২১, এপ্রিল, ২০১৮, শনিবার | | ৫ শা'বান ১৪৩৯

টি১০ ক্রিকেটে স্পিনারদের ভবিষ্যত কি

আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:১১ এএম

টি১০ ক্রিকেটে স্পিনারদের ভবিষ্যত কি
টেস্ট ক্রিকেটে স্পিনারদের আধিপত্যের কথা সবার জানা।  টেস্টে সর্বোচ্চ দুই উইকেটশিকারীই স্পিনার এবং সেরা বোলারদের অধিকাংশই স্পিনার।  টেস্টের পর ওয়ানডেতেও স্পিনারদের দাপট দেখতে পাই আমরা।  একজন স্পিন বোলার যখন ১০ ওভার বোলিং করার সুযোগ পেয়ে জ্বলে উঠেন, তখন জ্বলে পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে যেতে হয় ব্যাটসম্যানদের।  টেস্ট কিংবা ওয়ানডে উইকেট পুরোপুরি ব্যাটিং সহায়ক না হলে স্পিনাররা জ্বলে উঠেনই।  টেস্ট ও ওয়ানডের পর টি২০ আবিস্কার হলেও স্পিনারদের দাপট এতটুকু কমেনি। 
উল্টো শহিদ আফ্রিদি, মুরালিধরণ, সাকিব আল হাসান, সুনিল নারিন, সামুয়েল বদ্রি সহ অসংখ্য স্পিনার টি২০ ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তার করছেন দীর্ঘদিন ধরে। 

ক্রিকেট বানিজ্যের ধারাবাহিকতায় টি১০ ক্রিকেটের আবির্ভাব হয়।  ১০ ওভারের ৬০ বলের খেলায় বোলারদের সুযোগ কম, তা আগে থেকেই অনুমেয় ছিল।  কেননা ১০ ওভারে ১০ উইকেটের শক্তি নিয়ে একটি দল ১২০ কিংবা ততোধিক রান করবে এটাই স্বাভাবিক।  ১০ ওভারের খেলায় একজন বোলার তার জন্য নির্ধারিত ২ ওভারে ২০ রান দিয়ে শেষ করতে পারলেই ভালো বোলিং হিসেবেই বিবেচিত হবে এটা। 

সব জল্পনা কল্পনাকে পেছনে ফেলে দুবাইয়ে টি১০ লীগ শুরু হয়।  প্রথম ম্যাচেই সাকিব আল হাসান ১ ওভার বোলিং করে মাত্র ৫ রান দিলেন।  যদিও আর বল হাতে সুযোগ হয়নি সাকিবের।  ২য় ম্যাচে এসেই আফ্রিদি ইতিহাস সৃষ্টি করেন, ১ ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়ে হ্যাট্রিক আদায় করে নেন তিনি।  অবশ্য পরের ওভারেই খরুচে বোলিং করেন আফ্রিদি। 

গতকাল শেষ হওয়া টি১০ লীগের বোলিং পর্যালোচনায় এটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, বোলার হিসেবে টি১০ পেসারদের জন্যই, ৬০ বলের খেলায় প্রতি বলে বাউন্ডারী মারার প্রচেষ্টা থাকে ব্যাটসম্যানের, উইকেট নিয়ে কোন ভাবনা থাকে না।  আর ব্যাটসম্যানদের এই প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করার জন্য পেস বোলিংই একমাত্র ভরসা, স্পিনার পেলে যেনো তান্ডব চালাতে চান ব্যাটসম্যানরা।  কেননা টি১০ ক্রিকেটে আউট হওয়ার চিন্তায় থাকে না কেউ এবং একজন ব্যাটসম্যান কম বলে ২০ রান করে আউট হলেই যথেষ্ট বিবেচনা করা হয়।  আফ্রিদির এক ওভার, সাকিবের এক ওভার সহ আরো দুইয়েকটা ওভার বাদ দিলে সদ্য শেষ হওয়া লীগে স্পিনারদের তেমন সুযোগ থাকছে না। 

গতকাল ২য় সেমিফাইনালে পাখটুনসের সাথে জয়ের জন্য ২০ রান দরকার পাঞ্জাবী লিজেন্ডের।  ৯ম ওভারে বল হাতে নিলেন আফ্রিদি, প্রথম তিন বলে তিন রান নিলেও পরের দুই বলে শোয়েব মালিক ২টি ছয় মেরে ৯ম ওভারে ১৭ রান নিয়ে খেলা শেষ করে দিলেন।  এই অবস্থায় স্পিন বোলিংকে বড্ড বেমানান মনে হয়েছে, হউক সেটা যেকোন বোলার।  অবশ্য নিজের প্রথম ওভারেই ৬ রান দিয়েছিলেন আফ্রিদি। 

সাকিব আল হাসানকে বোলিংয়ে নিয়মিত ব্যবহার করা হয়নি, তা নিয়ে বাংলাদেশের সমর্থকরা মরগ্যানের উপর রাগ ঝাড়ছেন।  তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ফাইনালে বল পেলেন সাকিব, ২ ওভারে ৩১ রান দিলেন।  ব্যর্থই বলা যায় পুরোপুরি।  মরগ্যান তার নেতৃত্ব গুনে এবং ব্যাট হাতে রীতিমত তান্ডব চালিয়ে দলকে শিরোপা জিতিয়েছেন।  তাই মরগ্যানের জায়গায় মরগ্যান সফল, কে বল পেল বা কে পেল না, তা নিয়ে কারোরই মাথা ব্যথা থাকার কথা নয়।  তাছাড়া কেরেলার পেসাররা প্রতিটি ম্যাচেই ভালো বোলিং করেছেন, সাকিবের প্রয়োজনীয়তা তেমন একটা অনুভূত হয়নি। 

টি১০ ক্রিকেটে স্পিনাররা ভালো করবে, তবে তার নিশ্চয়তা ১০%ও নেই।  মাঝে মাঝে হয়ে যাবে ভালো, তবে প্রচুর রান দেওয়াটাই হবে স্বাভাবিক ব্যাপার।  কেননা ৬০ বলের খেলায় ব্যাটসম্যানের আউট হওয়া নিয়ে চিন্তা নেই, বলে বলে বাউন্ডারী মারার প্রচেষ্টা থাকে সবার।  আর আউটের কোন চিন্তা না থাকায় নির্ভয়ের তান্ডব চালানোর সুযোগ পায় ব্যাটসম্যানরা।  ক্রিকেট ফ্রেস মেন্টালিটির খেলা।  ১০ ওভারের খেলায় চাপ থাকে না কোন, পাশাপাশি উইকেটও তৈরী করা হয় ব্যাটিং সহায়ক, সেখানে স্পিন বোলিংটা শতভাগ জুয়া, বিন্দুমাত্র নিশ্চয়তা নেই।  টি১০ ক্রিকেটে স্পিনারদের ভবিষ্যত কি, তা আপাতত বলা না গেলেও আরো কয়েকটি লীগ অনুষ্ঠিত হলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে। 

জুবায়ের আহমেদ
ক্রীড়া লেখক