২১, এপ্রিল, ২০১৮, শনিবার | | ৫ শা'বান ১৪৩৯

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৮, ০৩:০০ পিএম

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ
লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলাধীন বুড়িমারী হাসরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।  পাটগ্রাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি/সম্পাদক সহ বিভিন্ন দপ্তর বরাবর দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে বিভিন্ন সময় একেকজন সভাপতি ৪/৫ জন করে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে চলে গেছেন।  সরকারি বিধি-বিধান তোয়াক্কা না করে শাখা বাবা নামে এক শিক্ষক নিজে নিজে জেলা থেকে ডিজি পর্যায় পর্যন্ত কর্মকর্তা সেজে সীল
স্বাক্ষর করেন।  রংপুরে বসে থেকে মাঝেমধ্যেই বিদ্যালয়ের নামে চিঠিপত্র ইস্যু করেন।  নিয়োগকৃত শাখা শিক্ষকদের বেতন বিল দেয়া হবে মর্মে শিক্ষকদের সেই চিঠি দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করেন।  এছাড়াও ২/৩ শিক্ষক ভুয়া নিবন্ধনে নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানাগেছে।  বর্তমানে বিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জর্জরিত।  বিদ্যালয়টিতে ১৮টি শাখার মধ্যে প্রথম অনুমোদন ’খ’ ৪টি সহ সর্বশেষ অনুমোদন ‘গ’ শাখা ২টি বৈধ হলেও মাঝখানে ১২টি শাখা অনুমোদনের নামে কারচুপি ও জালিয়াতি করা হয়েছে।  অবৈধভাবে ভূঁয়া শাখায় ভূঁয়া শুন্য পদে নিয়োগকৃত প্রায় হাফ ডজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেয়।  তারা তাদের দেয়া টাকা দাবী করে।  প্রধান শিক্ষক সহ সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কমিটি বিভিন্ন সময়ে টালবাহানা করে আসছে।  প্রায় সাড়ে ১১’শ শিক্ষার্থীর পাঠদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ায় ওসব পদে খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে কোনমতে পাঠদান পরিচালনা করা হচ্ছে।  এতে মানসম্মত শিক্ষা অর্জন হচ্ছে না বলে এলাকার সচেতন মহল ও অভিভাবকগণ দাবী করেন। 

এদিকে, ২০১৩ সালের আগে ও পর হাফ ডজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় সদস্য।  ১৯৯৩ সালে বুড়িমারী হাসরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথম শাখা অনুমোদন হয়।  ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত ৪টি ‘খ’ শাখা অনুমোদনের পর ওইসময় শাখা শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়।  বর্তমান প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম খন্দকার নিজেও ওই সময়ের শাখা শিক্ষক।  কাগজে-কলমে তিনি শাখা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলেও ১৯৯৮ সালে তার নিয়োগ কার্যকর হয়।  তার বিদ্যালয়ে এমন একজন শিক্ষক রয়েছেন যিনি শাখা বাবা নামে পরিচিত।  শাখা বাবা দিনের পর দিন এমন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন যে, বুড়িমারী হাসর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে একের পর এক ভূঁয়া শাখা চালু করে ভূঁয়া শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য করা হয়।  কখনও কখনও শাখা অনুমোদন না নিয়েই শাখা শিক্ষক পদকে শুন্য পদ দেখিয়ে জাতীয় আঞ্চলিক পত্রিকায় একাধিক বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়।  নিয়োগের নামে বিদ্যালয়টিকে একটি ঘুষ-বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত করা হয়।  এসব শিক্ষকের কাছ থেকে ৫/৭ লাখ টাকা হিসেবে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে ভূক্তভগীরা শিকার করে।  নিয়োগকৃত শিক্ষকদের মধ্যে অনেকে বেতন বিল না পেয়ে হতাশায় চাকুরী কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকেন।  এ সুযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শাখা বাবা ফন্দি-ফিকির করে একই বিষয়ে একাধিকবার নিয়োগ দেন।  গণিত বিষয়ে নিয়োগ প্রাপ্ত অনুপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে বর্তমানে মিজানুর রহমান ও আনিছুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।  রংপুরের সুজন কুমার, পাটগ্রামের জি,এম আখতারুজ্জামান ফিরোজ, মশিয়ার রহমান, নিশাত বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত।  নিয়োগের সময় একেক জনের কাছে ৫/৭ লাখ টাকা নেয়ার কারণে প্রধান শিক্ষকের কাছে সহকারী শিক্ষকরা যখন তখন পাওনা টাকা চেয়ে বসে।  টাকার কারণে কয়েকবার বিদ্যালয় অফিসে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। 


১৪ই মার্চ রাত ১০:৩২ মিনিটে প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম খন্দকারের মোবাইল ফোনে এ ব্যাপারে সাংবাদিকের কথা হলে তিনি প্রথমে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।  পরে তিনি বলেন, নিয়োগের সময় কে কাকে কত টাকা দিয়েছে তা জানা নেই।  দীর্ঘদিন ধরে শাখা শিক্ষকেরা অনুপস্থিত থাকায় পাঠদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে।  এ কারণে খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।  নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে প্রধান শিক্ষক এড়িয়ে যেতে পারেন না এমন প্রশ্ন করলে তিনি সাক্ষাতে কথা বলতে চান।  যেসব


শিক্ষক নিয়োগের সময় টাকা দিয়েছেন,কিন্তু প্রধান শিক্ষকের কাছে একাধিকবার টাকা ফেরত চাইলে তিনি টালবাহানা করেন।  যার ফলে শিক্ষকরা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও আজ অবধি তিনি কোন নোটিশ বা সোকচ করেননি।  ভূঁঁয়া শাখায় ভূঁয়া শুন্য পদে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকরা অনুপস্থিত।  বিদ্যালয়টিতে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত কল্পে শিক্ষক সমস্যার অবসান হোক এ দাবী এলাকাবাসীর। 


এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সভাপতি মো: রেজাউল করিম রুমেল এর ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।