১৮, জানুয়ারী, ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

৫৪ বছরে বাংলাদেশ টেলিভিশন

আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:১৩ পিএম

 ৫৪ বছরে বাংলাদেশ টেলিভিশন


প্রতিষ্ঠার ৫৩ বছর পেরিয়ে গৌরবময় ৫৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে জাতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন।

২৪ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেক কেটে শুরু হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিটিভির মহাপরিচালক এসএম হারুন অর রশিদ,

উপ-মহাপরিচালক (অনুষ্ঠান) সুরথ কুমার সরকার’সহ আরো অনেকে।

বিটিভির মহাপরিচালক এসএম হারুন অর রশিদ বলেন, “আজ খুবই আনন্দের একটি দিন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ৫৩ বছর অতিক্রম করে ৫৪ বছরে পা ফেলেছে। সেই সাথে আমরা যারা টেলিভিশন পরিবারের সদস্য আছি, টেলিভিশনের কর্মকর্তা, সকলস্তরের কর্মী, শিল্পী, শুভানুধ্যায়ী, কলাকুশলী আমাদের কিন্তু দায়িত্বও বেড়ে গেছে।

টেলিভিশনকে বলা হয় বিশশতকের মাধ্যম। আজকে একবিংশ শতকে এসে টেলিভিশন আধুনিক হবার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনও আধুনিক হবার চেষ্টা করছে। আমরা প্রযুক্তির দিক থেকে আধুনিক হবার চেষ্টা করছি, আমরা সৃজনশীলতায়ও উৎকর্ষ সাধনের চেষ্টা করছি।”

আজ সোমবার সকালে ডিসেম্বর ৫৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বিটিভির ‘সোস্যাল মিডিয়া উইং’ বিভাগের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়। উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। সে উদ্বোধন লাইভ স্ট্রিমিং-এর মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে বিটিভির ইউটিউব চ্যানেল।

‘সোসাল মিডিয়া উইং’-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ মাহফুজার রহমান জানান, চলমান অনুষ্ঠানমালার সঙ্গে এ চ্যানেলে থাকবে অতীতের কালজয়ী সব নাটক, গান, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান। এগুলোর অনেক কিছু ইউটিউবে বিচ্ছিন্নভাবে পাওয়া গেলেও এখানে থাকবে অনুষ্ঠানগুলোর মূল কপি।

প্রাথমিকভাবে চ্যানেলে যোগ হয়েছে নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘বহুব্রীহি’, ‘সংশপ্তক’, ‘এইসব দিন রাত্রি’, ‘ঢাকায় থাকি’, ‘আজ রবিবার’সহ তুমুল জনপ্রিয় আরো সব অনুষ্ঠান ।

যে অনুষ্ঠানগুলো শুধু বিটিভির আর্কাইভেই আছে সেগুলোও থাকবে এখানে। থাকবে বর্তমান সময়ের উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানও।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেক কাটা শেষে গান পরিবেশন করেন ফরিদা পারভীন, সুবীর নন্দী, ফেরদৌস ওয়াহিদ, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, কিরণ চন্দ্র রায়, চন্দনা মজুমদার, শাহনাজ বেলী, অপু, স্মরণ, ঐশী, সুস্মিতা’সহ আরো অনেকে।

১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর পাকিস্তান টেলিভিশন নামে ঢাকার ডিআইটি ভবনে জাপানের এনইসি করপোরেশন সহায়তায় বিটিভি যাত্রা শুরু করে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।

এর আগে ১৯৬৭ সালে টেলিভিশন করপোরেশন ও স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন’ একটি সরকারি গণমাধ্যমে রূপান্তরিত হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে আধুনিক প্রযুক্তি সংযুক্ত করে ১৯৭৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ডিআইটির ক্ষুদ্র পরিসর থেকে রামপুরার বৃহত্তর পরিমণ্ডলে স্থানান্তর করা হয় কেন্দ্রটি।

প্রথম দিকে সাদা-কালো সম্প্রচার দিয়ে হলেও ১৯৮০ সালে রঙিন সম্প্রচারে আসে বিটিভি।