১৯, জানুয়ারী, ২০১৮, শুক্রবার | | ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

স্পিন খরায় বাংলাদেশ, কারণ সেই হাথুরুসিং

আপডেট: ১৩ জানুয়ারী ২০১৮, ০৮:৪৯ পিএম

স্পিন খরায় বাংলাদেশ, কারণ সেই হাথুরুসিং

ক্রিকেটে দক্ষিণ এশিয়ার দল গুলোর প্রধান অস্ত্র স্পিন।  পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা এমনি বাংলাদেশেরও প্রধান স্পিন।  বর্তমানে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনার সাকিব।  যার স্পিনে কাবু পুরো বিশ্ব সেরা দলের ব্যাটসম্যানেরা। 

অথচ এখন  বাংলাদেশ দলে স্পিন বোলারের মহা শংকট চলছে।  বাংলাদেশ দলে কয়েক জন বিশ্ব মানের  স্পিন বোলার রয়েছে যাদের অসাধারন নৈপুন্য বাংলাদেশ বড় বড় দল গুলোকে হারাতে সক্ষম হয়েছে। 
 
বাংলাদেশ

দলে যখন ছিলেন মোহাম্মদ রফিক।  রফিকের ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার পর আসলে আব্দুর রাজ্জাক।  দীর্ঘ সময় দলের বোলিং আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজ্জাক ।  এরপর তার পাশে এসে দাঁড়ালেন সাকিব আল হাসান, সাকিবতো  সবাইকে ছাড়িয়েই বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনার। 

তবে জাতীয় দল থেকে রাজ্জাক সরে যাওয়া’র পর স্পিন আক্রমণ নিয়ে এগিয়ে চলেছেন শুধু সাকিবই।   হতাশার বিষয় সেখানে যে সাকিবে পাশে এসে কেউ এখনো দাঁড়াতে পারেনি। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবদান স্পিন আক্রমণেরই।  সেখানে স্পিন খরায় ভুকছে বাংলাদেশ।  রাজ্জাককে তো একরকম জোর করেই দূরে রাখা হলো দল থেকে। 

ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করে অনেক স্পিনার দলে জায়গা করে নিলেও তারা ব্যস্ত থাকছেন আসা-যাওয়ার মধ্যেই।  যার কারণে, এখনও নিজের যোগ্য কোনো সঙ্গী খুঁজে পাননি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনার সাকিব। 

ওয়ানডে অভিষেকে হ্যাট্রিক করে রেকর্ড গড়া তাইজুল ইসলাম এখন পর্যন্ত খেলেছেন চারটি ম্যাচ।  টেস্ট দলের অপরিহার্য অংশে পরিণত হওয়া তাইজুল ওয়ানডেতে আরও সুযোগ পেলে কিংবা টি-২০’র অভিষেক জার্সিটা গায়ে জড়াতে পারলে হয়ত যোগ্য সঙ্গী খুঁজে পেতেন সাকিব। 

স্পিনাররা কেন জাতীয় দলে স্থায়ী হতে পারছেন এ বিষয়ে জাতীয় দলের সাবেক স্পিনার ও বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ের নায়ক এনামুল হক জুনিয়রের মতে, হাথুরুসিংহে থাকাকালীন সময়ে যথেষ্ট সুযোগ পাননি দেশের স্পিনাররা।  দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার এমন ভাষ্য, ‘হাথুরুসিংহের সময়ে বাঁহাতি স্পিনার নেওয়ার ব্যাপারে প্রচণ্ড অনীহা তৈরি হয়।  ওটাই ক্ষতি করেছে।  রাজ্জাক ভাইকে একরকম জোর করেই দূরে রাখা হলো।  তাইজুলকেও পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি।  অথচ তার সামর্থ্য আছে কিছু করে দেখানোর। ’

এনামুল হক জুনিয়রও বাংলাদেশ দলে তার স্পিন নৈপুণ্য দেখালেও বেশী দিন থাকতে পারেননি।  তবে এনামুল হক জুনিয়রের এমন দাবি ফেলে দেওয়ার অবকাশ নেই।  কথিত আছে, মুমিনুলের মতো অভিজ্ঞ ও কার্যকরী ব্যাটসম্যানকেও তিনি নিজের ইচ্ছার কারণে রেখেছিলেন দলের বাইরে।  সেক্ষেত্রে তাইজুলের মতো প্রতিভাবান বোলার সুযোগ না পাওয়ার পেছনেও তার ‘দায়’ থাকা নয় অস্বাভাবিক কিছু। 

অবশ্য স্পিনার উঠে না আসার পেছনে আরও একটি কারণ থাকতে পারে- যা উঠে এসেছে দেশসেরা কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের কণ্ঠে। সালাউদ্দিন বলেন, ‘১১ থেকে ৪০ ওভারের মধ্যে মাত্র চারজন ফিল্ডার ৩০ গজের বাইরে রাখা যায়।  খুব ভালো স্পিনার না হলে এ সময় সফল হওয়া কঠিন।  ব্যাটসম্যানরা তখন দুই দিকেই শট খেলার প্রচুর সুযোগ পায়। ’

তবে ফরম্যাট, ভেন্যু, পরিবেশ বিচারে সাকিবের এই অদম্য পারফরমেন্স কিংবা সফলতার রহস্য কী? আরেক দেশসেরা কোচ সরওয়ার ইমরান বললেন এভাবে- ‘পৃথিবীতে সম্ভবত সাকিবই একমাত্র বোলার, যে একটা বলে ছক্কা খেয়েও পরের বলটা ওই জায়গাতে করার সাহস রাখে।  আর কোনো বোলার এটা করবে না।  কিন্তু সাকিব জানে, পরের বলটা ব্যাটসম্যান কখনো একই জায়গায় আশা করবে না। ’