২১, এপ্রিল, ২০১৮, শনিবার | | ৫ শা'বান ১৪৩৯

৭ বছরেই ‘বিস্ময় বালক’ এক খুদে ক্রিকেটারের সন্ধান!

আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:৩৫ এএম

৭ বছরেই ‘বিস্ময় বালক’ এক খুদে ক্রিকেটারের সন্ধান!
ইশতিয়াক আহমেদ জিসানের নাম বাংলাদেশের ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে।  গাইবান্ধার তৃতীয় বিভাগের ক্রিকেটে ৭ বছরের এই ছেলের অভিষেক ঘটে।  তার পর থেকেই তাকে ‘বিস্ময় বালক’ বলা হচ্ছে। 




স্থানীয় ক্লাব অঞ্জলি স্মৃতি সংসদের হয়ে খেলেছে জিসান।  জিসানের দল ৬ উইকেটে হারিয়েছে সানরাইজ স্পোর্টিং ক্লাবকে।  যদিও ব্যাট হাতে নামতে হয়নি তাকে।  বল হাতে ৪ ওভারে সে রান দিয়েছে ২৩।  উইকেট মেলেনি।  উইকেট না পেলেও এই বয়সে বড়দের সঙ্গে খেলাটা সবাইকে অবাক করে দিয়েছে।  এত
কম বয়সে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে বাংলাদেশের আর কারও অভিষেক ঘটেছে কি না, তা মনে পড়ে না।    




জিসানের বয়স যখন দুই, সেই সময় থেকেই ক্রিকেট তাকে আকর্ষণ করে।  যে বয়সে ছোটরা টেলিভিশনে কার্টুন দেখে সময় কাটায়, সেখানে জিসান ক্রিকেট দেখে সময় কাটাত।  বয়স যত বাড়তে থাকে, ততই ক্রিকেটের নেশা তাকে গ্রাস করতে শুরু করে।  বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা বাবা জিল্লুর রহমান রতন ও মা ইয়াসমিন আক্তার বিথি ছেলের আগ্রহ বুঝতে পারেন।  ছেলের ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ দেখে মা-বাবা জিসানকে ভর্তি করান ক্রিকেট কোচিং স্কুলে।  ক্রিকেটের পাঠ চলতে থাকে স্থানীয় কোচ খান মোহাম্মদ বাবলুর কাছে।  এম এইচ লাইফ প্রিপেটরি অ্যাকাডেমিতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে জিসান। 

 

একরত্তি ছেলেকে কেন বড়দের ক্রিকেটে নামিয়ে দিলেন?  জানতে চাইলে বাবা জিল্লুর রহমান বলেন, ‘‘ দু’ বছর বয়স থেকে ওর ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ দেখে আমরা অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।  টেলিভিশনে ক্রিকেট ছাড়া অন্য কিছু দেখতেই চাইত না।  বাধ্য হয়েই আরেকটা টেলিভিশন কিনেছি শুধু ওর জন্য। ’’




অনুশীলনে জিসানের সবসময়ের সঙ্গী মা ইয়াসমিন আক্তার।  তিনি এক সময়ে বগুড়ায় হ্যান্ডবল খেলেছেন।  সামাজিক কারণে খুব বেশি দূর তিনি এগোতে পারেননি।  ছেলেকে ক্রিকেটার বানিয়ে সেই আক্ষেপ ঘোচাতে চান জিসানের মা।  তিনি বলেন, ‘‘আমি হ্যান্ডবল খেলতাম।  সামাজিক বিধিনিষেধের কারণে ভাল কিছু করতে পারিনি।  আমি চাই ছেলে আমার অপূর্ণতা ঘোচাক। ’’




জিসানকে দু’ বছর থেকেই চেনেন কোচ বাবলু।  জিসানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন কোচ।  তিনি বলেন, ‘‘জিসানকে নিয়ে আমি বড় স্বপ্ন দেখি।  আমার মনে হয়, ঠিকঠাক এগোলে জিসান একদিন বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। ’’