২০, জানুয়ারী, ২০১৮, শনিবার | | ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টানা চার বছর ধরে সহবাস, নেতার বাড়ির সামনে দুই সন্তানের জননীর অনশন!

আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:৫৯ এএম

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টানা চার বছর ধরে সহবাস, নেতার বাড়ির সামনে দুই সন্তানের জননীর অনশন!

বিয়ে করার দাবিতে প্রেমিকার অনশনের খবর প্রায়ই প্রকাশিত হচ্ছে। এবার ঘটনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। বিজেপির বহিষ্কৃত জেলা সভাপতির বাড়ির সামনে ধরনায় বসলেন কলকাতার এক তরুণী। এই ঘটনায় রোববার সকাল থেকে রায়গঞ্জ শহরের উকিলপাড়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। কলকাতার বেহালার বাসিন্দা গার্গী মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টানা চার বছর ধরে তার সঙ্গে সহবাস করেন বিজেপির এক সময়ের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি শুভ্র রায়চৌধুরি। কিন্তু এখন নানা অজুহাতে

বিয়ে না করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শুভ্র রায়চৌধুরি বলেন, তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে।

এদিকে এক মহিলার এভাবে রাস্তায় ধরনায় বসে পড়া দেখে এলাকায় ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধরনারত গার্গীদেবীকে থানায় নিয়ে যায়। রায়গঞ্জ থানার আইসি সুমন্ত বিশ্বাস বলেন, শুভ্র রায়চৌধুরির বিরুদ্ধে ৩৭৬ ধর্ষণ এবং ৩৯৩ ধারায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগকারিণী গার্গীদেবী নিজেকে অবিবাহিত বলে দাবি করেছেন। যদিও পুলিশের দাবি, ওই মহিলা বিবাহিত এবং তার দু’টি কন্যাসন্তান রয়েছে।

অভিযুক্ত শুভ্র রায়চৌধুরি বলেন, “গার্গী মুখোপাধ্যায় নামে বেহালায় এক বিজেপি নেত্রী আছেন শুনেছি। এর বাইরে ওই মহিলার সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। আসলে আগামী ২৪ ডিসেম্বর আমি বিজেপিতে যোগদান করছি। সেই কারণেই আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে।

” তবে বিজেপির জেলা সভাপতি নির্মল দাম বলেন, “বর্তমানে শুভ্রবাবু আমাদের দলের কেউ নন। ফলে এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে চাই না।” এদিকে বিজেপি থেকে বহিস্কৃত হওয়ার পর শুভ্রবাবু আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলের শিবিরে যোগদান করেছিলেন। যদিও তেমন সক্রিয়ভাবে তাঁকে দেখা যায়নি। যদিও তৃণমূলের জেলা সভাপতি অমন আর্চায বলেন, “শুভ্র রায়চৌধুরি একসময় জেলার সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন তবে তাঁকে দল থেকে অনেক দিন আগেই বহিষ্কার করা হয়ছে।”