১৮, জানুয়ারী, ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

নিষিদ্ধ চাকিংয়েই বেড়ে উঠছে আগামী প্রজন্ম

জুবায়ের আহমেদ | বার্তাবাজার.কম

আপডেট: ১৩ জানুয়ারী ২০১৮, ০৬:০১ পিএম

নিষিদ্ধ চাকিংয়েই বেড়ে উঠছে আগামী প্রজন্ম

আজকে যারা জাতীয় দলে কিংবা বিসিবি স্বীকৃত যেকোন টুর্নামেন্টে খেলছে, তারাও একসময় গলির ক্রিকেট, পাড়ার ক্রিকেট খেলেই বড় হয়েছেন। এটা চিরন্তন সত্য যে, সবাই ভালো ক্রিকেটার হয় না কিংবা সবাই ক্রিকেটের মূল স্রোতে গা ভাসাতে পারে না। কিন্তু ক্রিকেটের সঠিক নিয়ম মেনে ক্রিকেট খেলাটা বিশুদ্ধতার পূর্ব শর্ত।

এলাকাভিত্তিক টুর্নামেন্টেও চাকিং বল গ্রহণযোগ্য নয়, তবে একেবারে ছোট কিছু টুর্নামেন্টে দেখেছি আমি, যেখানে প্রতিদলে একজন চাকিং করার সুযোগ পান, অবশ্য পেস বল নয়,

চাকিং স্পিন করতে পারবেন সেসব বোলার।

এলাকার মাঠগুলোতে অনুর্ধ্ব ১৫ ছেলেগুলো সারাদিনই ক্রিকেট খেলে। সেখানে চাকিং বোলিংয়ের আধিপত্য বেশি। কেউ হাত ঘুরিয়ে (বৈধ) বল করতে পারলেও চাকিং বোলাররা বেশি সুবিধা নিতে পারায় বৈধ বোলারকেও বোলিং করানো হয় না অনেক সময় কিংবা বোলিং দিলেও মার খেলে তো কথাই নেই, পুরো খেলায় একওভারেই শেষ। বিশেষ করে এই ম্যাচগুলো ৮/১০ ওভারের হওয়ায় রান তোলার তাড়া থাকে। বোলিংয়ে কম রান দেওয়ার তাড়া থাকে, তাই চাকিং করেই রান আটকাতে চায়, দুই দলেই চাকিং বোলিংয়ের আধিপত্য থাকে, তাই এটাই নিয়মে পরিণত হয়।

যারা চাকিংয়ে অভ্যস্থ, তাদের ক্রিকেট নিয়ে হয়তো কোন বড় স্বপ্ন নেই, কিন্তু ক্রিকেট খেলার বিশুদ্ধতার চর্চাটা কেনো হবে না, শিশুকাল থেকেই? হাত ঘুরিয়ে বল করতে শেখাটা কি, বেশি কঠিন কিছু? তবে এখানে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়, কে শেখাবে তাদের, কে নেবে অলিতে গলিতে গিয়ে এই ছেলেদের হাত ঘুরিয়ে বল করা শেখানোর দায়িত্ব?

প্রশ্ন যেমন উঠবে তেমন উত্তরও আছে, হাত ঘুরিয়ে বল করতে পারা ক্রিকেটের সংখ্যাও কম নয়, যারা ২০ ওভারের ম্যাচ খেলে অভ্যস্ত, সেখানে চাকিং নিষিদ্ধই (মাঝে মাঝে অনেকেই করে থাকে)। এমন যারা আছে, যে যার এলাকার ছেলেদের ১/২/৩ বার একটু বুঝিয়ে দিলে এবং কোচিংয়ের মতো আগ্রহ নিয়ে সময় দিলে, আমি নিশ্চিত এই ছেলেগুলো বল করা শিখতে আগ্রহী হবে।

অবশ্য অনেকেই বলবেন, এই ধনের খেলাধূলা ফানি এবং গুরুত্বহীন, তাই কে কি বল করলো, তাতে কিছু যায় আসে না। যুক্তির খাতিরে মেনে নিলাম, গুরুত্বহীন ম্যাচ। কিন্তু এই সব ম্যাচ খেলেই কিন্তু সবাইকে বড় হতে হয়। যারা চাকিং করে, তারাও নিশ্চয়ই হাত ঘুরিয়ে বল করতে চায়, কিন্তু পারে না, কেউ বলে দেয় না, তাই তাদের আগ্রহও হয় না। যারা বল করতে পারে, তারা যদি একটু আগ্রহ নিয়ে ছোট ছোট একটু শেখাতে চেষ্টা করে, তাহলে অসম্ভব বলে কিছুই থাকবে না।

অনেকেই লেখার বিষয়টিকে গুরুত্বহীন মনে করতে পারেন, কিন্তু ক্রিকেটের সঠিক নিয়ম ক্রিকেট খেলার মাঝে যে আনন্দ, বিশুদ্ধতা, তা থেকে নিশ্চয়ই ছেলেরা বঞ্চিত হচ্ছে এবং এই সকল চাকিং বোলারদের সাথে খেলা যে শিশুটি হাত ঘুরিয়ে বল (বৈধ) করতে পারে, সেও নিরুৎসাহিত হচ্ছে নিশ্চিত ভাবে।

তাই স্ব স্ব এলাকায় যারা ভালো বোলিং করেন, এই বিষয়টিতে একটু নজর দিতে পারেন, ক্রিকেটের সঠিক নিয়ম ও বিশুদ্ধতা ছড়িয়ে দিতে পারেন অলি গলিতে। কে জানে, চাকিং বল ছেড়ে দিয়ে হাত ঘুরিয়ে (বৈধ) বল শেখা ছেলেটিই একদিন মাশরাফি, তাসকিন রুবেলদের মতো গতি তারকা হয়ে উঠতে পারে, সম্ভাবনা কিন্তু থাকছেই।