১৭, জানুয়ারী, ২০১৮, বুধবার | | ২৯ রবিউস সানি ১৪৩৯

ঘরমুখো মুসল্লিদের দুভোর্গ ট্রেনে উপচেপড়া ভিড়, বাসে গলাকাটা ভাড়া

আপডেট: ১৪ জানুয়ারী ২০১৮, ০১:৫৭ পিএম

ঘরমুখো মুসল্লিদের দুভোর্গ ট্রেনে উপচেপড়া ভিড়, বাসে গলাকাটা ভাড়া

আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ৫৩ তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এবার মুসল্লিদের বাড়ি ফেরার পালা। কিন্তু প্রচণ্ড ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই নেই টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনে। আর সড়ক পথে তীব্র যানজটের পাশাপাশি বাসগুলোতে গলাকাটা ভাড়া নেয়া হচ্ছে।



রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আখেরি মোনাজাত শেষে প্রথম ট্রেনটি ছেড়ে যায়। ট্রেনের ভেতর, ছাদে সব জায়গায় মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল। দেখা গেছে, একজন অপরজনকে টেনে তুলেছেন ট্রেনের ছাদে। কোথাও তিল ধরনের ঠাঁই নেই।


স্টেশনে

ভিড়ের মধ্যে ট্রেনে উঠতে না পেরে অনেকেই হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। আর যারা ভিড় ঠেলে ট্রেনে উঠতে পেরেছেন তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়েছেন। অনেকেই ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করে সুযোগ না পেয়ে উঠছেন ছাদে। এতে বাড়িফেরা মুসল্লিরা পড়ছেন চরম দুর্ভোগে। এছাড়া টঙ্গী ইজতেমা প্রাঙ্গণ থেকে চারদিকের বিভিন্ন সড়কে মানুষের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।


টঙ্গী স্টেশন মাস্টার আলিমুজ্জামান যুগান্তরকে জানান, আখেরি মোনাজাত শেষে প্রথম বিশেষ ট্রেনটি ছেড়ে যায় বেলা সাড়ে ১১টায়। এর ১০ মিনিট পর পর বিশেষ ট্রেন টঙ্গী স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছে।


এছাড়া আন্তঃনগর, বিশেষ, লোকালসহ সব ধরনের ট্রেন বিশ্ব ইজতেমাকে ঘিরে টঙ্গীতে (স্টপিজ) থামানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রাজশাহীগামী সব ট্রেনে ভিড় ছিল অস্বাভাবিক।


ট্রেনের ভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথম ট্রেনটিতে যাত্রীদের বেশি চাপ ছিল। ট্রেনের ভেতর ও ছাদে সব জায়গায় মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল।


মোনাজাতে শরিক হওয়ার জন্য রাজশাহী থেকে আসা বারেক বলেন, ইজতেমায় শরিক হতে আমি ট্রেনেই এসেছিলাম। এখন ভিড় ঠেলে ট্রেনে আর উঠতে পারছি না। আর বাসে তো গলাকাটা ভাড়া। তারপরও দেখি বাসের টিকিট পাওয়া যায় কি না।


রোববার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মোনাজাত শুরু হয়ে শেষ হয় বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে। মোনাজাত শেষে মুসল্লিদের ঘরে ফেরার তাগিদ লক্ষ্য করা যায়। শুক্রবার ফজরের নামাজ শেষে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। আজ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তা শেষ হল।


ইজতেমা ফেরত মানুষ ভ্যান, রিকশা, অটোরিকশা, পিকআপ, ট্রাক ও বাসযোগে ঘরে ফিরছেন। তবে পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় ঢাকার আশপাশের অনেক মানুষকে হেঁটে ঘরে ফিরতে দেখা গেছে। বাসেও ঠাঁই নেই। সড়কে তীব্র যানজট আর গলাকাটা ভাড়া। দুর্ভোগ সঙ্গী করে টঙ্গী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ।