২৬, এপ্রিল, ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ১০ শা'বান ১৪৩৯

গভীর রাতে ঢাবির সুফিয়া কামাল হলে উত্তেজনা

আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০১৮, ০২:৩০ এএম

গভীর রাতে ঢাবির সুফিয়া কামাল হলে উত্তেজনা
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগ নেত্রীর নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে উত্তেজনা চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলে। 

মঙ্গলবার মধ্য রাতে কয়েকশ’ ছাত্রী ওই হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশার কক্ষে তাকে অবরুদ্ধ করেছে।  বাইরে থেকে ছাত্রীদের স্লোগান শোনা যাচ্ছে। 

খবর পেয়ে প্রাধ্যক্ষ সাবিকা রেজওয়ানা ইসলাম হলে ঢুকেছেন।  রাত পৌনে ১টার দিকে প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানীও ওই হলে গেছেন। 

হলের
শিক্ষার্থীরা জানান, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছেন ছাত্রলীগ নেত্রী এশা। 

তারা বলেন, সোমবার রাতে তিন শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে তাদের উপর নির্যাতন চালিয়েছিলেন এশা।  তারা ঘটনাটি চেপে গিয়েছিলেন।  মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে মোর্শেদা আক্তার নামে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের এক শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন চালানোর পর ঘটনাটি প্রকাশ পেলে অন্য শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। 

এশা এখন তার কক্ষে অবরুদ্ধ বলে হলের শিক্ষার্থীরা জানান।  তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি তুলেছে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা। 

এই বিষয়ে এশা কিংবা হলটির কোনো ছাত্রলীগ  কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। 

ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত জাহান এশা (ছবি: ফেইসবুক) ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত জাহান এশা (ছবি: ফেইসবুক) নির্যাতিত শিক্ষার্থীর এই ছবি ছড়িয়ে পড়েছে ফেইসবুকে নির্যাতিত শিক্ষার্থীর এই ছবি ছড়িয়ে পড়েছে ফেইসবুকে

মোর্শেদার ব্যান্ডেজ বাঁধা রক্তাক্ত পায়ের ছবি ইতোমধ্যে হলের বিভিন্ন ছাত্রী তাদের ফেইসবুকে তুলেছেন। 

কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে গত রোববার রাতে ফটক খুলে বাইরে বিক্ষোভে নেমে এসেছিলেন সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রীরা। 

সেই হলে নির্যাতনের খবর শুনে বিভিন্ন ছাত্র হল থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে সুফিয়া কামাল হলের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান শুরু করেছে।  ছাত্রী হলগুলোর ভেতরেও শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। 

রোববার রাতে আন্দোলনকারীদের পুলিশ শাহবাগ থেকে হটিয়ে দেওয়ার পর ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী তাদের উপর চড়াও হয়েছিলেন। 




মঙ্গলবার ছাত্রলীগের এক সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, যতদিন আন্দোলনকারীরা ‘শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি’ ছিল, ততদিন ছাত্রলীগ তাদের বাধা দেয়নি। 




ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এই আন্দোলনে ষড়যন্ত্র দেখলেও নিচের সারির নেতাদের অনেক আন্দোলনের আছেন।  নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে কয়েকজন পদত্যাগও করেছেন।