২৬, এপ্রিল, ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ১০ শা'বান ১৪৩৯

‘খুব বিপদে পরেছি ভাইয়া, আমাকে ২০০ বা ১০০ টাকা বিকাশ করুন’

আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০৬:০২ পিএম

‘খুব বিপদে পরেছি ভাইয়া, আমাকে ২০০ বা ১০০ টাকা বিকাশ করুন’
খাইরুলের এই চাকুরিটার বয়স প্রায় ৩ বছর হতে চলল।  একদিন সকালে অফিস করছে, এমন সময় একটি মেসেজ আসল মোবাইলে।  মেসেজ দেখে চক্ষু চরক গাছ।  খালাতো বোন সীমা একটা ম্যাসেজ পাঠিয়েছে।  ‘খুব বিপদে পরেছি ভাইয়া, আমাকে ২০০ বা ১০০ টাকা বিকাশ করুন’। 

২০০ বা ১০০ টাকা বিকাশ করতে বলছে।  এমনকি তিনি যে যায়গায় আছে সেখান থেকে কথাও বলতে সমস্যা।  সীমার জন্য খাইরুলের টান সেই ছোট বেলা থেকেই।  যদিও কখনও মুখ ফুটে বলেনি।  তাই সহজ সরল মনে ২০০ টাকা বিকাশ করে দিল।  সামান্য টাকাইতো
তাই আর কোন প্রশ্ন করতে গেলনা খাইরুল। 


এর প্রায় ১ সপ্তাহ পর।  আবারও একই নম্বর থেকে সেই একই মেসেজ।  খাইরুল এবার বিষয়টাকে সহজভাবে নিতে পারল না।  গতবার টাকা দেয়ার পর আর কথাও হয়নি সীমার সাথে।  এবার সাথে সাথে যে নম্বর থেকে মেসেজ আসলো কয়েকবার ফোন দিল।  ওপাস থেকে ধরলোনা কেউ।  পরে বাধ্য হয়ে মোবাইলে সেইভ করে রাখা সীমার পুরানো নম্বরে ফোন দিল। 


কিরে সীমা তুই কোথায়?


আমিতো ভাইয়া বাসায়।  ক্লাসে যাব।  তৈরী হচ্ছি। 

এই নম্বরটি (যেটা থেকে মেসেজ আসছিল) তোর?


নাতো ভাইয়া।  কেন?

না এমনি। 

খাইরুল সীমাকে বুঝতে দিল না ঘটনা কি? পরে নম্বরটি গুগলে এবং ফেইসবুকে সার্চ দিয়ে মাথায় হাত।  টাকার অংকটা কম হলেও সে যে আবেগে একটা ছোট প্রতারণার শিকার হয়েছে তা আর বুঝতে বাকি রইলো না।  সে জন্য নিজেকে খুব বোকা বোকা মনে হলো। 


উপরের গল্পটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা হয়েছে।  এটা একটা গল্প হলেও এরকম ঘটনা অহরহ ঘটছে।  নতুন এই এসএমএস ফাঁদে পা দিচ্ছে অনেকেই।  তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, গ্রামীনফোনের ০১৭৪৭৮৬৪৬০১ নম্বর থেকে প্রায়সই বিভিন্ন গ্রাহকদের মেসেজ দিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র।  কখনও ১০০, কখনও ২০০ টাকা বিকাশে চাচ্ছে।  টাকা পরিমাণ কম বলে কেউ কোন অভিযোগও সেভাবে করছেন না। 


তবে গ্রাহকদের নম্বরগুলো কিভাবে নামসহ পায় প্রতারক চক্র।  তা অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, যারা মূলত অনলাইনের বিভিন্ন ক্ল্যাসিফাইট ওয়েব সাইটে বিজ্ঞাপণ দেন তাদের বিজ্ঞাপণগুলো থেকেই পেয়ে থাকে ফোন নাম্বরও নাম।  যেমন খাইরুল নিজের মোটরসাইকেল বিক্রির বিজ্ঞাপণ দিয়েছিল বিক্রয় ডটকমে। 


প্রতারক চক্র বিভিন্ন ক্ল্যাসিফাইট সাইট হতে নাম এবং নম্বর সংগ্রহ করে এভাব প্রতারণার ফাঁদে ফেলে খাইরুলের মতো অনেককে।  এছাড়া বিভিন্ন বিক্রয় সংস্থা, যেমন জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি ইত্যাদির প্রচারের জন্যও এইসব সাইটের বিজ্ঞাপণ থেকে নাম নম্বর সংগ্রহ করে নানা রকম অফারের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে প্রতারক চক্র। 


এ বিষয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ জানান, এসব বিষয়ে অভিযোগ আসলে আমরা খতিয়ে দেখবো।  তবে প্রযুক্তিগত অপরাধীদের আমরা অনেক ভাবেই ধরার চেষ্টা করছি।  অনলাইন ভিত্তিক অপরাধগুলো ধরার জন্য র‌্যাবের একটি বিশেষ টিম সব সময় সক্রিয় রয়েছে। 


প্রযুক্তিবিদ জাকারিয়া স্বপন জানান, এসব বিষয়ে নিজেকে সব সময় সচেতন থাকতে হবে।  দেশে প্রযুক্তি রয়েছে তার সঠিক ব্যবহারও হচ্ছে।  তবে কিছু লোক প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে কিন্তু আমরা সচেতন থাকলে সেই সমস্ত লোকগুলো এই সুযোগটা পাবে না। তাই আমাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।  কেউ ১০০ বা ২০০ টাকা চাইলো আর তাকে দিয়ে দিলাম এটাতো ঠিক নয়।  প্রথমে তথ্যটা যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবে।  এরপরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।  আর এসব অপরাধীদের ধরতে বাংলাদেশের প্রশাসন কাজ করছে।  প্রয়োজনে তাদেরকে অবহিত করতে হবে।