।