২০, এপ্রিল, ২০১৮, শুক্রবার | | ৪ শা'বান ১৪৩৯

শিরোনাম প্রীতির হৃদয় জুড়িয়ে দিলেন ক্রিস গেইল ,দিলেন বিশেষ পুরস্কার ! যমুনার বুকে স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মিটুয়ানী ব্রিজ - দ্রুত রায়গঞ্জে ব্রীজ আছে রাস্তা নাই জনদূর্ভোগ চরমে! দক্ষিণ আফ্রিকায় কোম্পানীগঞ্জের যুবক কে গুলি করে হত্যা 'আমি ঢাবির দুই হাজার মেয়ের ছাত্রত্ব বাতিল করে দেব’ কাঠমান্ডুর সেই বিমানবন্দর বন্ধ ২ হাজার মেয়ের ছাত্রত্ব বাতিল করে দেয়ার হুমকি সুফিয়া কামাল ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের পর খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে শঙ্কিত বিএনপি রাতের আঁধারে ছাত্রী তাড়িয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে প্রশাসন: সুফিয়া কামাল হলের ফ্লোরে ফ্লোরে পাহারা বসিয়ে ছাত্রীদের বের করে

নতুন বিদ্যুৎ আইনে হয়রানির শিকার হবেন গ্রাহকরা

আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:৪০ এএম

নতুন বিদ্যুৎ আইনে হয়রানির শিকার হবেন গ্রাহকরা
বিদ্যুৎ আইনে শাস্তির ক্ষেত্রে জরিমানার সঙ্গে কারাদন্ডের বিধান সংযোজন করায় গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।  উভয় দন্ড দেয়ার বিধান যুক্ত হলে গ্রাহক হয়রানি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।  কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে সংসদীয় কমিটি আবাসিক গ্রাহকদের শাস্তির েেত্র এই বিধান যুক্ত করতে চাপ দেয়।  : এতে করে বিদ্যুৎ বিল ২০১৭-তে আবাসিক গ্রাহকের বিদ্যুৎ চুরির েেত্র জরিমানার সঙ্গে কারাদন্ড কিংবা উভয় দন্ড দেয়ার ধারা যুক্ত করা হয়েছে। 
এই আইন বাস্তবায়নের েেত্র একটি প্রবিধানমালা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।  পাশাপাশি আইনটি সংশোধন করা যায় কি না, তাও বিবেচনার পরামর্শ এসেছে।  বিদ্যুৎ আইনের ১২ পৃষ্ঠায় অপরাধ এবং দন্ড বিষয়ক সপ্তম অধ্যায়ে ধারা-১-এ বলা হয়েছে, কোনো গ্রাহক বিদ্যুৎ চুরি করলে অনধিক তিন বছরের কারাদন্ড অথবা চুরি করা বিদ্যুতের দ্বিগুণ বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা হবে।  : ধারা-২-এ বলা হয়েছে, শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ চুরির েেত্র অনধিক তিন বছরের কারাদন্ড অথবা চুরি করা বিদ্যুতের দ্বিগুণ বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা হবে।  সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো বিদ্যুৎ চোরকে নিরাপত্তা দেয়া আইনের কাজ নয়।  তবে বৃহৎ পরিসরে যেন কোনো গ্রাহক হয়রানির শিকার না হয়, সেই দিকটিও আইন প্রণেতাদের খেয়াল রাখতে হবে।  এখনও বিতরণ ব্যবস্থার পুরো নিয়ন্ত্রণ বিতরণ কোম্পানির কাছে।  এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রায়ই গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ ওঠে।  : সম্প্রতি ঢাকার বনশ্রীতে বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে যোগসাজশ করে ডিপিডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১০ লাখ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ চুরি করেছে।  ডিপিডিসির তদন্তই বলছে, তাদের অফিসে সার্ভার থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য ফেলে দিয়ে এই চুরি করা হয়েছে।  অভিযোগ রয়েছে, একজনের বিদ্যুৎ বিল অন্যের কাঁধে চাপিয়ে মূল বিদ্যুৎ বিল আদায় ঠিক রাখা হয়।  বিতরণ কোম্পানির প্রতিনিধিরা এসব করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়।  কিন্তু গ্রাহকের কিছু করার থাকে না।  এ েেত্র তাদের শাস্তির বিষয়টি আইনে স্পষ্ট করা হয়নি।  এমনকি গ্রাহক হয়রানির শিকার হলেও মামলা করার পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।  এজন্য আইনে ‘উভয় দন্ড’ শব্দের স্থলে যেকোনো দন্ড দেয়ার পে ছিল বিদ্যুৎ বিভাগ।  : বিদ্যুৎ আইন প্রণয়ন কমিটিতে থাকা একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, এতে গ্রাহক হয়রানির মাত্রা বাড়তে পারে।  বিশেষ করে আবাসিক গ্রাহকের েেত্র এই হয়রানি বাড়বে বলে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করার পরও আমাদের কথা শোনা হয়নি। ’ ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমার নিজের এ ধরনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।  আমার এক আত্মীয়কে এমন বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছিল।  কিন্তু পরে দেখা গেছে, যাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে তার কোনো দোষ নেই।  কিন্তু এভাবে কেউ একবার হয়রানির শিকার হলে তো আর কিছু করার থাকে না।  : আইনের ১৬ পৃষ্ঠায় ৪৮-এর ২ উপধারায় বলা হয়েছে, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীনে তার বিরুদ্ধে গৃহীত কোনো কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবে না।  ৪৯-এর ২ উপধারায় মামলার বিচারের েেত্র (ক)-তে বলা হয়েছে, আইনের অধীনে অপরাধ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিচার করবেন।  (খ)-তে বলা হয়েছে, প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আইনে বর্ণিত যেকোনও অপরাধের জন্য অর্থদন্ড আরোপ করতে পারবেন।  : এ বিষয়ে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, ‘বিদ্যুৎ চুরি করলে শাস্তি তো পেতেই হবে।  কিন্তু এ েেত্র ভোক্তা প্রতিনিধিদের তদন্ত থাকা দরকার।  ভোক্তা সংস্থার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে যাচাই করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।  গ্রাহক একা চুরি করে না, বিতরণ কোম্পানির কেউ না কেউ এর সঙ্গে জড়িত থাকে।  এ ধরনের আইন বাস্তবায়নের জন্য একটি নীতিমালা থাকা দরকার। ’ ক্যাবের এই জ্বালানি উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এ নীতিমালার ওপর নির্ভর করে আদালতে মামলা করা যেতে পারে।  বিচারিক আদালতে আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়াটা কী হবে, সেটা পরিষ্কার করতে হবে।  অপরাধ না করে কেউ যেন শাস্তি না পায়, সেজন্য একটা প্রবিধানমালা থাকা দরকার। ’ তিনি বলেন,  ‘ভোক্তা পর্যায়ে এই আইনের কারণে ভোক্তারা যদি ভোগান্তির শিকার হন, তাহলে প্রয়োজনে আইন সংশোধন করা যেতে পারে। ’ : এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বি ডি রহমত উল্লাহ বলেন, ‘প্রকৃত দোষীদের যাচাই-বাছাই করেই এ আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।  একজন গ্রাহকের পে একা বিদ্যুৎ চুরি করা সম্ভব নয়।  এর সঙ্গে অবশ্যই সংশ্লিষ্টরা জড়িত থাকে।  অন্যদিকে এই আইনের মাধ্যমে অনেক গ্রাহকের লঘু পাপে গুরুদন্ড হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।  আইন তার নিজের গতিতে চলবে।  কিন্তু আইনটি সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগের জন্য নীতিমালা থাকা দরকার।  তা না হলে এই আইনের মাধ্যমে নিরপরাধ ব্যক্তিও হয়তো শাস্তি পাবেন। ’