১৫, আগস্ট, ২০১৮, বুধবার | | ৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমীপে ঘাটাইলের আওয়ামীলীগ নেতার খোলা চিঠি

আল্লাহ সর্বশক্তিমান                                                  জয়বাংলা                                              জয়  বঙ্গবন্ধু

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সমীপে খোলা চিঠি

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৩ তম শাহাদৎ বার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি। মাননীয় নেত্রী, আমি শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস, টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার মুজিব আদর্শ লালনকারী একজন আওয়ামীলীগ কর্মী। ছাত্রজীবনে মাত্র ১১ বছর বয়সে সক্রীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিজেকে গড়ে তোলা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি বারবার। ১৯৯১ সালে আওয়ামীলীগ বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় ঘাটাইলে হরতাল পালন কালে আমার উপর বোমা হামলা হয় এবং ঐ হামলার প্রাতিবাদে আপনি মিডিয়ায় বিবৃতি প্রদান করেছিলেন এবং আমার চিকিৎসা বাবদ অনুদান প্রদান করেছিলেন। ময়মনসিংহে সিনেমা হলে বোমা হামলার মামলায় বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের রোষানলে পড়ে কারারুদ্ধ হয়েছি। ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে Operation Clean Heart এর নামে যে আওয়ামীলীগ নিধন পক্রিয়া BNP শুরু করেছিল, তার শিকার হয়েছি আমি। অবর্ণনীয় অত্যাচারের ও যুলুম নির্যাতনের সেই ধকল এখনো আমার ধমনিতে। এখানেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে আমি যখন ৩নং জামুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মডেল ইউনিয়নের স্বীকৃতি লাভ করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে এবং উন্নয়নের ফলাফল জনগনের দোরগোরায় পৌঁছাতে ব্যস্ত সময় পাড় করি, তখনি আমার উপর বিএনপি জামাতের বর্বরোচিত হামলা হয়। বারবার হত্যা চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৪ জুন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আমি আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করি। কোন দিক থেকেই পেরে না উঠে তারা আমার দুই সহোদরকে হত্যার উদ্দেশে হামলা করে এবং তাদের ভুড়ি ভূপাতিত করে। আতংক ছড়িয়ে আমাকে পরাজিত করা হয়। মাননীয় নেত্রী, ব্যক্তিগত এই আবেগগুলি উল্লেখ করা চিঠির মূল উদ্দেশ্য নয়। আমি এটা বলতে চেয়েছি যে, শরীরের কয়েক পাউন্ড রক্ত ওরা নিয়েছে, শরীরের মাংস কোষ ওরা কেঁটেছে, ইলেকট্রিক শক দিয়েছে। তথাপি এটা বলতে চাই শরীরের সমস্ত রক্ত যদি শুশুকেরা নিয়ে নেয়, সমস্ত মাংস যদি ঐ শকুনেরা ভাগা দেয় তারপরও শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারবেনা, ইনশাল্লাহ মাননীয় নেত্রী, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর, ঘাটাইল তথা টাঙ্গাইলের আওয়ামীলীগের শ্রষ্ঠা জননেতা প্রয়াত শামসুর রহমান খান (শাজাহান) এর কাছে আমাদের সকলের রাজনৈতিক হাতেখড়ি হয়েছে। হিমালয়ের মত উদার ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এই নেতার সান্নিধ্যে বঙ্গবন্ধু শিখেছি, জয় বাংলা শিখেছি, শেখ হাসিনা শিখেছি, সংগঠন শিখেছি, নিশিদিন গ্রাম বাংলায় ঘুরে আওয়ামীলীগ শিখেছি। হাজার হাজার নেতাকর্মী আওয়ামীলীগের পতাকাতলে ভিড়াতে শিখেছি। প্রিয় নেত্রী, সেই নেতার আওয়ামীলীগ, বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগ, শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ আজ ঘাটাইলে বিপন্ন। দিকভ্রষ্ট নেতাদের নেতৃত্বে ঘাটাইলের আওয়ামীলীগ আজ কতিপয় নেতার পকেটের সংগঠনে পরিণত হয়েছে। শুধুমাত্র একজন নেতাকে দমন করার জন্য ঘাটাইলের আওয়ামীলীগকে করা হয়েছে ছিন্নভিন্ন। ৮০-৮৫ শতাংশ আওয়ামীলীগকে বাইরে রেখে চলছে প্রাণের সংগঠন। হালে পানি না পেয়ে দোসর করেছে বিএনপি জামাতের সাথে। তাদের সাথে আঁতাত করে অত্যাচার নির্যাতন করে নির্বাসিত করা হচ্ছে, রক্ত ঝড়ানো হচ্ছে তাদের, যাদের ধমনিতে শুধু আওয়ামীলীগের রক্ত, শুধুই জয় বাংলার রক্ত। জয় বাংলার ঝান্ডাধারীদেরকে নির্বিচারে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে। মাননীয় নেত্রী, শুধুমাত্র একজন নেতাকে দমন করে, ব্যাক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতেই তাদের এই চিত্র। জননেতা শামসুর রহমান খানের মৃত্যুর পর ঘাটাইলের আওয়ামীলীগকে যিনি ৭০ এর আওয়ামীলীগে রূপান্তরিত করেছিলেন, দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে যিনি ঘাটাইলকে এক আওয়ামীলীগের পতাকাতলে এনেছিলেন, যার গনমূখী নেতৃত্বে ঘাটাইল থেকে বিএনপি জামায়াত ছিল প্রায় নির্বাসিত, যার নেতৃত্বকালীন সময়ে ঘাটাইলের মাটিতে এক দিনের জন্য বিএনপি জামাতের শ্লোগান পর্যন্ত হয়নি (তারা কর্মী পায় নাই)। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সেই নেতা আলহাজ আমানুর রহমান খান রানা, এম.পি’র বিষোধগার করতে ঘাটাইলের রাজপথে অসংখ্য মিছিল সমাবেশ হয়েছে। অথচ বিএনপি জামায়েত/জঙ্গিবাদের বিরুদ্বে তাদের কোন মিছিল সমাবেশ হয় নাই। বরঞ্চ বিএনপি জামায়েতকে তাদের মিছিল সমাবেশ করার সুযোগ করে দিয়ে ঘাটাইলের মাটিতে শেখ হাসিনা হটানোর শ্লোগান করানো হয়েছে। মাননীয় নেত্রী, আলহাজ আমানুর রহমান খান রানা এম.পি. ঘাটাইলের গনমানুষের নেতা। সরকারী বেসরকারী অনেক জরিপ আপনার কাছে রয়েছে। সেই জরিপের প্রেক্ষিতে আমার কথার মূল্যায়ন হবে। আমার এই চিঠি শুধুমাত্র একটি হাতের লেখা নয়, ঘাটাইলের লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণের আকুতি। তসবি হাতে জায়নামাজে বসা হাজার হাজার বিধবা, বৃদ্ধ-বিদ্ধা মা-বাবার মিনতি - কবে আসবে আমাদের সন্তান? কবে বন্ধ হবে ঘাটাইলে আওয়ামীলীগের উপর যুলুম নির্যাতন? প্রিয় নেত্রী, আপনি মানবতার মা। লক্ষ লক্ষ উদ্ধাস্তুকে আশ্রয় দিয়ে মা - তুমি আজ বিশ্বমাতা। মা, তোমারি বুকে তোমার সন্তানেরা আজ উদ্ধাস্তু। তুমি তাদের দেখবে না, মা? নিবেদক মোঃ শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস পক্ষে, ঘাটাইলের সর্বস্তরের জনগন।