২০, জানুয়ারী, ২০১৮, শনিবার | | ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

কুমিল্লা মুরাদনগরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নারীকে ধর্ষণ

আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:৩০ এএম

কুমিল্লা মুরাদনগরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নারীকে ধর্ষণ

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণের শিকার স্বামী পরিত্যক্তা লাকী আক্তার (২৫) স্ত্রীর স্বীকৃতি চাইতে গিয়ে প্রেমিকের বাড়ির লোকজনের হাতে নির্মম নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গেলে তাকে চুলের মুঠি ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিলঘুষি ও লাথি মেরে ব্যাপক নির্যাতন করে। বুধবার (১১ অক্টোবর) রাতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন বাঙ্গরা গ্রামের ইউপি সদস্য শেখ মনির হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনার দুই

মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে মামলা নিচ্ছে না বলে জানা গেছে। ফলে পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


জানা যায়, বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টায় শেখ মনির মেম্বার লাকী আক্তারকে ফোনে বাঙ্গরা থানার ২শ গজ অদুরে তুফান মাস্টারের বাড়ির পাশে কলাবাগানে আসতে বলে। তার কথামত আসলে শেখ মনির মেম্বার তাকে ওই সময়েও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করার চেষ্টা করে। তখন লাকী আক্তার স্ত্রীর স্বীকৃতি চাইলে ক্ষীপ্ত হয়ে শেখ মনির মেম্বার তাকে মারধর শুরু করে। এ সময় তার শোর চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসলে শেখ মনির মেম্বার তার পরিধেয় পাঞ্জাবী ও পায়ের জুতা ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।


পরবর্তীতে এলাকাবাসী লাকী আক্তারকে উদ্ধার করে শেখ মনিরের বাড়িতে নিলে মেম্বারের ভাগিনা রাসেল মিয়া তাকে আবারো মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। ওইদিন রাতেই তাৎক্ষনিক স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিসহ নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় গেলে অভিযোগ না নিয়ে উল্টো তাকে শাসিয়ে থানা থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী লাকী আক্তার। সে একই গ্রামের মৃত রহিম মিয়ার মেয়ে। মীম নামে তার ৬ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে।


নির্যাতনের শিকার লাকী আক্তার কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, বাঙ্গরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেখ মনির হোসেন প্রথম স্ত্রীসহ পরিবারের কাউকে না জানিয়ে চট্টগ্রাম নিয়ে মাজারকে স্বাক্ষী রেখে বিয়ে করার ফাঁদে ফেলে একত্রে বসবাস শুরু করে। পরে তাকে মুরাদনগর ও বাঙ্গরাসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া করে রাখে।

উক্ত ঘটনায় অভিযুক্ত শেখ মনির হোসেন মেম্বার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমার প্রতিপক্ষরা আমাকে পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসানোর জন্য ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজিয়েছে।


বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, অভিযোগকারী ব্ল্যাকমেইলিং করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে অভিযোগ সৃষ্টি করে থানায় এসেছেন, এ ব্যাপারে আমি শতভাগ নিশ্চিত। তারপরও বাদীকে বলে স্বাক্ষী নিয়ে আসার জন্য, যদি প্রাথমিক তদন্তে ঘটনা প্রমানীত হয়, তাহলে ওই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, শেখ মনির মেম্বার এর আগেও এ রকম একাধিক ঘটনায় ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে। এ সমস্ত কর্মকান্ড গোপন করে লাকী আক্তারের সাথে সম্পর্ক করেছিল শেখ মনির মেম্বার।