২২, জানুয়ারী, ২০১৮, সোমবার | | ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

শিরোনাম ভারতে ট্রেনে বাংলাদেশি নারীর শ্লীলতাহানি করল বিএসএফ জওয়ান সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যাত্রা শুরু করল রিজেন্ট এয়ারওয়েজ প্রতিদিন চলবে দুটি বিশ্বরেকর্ড গড়তে তামিমের প্রয়োজন মাত্র ৪২ রান! উল্লাপাড়ায় গৃহবধূ কে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগ আইপিএলে এখন পর্যন্ত মাশরাফিকে ছাড়াতে পারেনি কোনো বাংলাদেশী! ওয়ালটন মিডিয়া কাপ ব্যাডমিন্টন ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর মিরপুরে মাদকের ছড়াছড়ি বিষের বোতল হাতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে কলেজছাত্রীর অনশন মানবতার দৃষ্টান্ত রাখলেন সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ বিসিএলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড খুলনায়

সমন্বিত ব্যাংক পরীক্ষায় আবেদন করে ১ লাখেরও বেশি প্রবেশপত্র তুলতে ব্যর্থ!

আপডেট: ০৩ জানুয়ারী ২০১৮, ১১:২২ এএম

সমন্বিত ব্যাংক পরীক্ষায় আবেদন করে ১ লাখেরও বেশি প্রবেশপত্র তুলতে ব্যর্থ!

রাষ্ট্রায়ত্ত ৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ পেতে আবেদন করেও সময়মত প্রবেশপত্র ডাউনলোড না করায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না লক্ষাধিক আবেদনকারী। আগামী ১২ জানুয়ারি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৬১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এ প্রতিষ্ঠানগুলোর দেড় হাজারেরও বেশি পদের বিপরীতে আবেদন করেন প্রায় সোয়া তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী। কিন্তু এই আবেদনকারীদের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করেননি এক লাখেরও বেশি

আবেদনকারী।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদগুলোতে নিয়োগের জন্য চাকরিপ্রার্থীদের বিনা পয়সায় আবেদনের যে সুযোগ ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি (বিএসসি) দিয়েছে তা হেলা করা উচিত নয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

এই ধরনের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আবেদন করেও বেশির ভাগ পরীক্ষার্থী শেষ পর্যন্ত অংশ না নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ বিনা পয়সায় আবেদন করার সুযোগ পেয়ে অনেকেই প্রবেশপত্র সংগ্রহ করেনি। অনেকে আবার প্রবেশপত্র সংগ্রহ করলেও পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। পরীক্ষায় উপস্থিতির হারও খুবই কম।

বিনা পয়সায় পরীক্ষা দেওয়ার এমন সুযোগ দিয়েছিলেন ড. আতিউর রহমান। বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা তখন ভেবেছিলাম যে, সদ্য পাশ করা মধ্য বা নিম্মবিত্ত পরিবারের একটি সন্তান চাকরিতে আবেদন করার মত টাকা কোথায় পাবে? তাই তারা যেন বিনামূল্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরির আবেদন করতে পারে সেই ব্যবস্থা আমরা করেছিলাম। কিন্তু অনেকে নাকি আবেদন করেও প্রবেশপত্র তুলছেন না বা প্রবেশপত্র তুলেও পরীক্ষা দিচ্ছেন না। তাদেরকে বলতে চাই, এ সুযোগ হেলা করা উচিত নয়।’

ড. আতিউর রহমান গভর্নর থাকাকালে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে রাষ্টায়ত্ত ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগের জন্য ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি (বিএসসি) গঠন করা হয়। একইসঙ্গে আবেদনকারীদেরকে বিনামূল্যে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিএসসির মাধ্যমেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে আবেদন, প্রবেশপত্র বিতরণসহ ব্যাংকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার যাবতীয় কর্মকাণ্ড চলে আসছে।

সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত ৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ পেতে আবেদন করেও সময়মত প্রবেশপত্র ডাউনলোড না করায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না লক্ষাধিক আবেদনকারী। আগামী ১২ জানুয়ারি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৬১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এ প্রতিষ্ঠানগুলোর দেড় হাজারেরও বেশি পদের বিপরীতে আবেদন করেন প্রায় সোয়া তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী। কিন্তু এই আবেদনকারীদের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করেননি এক লাখেরও বেশি আবেদনকারী।

বিএসসির সদস্য সচিব মোশারফ হোসেন খান বলেছেন: বিনামূল্যে আবেদনের সুযোগ পাওয়ায় অনেকে আবেদন করেও পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে না। বিগত পরীক্ষাগুলোতে উপস্থিতির সর্বোচ্চ হার ছিল ৩৮ শতাংশ।

তিনি বলেন: এই পরীক্ষা গ্রহণের জন্য আমরা কোন টাকা নিচ্ছি না। কিন্তু পরীক্ষাগুলো আয়োজন করতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। অথচ পরীক্ষাগুলোতে উপস্থিতি হতাশাজনক।

এক্ষেত্রে আবেদন করেও পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া রোধে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

তার মতে, যারা আবেদন করেও প্রবেশপত্র সংগ্রহ করেন না বা প্রবেশপত্র সংগ্রহ করেও পরীক্ষায় অংশ নেন না উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদেরকে চিহ্নিত করা যেতে পারে। এ ধরনের প্রার্থীরা পরবর্তীতে আবেদন করতে চাইলে তাদেরকে সতর্ক করা যাবে, আপনি আগে আবেদন করেও পরীক্ষায় অংশ নেননি। এ ধরনের প্রার্থীদের দুইবারের বেশি সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

তবে কেবল বিনা পয়সায় আবেদন করা যায় বলেই আবেদন না করে প্রকৃত অর্থেই যারা ব্যাংকার হতে চান তারা ছাড়া অন্যদের আবেদন করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর বলেন: বিনামূল্যে আবেদন করা যায় বলেই সবাইকে আবেদন করতে হবে এমন কোন কথা নেই। যারা প্রকৃত অর্থেই ব্যাংকার হতে চায় তাদেরই আবেদন করা উচিত। চাকরি করার ইচ্ছা না থাকলে আবেদন করা উচিত নয়।