শীতজনিত রোগে ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু

ঠাকুরগাঁওয়ে হঠাৎ করে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে বাড়তে শুরু করেছে শিশুরোগীর সংখ্যা।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. শাহাজাহান নেওয়াজ শনিবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালটিতে শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে সব বয়সী রোগীর সংখ্যা।

এ হাসপাতালে বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী। আর ভর্তি থাকছে ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী। এ দিকে হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা ১০০। অন্য দিকে, শিশু ওয়ার্ডের শয্যা মাত্র ১৮টি।

ছবি: বার্তা বাজার

গত ২৪ ঘণ্টায় যে তিনজন শিশু মারা গেছে তারা সবাই নবজাতক। একজনের বয়স ১ ঘণ্টা, অন্যজনের বয়স ১২ ঘণ্টা আর অপরজনের বয়স ১৬ দিন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা। বিছানা না পেয়ে অনেককেই থাকতে হচ্ছে হাসপাতালের মেঝে কিংবা বারান্দায়। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের। পঞ্চগড় থেকে আসা রফিকুল ইসলাম, পীরগঞ্জ উপজেলার লোহাগাড়া থেকে আসা আয়শা বেগম ও সদর উপজেলার আকচা থেকে আসা সোলেমান আলীসহ অনেকে জানান, শীতের কারণে বাচ্চাদের ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট নিয়ে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দুই থেকে তিনদিন ধরে ভর্তি আছি।

ছবি: বার্তা বাজার

কিন্তু বিছানা না পেয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। আবার উপায় না পেয়ে কোনো কোনো বিছানায় দুই থেকে তিন শিশু ও অভিভাবকরা গাদাগাদি করে থাকছে। এতে শিশুদের নিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. শাহাজাহান নেওয়াজ জানান, ঠাকুরগাঁও জেলার রোগীরা শুধু নয়। এ হাসপাতালে এসে চিকিৎসা পাচ্ছে বলেই পাশের জেলা পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের কিছু অংশের রোগীরা এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে শয্যা সংকটে পড়ে হাসপাতালের বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

শীত বেড়ে যাওয়ায় গত দুই থেকে তিন দিন শিশু ওয়ার্ডে শতাধিক রোগী ভর্তি ছিল। আজ এখন পর্যন্ত ভর্তি আছে ৮৬ জন শিশু। তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঘটনা সত্য। তবে তাদের শ্বাসকষ্ট ও ওজনে কম ছিল।

অন্য দিকে হাসপাতালে সময়মতো না আসায় তাদের রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি সেবা প্রদানে। তবে অভিভাবকরা সচেতন হলে শিশুরা ভালো থাকবে।

বার্তা বাজার/এম.সি

 

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর