১৬, জুলাই, ২০১৮, সোমবার | | ৩ জ্বিলকদ ১৪৩৯

কেন উড়োজাহাজ ব্যবহারকারীরা বেশি ক্যান্সারের ঝুঁকিতে?

অনেকেই মনে করেন, আকাশ পথে ভ্রমণ সহজ। বিমান সংস্থায় চাকরিও বেশ মজার। দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো যায়। কিন্তু, এটা কি জানেন, এই মজার চাকরির তাদের মৃত্যু ডেকে আনছে। সাধারণ মানুষের চেয়ে বিমানে কর্মরত নারী-পুরুষদের বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে। শুধু ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট নয়, বিমানচালক এবং যেসব ব্যক্তি নিয়মিত বিমানে চলাচল করেন তাদের ক্ষেত্রেও ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি। ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার পেছনে সম্ভাব্য একটি কারণ হতে পারে, ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টদের ক্যান্সার সৃষ্টিকারী অনেক উপাদানের সংস্পর্শে আসতে হয়। পাশাপাশি বিমানে লম্বা সময় অবস্থান করার কারণে তাদের রেডিয়েশনের সংস্পর্শে আসতে হয়। বায়ুমণ্ডলের উঁচুতে এই রেডিয়েশন বেশ ক্ষতিকর। তা ব্রেস্ট ক্যান্সার এবং কয়েক ধরনের স্কিন ক্যান্সারের জন্য দায়ী হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় এসব তথ্য জানা গেছে। এছাড়া তারা অতিবেগুনী রশ্মির সংস্পর্শেও আসেন বেশি। এতেও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের এই গবেষণায় দেখা যায়, ব্রেস্ট, সারভিক্স, স্কিন, থাইরয়েড ও ইউটেরাস ক্যান্সার বেশি হয় ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট বা কেবিন ক্রু পেশার মানুষের। এর পাশাপাশি তাদের কোলন, স্টমাক, ইসোফ্যাজিয়াল, লিভার ও প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারও বেশি হয়। এই গবেষণার জন্য ৫ হাজার ৩০০ জন ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টের তথ্য নেয়া হয়। ২ হাজার ৭০০ জন সাধারণ মানুষের তথ্যের সঙ্গে তাদের তথ্যের তুলনা করা হয়। দেখা যায়, সাধারণ একজন নারীর তুলনায় ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট নারীদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ বেশি। তাদের মাঝে ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে সাধারণ একজন পুরুষের তুলনায় ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট পুরুষের মেলানোমা এবং নন-মেলানোমা ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি ৫০ থেকে ১০ শতাংশ বেশি হতে দেখা যায়। ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টদের ক্যান্সার হবার পেছনে রেডিয়েশন এবং অতিবেগুনী রশ্মি ছাড়াও ঘুমের সমস্যা ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া বিমানের কেবিনে জ্বালানি, কীটনাশক এবং অগ্নিনির্বাপক রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসার কারণেও ঝুঁকি বাড়ে।