২০, এপ্রিল, ২০১৮, শুক্রবার | | ৪ শা'বান ১৪৩৯

কর্মীব্যবস্থাপনা

আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৯:২৩ পিএম

কর্মীব্যবস্থাপনা
আব্দুল বাতেন রাফি

কর্র্মী ব্যবস্থাপনার ইতিহাস খুজঁলে দেখা যাবে যে, যখন থেকে আনুষ্ঠানিক সংগঠন সৃষ্টি হয়েছে,তখন থেকেই এ ব্যবস্থাপনার সূচনা।  তবে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, বিশেষ করেশিল্প-বিপ্লবএর পর থেকেই ব্যবস্থাপনার একটি বিশেষ শাখা হিসাবে কর্মীব্যবস্থাপনা স্বীকৃতি লাভ করতে পেরেছে। কর্মীব্যবস্থাপনাসাধারনত দুধরনেরকাজকরে থাকে । একটি হচ্ছে ম্যানেজারিয়াল ও অপরটি হচ্ছে অপারেশনাল।  ম্যানেজারিয়েল কাজেরমধ্যে রয়েছে পরিকল্পনা,সংগঠন,নির্দেশনা
ও নিয়ন্ত্রন।  আর অপারেশনাল কাজের মাধ্যমে কর্মীদের যথোপযুক্তভাবে কর্মে নিয়োগকরা এবং সংগঠনে সুষ্ঠু কর্ম পরিবেশ সৃষ্টি করা।  ব্যবস্থাপনার একটি বিশেষ অংশ হচ্ছে কর্মী ব্যবস্থাপনাযা শুধু সংগঠনের কর্মীদের নিয়ে কাজ।  কর্মী হচ্ছে একটি সংগঠনের প্রান।  যেহেত কর্মীর মন রয়েছে এবং মন বিচার করা বাবুঝা বেশ কঠিন কাজ,তাই বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হয়কর্মীদের মানসিকপ্রবণতা ও আচারব্যবহারের দিকে,যাতে করে কর্মীরা মানবিকভাবে তাদের মনোনীত করতে পারে।  ১৯১০ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত কল-কারখানার মালিকদের মধ্যে শ্রমিকদের সম্পর্কে এক নতুন চিন্তা ধারার সৃষ্টি হয়,যাকে অনেকে মানবতাবোধজনিত দৃষ্টিভঙ্গি বলে চিহ্নিত করেছে। এসময় মনে করা হতো শ্রমিকরা মনে প্রাণে সংগঠনের সাথে একান্ত হতে পারতনা বলেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকত, কাজে অনীহা প্রকাশ করত।   তাই অনেক মিল-কারখানার মালিক শ্রমিকদের দক্ষতার সাথে তার মনেরএকটি যোগসূত্র খুজে পাওয়ার চেষ্টা করে। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময় উন্নত দেশ গুলোতে শিল্প ব্যাপক প্রসার লাভ করে এবং এর ফলে শ্রমিকের অভাব দেখা দেয়।  এ সময় মালিকগন শিল্প কল্যান সমিতি গঠন করে।  কর্মী ব্যবস্থাপনার দর্শন সম্বন্ধে বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় Human Relations Ges Human Resource  এবং | Human Relations  এর কথা।   এ যারা বিশ্বাসী তারা মনে করে যে, কর্মচারীদের উৎপাদনবৃদ্ধি পায়কর্মচারী ও ব্যবস্থাপনারসুষ্ঠুপরিবেশ ও সৌহাদ্যপূর্ন মনোভাবের উপর।  | Human Relations  Human Resource  মূলতকাজেরপ্রতিমনোভাব, কাজে অংশ গ্রহন ও কাজেরধরনএবং নেতৃত্বের গুনাবলীরউপরই গুরুত্ব নিয়ে থাকে।  ১৯১৩ সালে শ্রমিক কল্যান সংগঠন ((Workers Welfare Association) প্রতিষ্ঠিতহয়।  ১৯৪৫ সালে ব্রিটেনের শ্রম নস্ত্রণালয়, যুদ্ধকালীন শ্রম কল্যান অফিসারদের কর্মী ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষভাবে ট্রেনিং দেওয়ারজন্য স্থায়ীভাবে Personal Management Advisory Service গঠনকরে।  পরবর্তীকালে কর্মী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা সার্ভিস রুপান্তরিত হয়। ১৯৬৫ সালেরকারখানাআইনেউল্লেখকরাহয় যে, যেসবকারখানায়বাশিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৫০০ জনের বেশিশ্রমিককাজকরবে সেখানেওয়েলফেয়ারঅফিসাররাখতেহবে।  ১৯৭৯ সালেকারখানাআইনেওয়েলফেয়ারঅফিসারএরকাজেরধরনেরপরিবর্তনকরেশ্রমিকদের কল্যানের সাথে শিল্পসম্পর্কিতসমস্যা, ট্রেনিংএবংকর্মীব্যবস্থাপনারকার্যাদি করারকথাবলাহয়।  ১৯৬৯ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যবস্থাপনাউন্নয়ন কেন্দ্র ০৯ (নয়) মাস ব্যাপী প্রশিক্ষনান্তে কর্মী ব্যবস্থাপনার উপর ডিপ্লোমা দিচ্ছে।  বাংলাদেশে Institute of Personnel Management ১৯৮০ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়।  সংগঠনের সাফল্য নির্ভর করে কর্মরত লোকজনে, যারা ব্যবস্থাপনা কার্য সম্পাদন করে এবং অন্যান্য জন অংশ যেমন ক্রেতা,শেয়ার হোল্ডার, সরকার প্রভৃতির উপর।  ইহা সম্ভব একমাত্র ওক্যবন্ধ প্রচেষ্টার দ্বারা। সংগঠনের অধীন লোকজন চার ধরানের সম্পর্ক গড়ে তোলে।  (১) ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের মধ্যে. (২) কর্মীদের নিজেদের মধ্যে; (৩) ব্যবস্থাপনায়জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে; (৪) সংগঠন ও জনসম্প্রদায়েরবিভিন্ন সদস্যেরমধ্যে। ব্যবস্থাপনা গনমানবসম্পর্ক ((Human relation)  গোড়ে তোলেন।  ব্যবস্থাপনার মূল কাজ হচ্ছে তার নিকট প্রান্ত সম্পদের কাম্য ব্যবহারে মাধ্যমে পূর্ব নির্ধারিত উদ্দেশ্য সমূহ অর্জনের জন্য তার অধীনস্থ লোকজনে ও কর্ম তৎপরতা পরিচালনা করা।  ব্যবস্থাপকের কার্যকে পাঁচটি ধাপ বিশিষ্ট উপাদান হিসাবে বিবেচনা করা যেতেপারে।  যথা :

পরিকল্পনা : অকাক্সিক্ষত ফলাফল বা লক্ষ্য অর্জনের সাথে সংশ্লিষ্ঠ। 

সংগঠিতকরন :পরিকল্পনা কে কার্যকর করার জন্য প্রাপ্ত উপকরন সমূহ কে কার্য সকম্পর্কে সমন্বিতকরা। 

কর্মীনিয়োগ :এর উদ্দেশ্য হচ্ছে উপযুক্ত ধরনের কর্মী বাছাই করা ও তাদের বিকাশ সাধন করা। 

প্রেষনাপ্রদান :সংগঠনের সকল কর্মীকে পরিকল্পন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাদের কার্য প্রচেষ্টাপরিচালিতকরারজন্য উৎসাহিত ও উদ্ধ্দ্ধু করা। 

নিয়ন্ত্রন : এরউদ্দেশ্য হচ্ছে মাঝে মাঝে ব্যবস্থাপনার কার্যাবলী ও সম্পদ ব্যবহারের মূল্যায়ন((Performance evaluation) করা এবং পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জ্যস্য রেখে যেন কর্ম সম্পাদিত হয় তা নিশ্চিত করা।