২১, এপ্রিল, ২০১৮, শনিবার | | ৫ শা'বান ১৪৩৯

একেই বলে ক্রিকেট খেলা

আপডেট: ২০ মার্চ ২০১৮, ১০:১৫ পিএম

একেই বলে ক্রিকেট খেলা
গত কয়েকদিনে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় খবর বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ।  আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ম্যাচের পর বাংলাদেশের ‘ঘোরতর শত্রু’ এখন লঙ্কানরা।  শ্রীলঙ্কার বেলাতেও বিষয়টি একই।  নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে দর্শকদের ভারত-প্রীতিতেই তা স্পষ্ট।  তবে এই ‘শত্রুতা’ সম্ভবত সাধারণ দর্শকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।  খেলোয়াড়দের মধ্যে তার প্রভাব কই? চার দিন আগে যাদের বিপক্ষে হেরে ঘরের মাঠে ফাইনাল খেলা হয়নি, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে হাতাহাতি হওয়ার জোগাড়, সেই দলের
খেলোয়াড়ের সঙ্গেই থিসারা পেরেরা মাঠে নেমেছেন সতীর্থ হয়ে। 



পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) মাহমুদউল্লাহ ও পেরেরা- দুজনেরই দল কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস।  নিদাহাস ট্রফিতে খেলতে পিএসএল ছেড়েছিলেন তারা, ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট শেষে আবার পিএসএলে যোগ দিয়েছেন দুজন।  আর এখানেই ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য।  ‘মাঠেই লড়াই শেষ’- খেলোয়াড়রা যে বাণীটি সবসময় দিয়ে থাকেন, সেটার বড় প্রমাণ পাওয়া গেল মাহমুদউল্লাহ-পেরেরার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে তোলা হাসি মুখের ছবিতে। 

নিদাহাস ট্রফির অঘোষিত সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ পায় ২ উইকেটের নাটকীয় জয়।  মাহমুদউল্লাহর ছক্কাতেই স্বপ্নভঙ্গ হয় লঙ্কানদের।  ওই ছক্কার আগে ও পরে উত্তেজনাকর ম্যাচ বলতে যা বোঝায়, তার সবটাই উপস্থিত ছিল আর প্রেমাদাসায়।  কুশল পেরেরার সঙ্গে নুরুল হাসানের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে খেলাই বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়!



শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শুরু হওয়ার প্রথম বলেই ছক্কা মেরে বাংলাদেশকে ফাইনালে তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ।  ম্যাচ শেষে বিজয় উল্লাসের সঙ্গে চলে নুরুল-কুশলের কথার লড়াই।  এক পর্যায়ে পেরেরোর সঙ্গেও বাদানুবাদে জড়ান নুরুল।  মাঠের ভেতর খেলোয়াড়দের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর আবার পাওয়া যায় বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমের ভাঙা দরজার কাচ।  সব ঘটনা মিলিয়ে ফাইনালে ভারত পায় দ্বিগুণ সমর্থন।  আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দেওয়া ও বিতর্কিত পরিস্থিতিতে স্বাগতিকরা মাঠে এসেছিল ভারতকে সমর্থন দিতে।