২৬, এপ্রিল, ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ১০ শা'বান ১৪৩৯

খালেদার কী বার্তা নিয়ে লন্ডনে গেলেন সিঁথি

আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০৯:৫২ এএম

খালেদার কী বার্তা নিয়ে লন্ডনে গেলেন সিঁথি
বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি লন্ডন ফিরে গেছেন।  তার সঙ্গে ছিলেন দুই কন্যা জাফিয়া রহমান এবং জাকিয়া রহমান। 

বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সূত্রে, গতকাল রোববার সকাল ৮টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেন। কারাগারে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর গত ২৯ মার্চ লন্ডন থেকে দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দেশে আসেন শার্মিলা
রহমান।  দেশে আসার পরদিনই কারাগারে গিয়ে শাশুড়ির সাথে দেখা করেন।  দেশে এসে যে ১৮ দিন অবস্থান করেন তারমধ্যে মোট পাঁচবার তিনি তার শাশুড়ি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন।  এর মধ্যে চারবার দেখা হয় কারাগারে আর একবার দেখা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে।  সব মিলিয়ে কারাভোগরত খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রায় ১০ ঘণ্টা কাটিয়েছেন তিনি। 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারান্তরীণ রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।  বড় ছেলে তারেক রহমানও কয়েকটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে সপরিবারে লন্ডনে অবস্থান করছেন।  খালেদার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও দুই মেয়েও লন্ডনেই থাকছেন।  লন্ডনে ফিরে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা হবে শর্মিলার।  শর্মিলার ফিরে যাওয়াতে বিএনপিতে গতকাল দিনভরই আলোচনায় ছিল- বড় ছেলের কাছে কী বার্তা পাঠিয়েছেন খালেদা জিয়া। 


শর্মিলা দেশে আসার পর কিছু গণমাধ্যমের খবরের পাশাপাশি গুঞ্জন ছিল ছোট পুত্রবধূর সঙ্গে খালেদা জিয়া লন্ডন চলে যেতে পারেন।  শর্মিলা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে সরিয়ে দায়িত্ব নিতে এসেছেন বলেও এক পর্যায়ে খবর রটে।  তবে বিএনপি সূত্র তখন দু’টি বিষয়ই সরাসরি নাকচ করে দেয়। সর্বশেষ গত শনিবার পয়লা বৈশাখের দিন শর্মিলা দুই কন্যাসহ খালেদা জিয়ার সঙ্গে শেষবার দেখা করেন।  দেশে অবস্থানের সময় তিনি কোনো বিএনপি নেতাকর্মীর সঙ্গে দেখা করেননি। তবে খালেদা জিয়ার কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করেন শর্মিলা।  শর্মিলা আইনজীবীদের বলেন-আমি রাজনীতি করি না।  তিনি (খালেদা) আমার শাশুড়ি হলেও আপনাদের মা।  আমি অনুরোধ করি, উনার মামলাগুলোতে আরো মনোযোগী হোন এবং কাজে সমন্বয় আনুন। 

শর্মিলা কোনো বিশেষ বার্তা নিয়ে গেছেন কিনা সে বিষয়ে বিএনপির দায়িত্বশীল কোনো নেতা সরাসরি কথা বলতে চাননি।  তবে শর্মিলার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় দেখা হয়েছে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের। প্রসঙ্গত, ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আক্তারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।  একই আদালত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির সবাইকে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।  এ অর্থদণ্ডের টাকা প্রত্যেককে সমান অঙ্কে প্রদান করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।  রায়ের পর থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া।