২১, এপ্রিল, ২০১৮, শনিবার | | ৫ শা'বান ১৪৩৯

লাথি মেরে তোর হার্টের রিং খুলে ফেলবো : সাংবাদিককে বললেন ওসি

আপডেট: ২০ মার্চ ২০১৮, ০৭:৫৫ পিএম

লাথি মেরে তোর হার্টের রিং খুলে ফেলবো : সাংবাদিককে বললেন ওসি
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ফারুকের অশালীন আচরণে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে কোটালীপাড়ার এক সাংবাদিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।  

গত ১৭ মার্চ ইয়াবাসহ কয়েকজন আসামীকে গ্রেফতার করে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ।  এ ব্যাপারে সাংবাদিক মিজানুর রহমান বুলু তার ফেসবুক আইডি থেকে স্ট্যাটাস দেন।  তিনি লেখেন, কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল ফারুক যোগদান করে মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন, প্রতিদিনই
মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করছেন, গত শুক্রবার ২৭০ পিচ ইয়াবাসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছেন।  


উক্ত স্ট্যাটাসের উপর সাংবাদিক প্রমথ রঞ্জন সরকার মন্তব্য করেন, শুধু মাদক সেবন ব্যাক্তিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, মাদক আমদানীকারীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না, ইদানিং প্রত্র-পত্রিকায় দেখা যায় মাদক ব্যবসার সাথে পুলিশ সদস্যরাও জড়িত থাকে।  


এ মন্তব্য করায় ভাঙ্গারহাট নৌ-তদন্ত কেন্দ্রের এস আই আলী আকবর মাতব্বর কোটালীপাড়া থানার ওসির নির্দেশে প্রমথ রঞ্জন সরকারকে ভাঙ্গারহাট ফাড়িতে ডেকে আনেন এবং তার কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেয়।  এ ঘটনার পর ফাড়িতে থাকা অবস্থায় রাতে কোটালীপাড়া থানার এ এস আই রবিন মজুমদার ও এ এস আই মনির ভাঙ্গারহাট প্রমথ রঞ্জন সরকারকে বলেন- ওসি স্যার আপনাকে থানায় যেতে বলেছেন।  তিনি অসুস্থ্যতার কথা জানালে এ এস আই রবিন মজুমদার ওসির সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেন।  পরে ফোনটি সাংবাদিক প্রমথ রঞ্জন সরকারকে দিয়ে বলেন- ওসি স্যারের সাথে কলা বলেন।  প্রমথ রঞ্জন সরকার মোবাইল ফোনে কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে অফিসার ইনচার্জ কামরুল ফারুক অশালীন ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। মা-বাবা-জাতি তুলে গালাগাল দিয়ে থানায় উপস্থিত হতে বলেন।  ওসিকে সাংবাদিক প্রমথ রঞ্জন জানান, তার হার্টে রিং পরানো হয়েছে এখন যেতে পারবো না সকালে থানায় যাবে।  এতে ওসি কামরুল ফারুক আরও ক্ষিপ্ত হয়ে নোংরা ভাষায় গালি দিয়ে বলেন- লাথি মেরে তোর হার্টের রিং বের করে ফেলবো।  

এ ঘটনার পর সাংবাদিক প্রমথ রঞ্জন সরকার গত ১৯ মার্চ ওসি কামরুল ফারুকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার গোপালগঞ্জ বরাবরে দায়ের করেন।  এসময় কোটালীপাড়া ও গোপালগঞ্জের ১৪/১৫ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।  


এ ব্যাপারে সাংবাদিক প্রমথ রঞ্জন সরকার বলেন- ওসি কামরুল ফারুকের আচরণে আমার মান-সম্মানে প্রচন্ডভাবে আঘাত হেনেছে।