১৯, জানুয়ারী, ২০১৮, শুক্রবার | | ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

কাউকেই ফেবারিট মানতে রাজি নন ক্রেমার

আপডেট: ১৩ জানুয়ারী ২০১৮, ১০:০৮ পিএম

কাউকেই ফেবারিট মানতে রাজি নন ক্রেমার


তাদের আসা নিয়ে ছিল নানা বিপত্তি। প্রথমে কথা ছিল ১০ জানুয়ারি আসার; কিন্তু পরে জানানো হলো ১০ না ১১ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকায় পৌঁছাবে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। শেষ পর্যন্ত ওই তারিখেও আসেনি জিম্বাবুইয়ানরা। ১২ জানুয়ারি, শুক্রবার ঢাকায় পা রেখেছে গ্রায়েম ক্রেমারের দল। তাও এক সঙ্গে নয়। ভেঙ্গে ভেঙ্গে। জানা গেছে টিকেট পেতে বিড়ম্বনার কারণেই বাংলাদেশে আসা দু’দিন পিছিয়েছে তাদের।


বিলম্বে আসার কারণে জিম্বাবুইয়ানদের আর প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা হলো না। আজ

(শনিবার) বিকেএসপিতে হবার কথা ছিল ওই গা গরমের ম্যাচ; কিন্তু তা আর হলো কই? এই প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে না পারার খুব যে আক্ষেপ আছে, তা বলা যাবে না। কারণ, এখন যে দলটি বাংলাদেশে তিন জাতি ক্রিকেট খেলতে এসেছে, তাদের প্রায় সবারই বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আর কয়েকজন ক্রিকেটারতো মাসখানেক আগে বিপিএলও খেলে গেছেন।

অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার সে দলের অন্যতম সদস্য। তারকায় ঠাসা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে খেলেছেন ক্রেমার। মূলতঃ লেগস্পিনার (৮১ ম্যাচে ৯৪ উইকেট); সঙ্গে ব্যাটিংটাও ভালই পারেন (৮০ ইনিংসে ৬২৪ রান) সে কথাই জানান দিচ্ছে।


আজ মিডিয়ার সাথে কথ্ াবলতে গিয়ে ক্রেমারও মানলেন, হ্যাঁ প্র্যাকটিস ম্যাচটা খেলতে পারলে ভাল হতো। বলা যেত আদর্শ প্রস্তুতিই হয়েছে; কিন্তু এখন আর তা বলার অবকাশ নেই। তবে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক তা নিয়ে খুব চিন্তিত নন। কারণ, তার দলের বেশিরভাগ সদস্য, বিশেষ করে সিনিয়র ও নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটারদের বাংলাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। কয়েকজন বিপিএলও খেলে গেছেন।


তাই মুখে এমন কথা, ‘হ্যাঁ, এখন আর আদর্শ প্রস্তুতির কথা বলা যাচ্ছে না। তাই বলে চিন্তার কিছুই নেই। আমরা এর আগেও ঢাকায় প্রচুর খেলেছি। আমার মনে হয় না, আমরা যে কন্ডিশনে খেলেছি, তার চেয়ে বড় ধরনের কোন রদবদল ঘটবে। তাছাড়া আমরা তো আজ শনিবার ও আগামীকাল রোববার দুটি প্র্যাকটিস সেশন পাচ্ছি। আজ আমরা ফ্লাডলাইটের আলোয় ফিল্ডিং সেশন করবো। হ্যাঁ মানছি, দলের নবীন সদস্যদের জন্য এ সফর ও সিরিজটা নতুন; কিন্তু সিনিয়রদের জন্য এটা কোনই ইস্যু না। আসলে আমরা তো সিনিয়রদের দিকেই তাকিয়ে, যারা আমাদের ম্যাচ জেতাতে পারেন।’


অধিনায়ক ক্রেমার, অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা, ম্যালকম ওয়ালার এবং সলোমন মিরে- এই চার ক্রিকেটার মাত্র এক মাস আগে বিপিএল খেলে গেছেন। তাদের সে খেলার অভিজ্ঞতা জিম্বাবুইয়ানদের অনেক কাজে দেবে। এমন মনে করেন অধিনায়ক ক্রেমার।


কারণ সে সময় তিনি বাংলাদেশের সব ক্রিকেটারকে কাছ থেকে দেখেছেন। বেশিরভাগ সদস্যের সাথে এক দলে খেলার অভিজ্ঞতাও আছে। আবার শ্রীলঙ্কারও বেশ কজনকে বিপিএলে নিজ দল কিংবা প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়া গেছে। সেটাও একটা প্লাস পয়েন্ট মানছেন জিম্বাবুয়ে ক্যাপ্টেন। অনেকেই স্বাগতিক বাংলাদেশকে ফেবারিট মানছেন।


কিন্তু জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেমার বাংলাদেশ কেন, কোন দলকেই ফেবারিট মানতে নারাজ। তার ব্যাখ্যা, ‘আমার মনে হয় শক্তি ও সামর্থ্যে কোন দলকে এগিয়ে রাখা কঠিন। তিন দল খুব কাছাকাছি। তিন দলেরই পর্যাপ্ত সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা আছে। তিন দলেই বেশ কিছু কোয়ালিটি স্পিনারের সমন্বয় আছে।’


ক্রেমার ফিল্ডিংকে একটা বড় ফ্যাক্টর ভাবছেন। তার মনে হয়, যে দলের ফিল্ডিং ভাল হবে- সেই দলের সম্ভাবনা তত বেশি থাকবে। তার শেষ কথা, এ আসরে তিন দলই প্রায় সমান সমান। নির্দিষ্ট দিনে যে দল ভাল খেলবে, তারাই জিতবে। দারুণ এক টুর্নামেন্ট হবে দেখেন।’