১৮, জানুয়ারী, ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

বোনকে উদ্ধারে খদ্দের সেজে যৌনপল্লীতে ভাই

আপডেট: ০৯ জানুয়ারী ২০১৮, ০৮:০২ পিএম

বোনকে উদ্ধারে খদ্দের সেজে যৌনপল্লীতে ভাই

বছর তিনেক আগে হারিয়ে যাওয়া বোনকে উদ্ধার করতে খদ্দের সেজে যৌনপল্লীতে হাজির ভাই। বিহারের বেগুসরাই জেলার যৌনপল্লী বখরী এলাকার ঘটনা এটি। 


দালালের হাতে ২০০ টাকা দিয়ে যৌনকর্মীর ঘরে যায় যুবক। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই যুবকটি বেরিয়ে আসে সেই ঘর থেকে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই আবারও সে ফিরে আসে পুলিশ নিয়ে। যৌনপল্লীতে যে মেয়েটিকে পছন্দ করেছিল সে আসলে তার আপন বোন প্রতিমা (ছদ্মনাম)।


ভাইয়ের সহযোগীতায় উদ্ধার হয়ে বাড়ি ফিরে প্রতিমা বিবিসিকে বলে, বছর তিনেক

আগে অশোক খলিফা নামে এক ব্যক্তি সীতামাড়ী জেলা থেকে আমাকে ফুঁসছিলে বুখরীতে নিয়ে যায়। তারপর থেকেই ওই কাজ করাতে বাধ্য করেছিল সে। সপ্তাহ দুয়েক আগে আমার ঘরে এক ফেরিওয়ালা এসেছিল। আমি তাকে দেখেই চিনতে পেরেছিলাম। সে আমার বাপের বাড়ির এলাকার লোক। সে বলেছিল যে আমাকে চিনতে পেরেছে। আমি তার মোবাইল নম্বরটা নিয়ে রেখেছিলাম। 


এর পর গ্রামে ফিরে এসে ওই নারীর আত্মীয়-স্বজনকে পুরো ঘটনা জানান ওই ফেরিওয়ালা। বাপের বাড়ির কয়েকজন ওই নারীকে যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার করার জন্য বেগুসরাইতে হাজির হন।


প্রতিমার ভাই মনোজ (ছদ্মনাম)  বলেন, ফোনেই ওই ফেরিওয়ালা আমার বোনকে জানিয়ে রেখেছিল যে আমি আসছি। সেইমতো আমি অশোক খলিফা নামের ওই দালালের কাছে যাই খদ্দের সেজে। দুশো টাকায় রফা হওয়ার পরে আমার সামনে দুজনকে হাজির করা হয়েছিল। চোখের ইশারা করে দিয়েছিলাম বোনকে। তার ঘরে গিয়ে বলে আসি যে পুলিশ নিয়ে আসছি একটু পরে।


এদিকে আগে থেকেই বখরী থানায় অভিযোগ দায়ের করায় ভাই থানায় গিয়ে পুলিশ দল নিয়ে ফিরে আসেন। তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় প্রতিমা এবং ঝাড়খণ্ড রাজ্যের বাসিন্দা আরেক নারীকে।


বখরী থানার ও সি শরৎ কুমার  জানিয়েছেন, প্রতিমাকে উদ্ধার করার পরের দিনই মেডিক্যাল পরীক্ষা করিয়ে আদালতে পেশ করা হয়। তারপরেই তার বাবা-মায়ের হেপাজতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার মূল অভিযুক্ত অশোক খলিফা এখনও ফেরার।