বর্তমান সভ্যতার যুগে আজও অসভ্য ও নির্মম বর্বরতার শিকার হচ্ছে নারীরা। আমরা প্রতিদিন পত্রিকা,টিভি,সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই দেখতে পাই কেউ না কেউ ধর্ষনের শিকার। আবার কাউকে বা ধর্ষণের পরে নিষ্ঠুর ও জঘন্য ভাবে হত্যা করা হয়েছে,এই নির্মমতা কেন নারীদের উপর,আমরা না কি সভ্য সমাজে বসবাস করি? এটাকি কোনো সভ্য সমাজের মানুষের কাজ হতে পারে?
একুশ শতকের এই সময়েও নারীরা কতটা যে অনিরাপদ তা তনু ,খাদিজা ,নুসরাত ও রুম্পার মতন কোমলমতিদের অকালে চলে যাওয়া নিথর দেহ দেখলে বোঝা যাই।আর যারা এই পশুর মতন আচরণ করে তাদের মনে হয় ঘরে মা বোন নাই?
বাংলাদেশ এখন ধর্ষণের রোল মডেল।এদেশে এখন ৯ মাসের দুধের শিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত রেহাই পাইনা। ভাবতেই অবাক লাগে যারা এই জঘন্য অপরাধ করে তারা কি সত্যি মানুষ না কি জানোয়ার? না এদের কে মানুষ বললে গোটা মানুষ জাতিকে অসম্মান করা হবে ,আর পশু-জানোয়ার বললেও সেটাও হবে খুব সামান্য সম্মোধন।
আর আইনজীবীদের উচিত তারা যেন এসব পশুদের জন্য না লড়ে। কারণ, টাকার কাছে তো বিচার বিভাগ বিলীন হতে পারে না।আর কিছু লোভী আইনজীবীদের জন্য ভুক্তভুগীরা দিন দিন বিচার বিভাগ এর ওপর আস্থাহীন হয়ে পড়ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই ছয় মাসে বাংলাদেশে ৩৯৯জন শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে।২০১৭ সালে ৮১৮ নারী ধর্ষনের শিকার হয়েছেন৷ ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ৪৭ নারী৷ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন ১১ জন৷২০১৮ সালে ২২৭ শিশু নিহত, ধর্ষণের শিকার ৩৫৬ – গবেষণা থেকে আসছে
আজ পর্যন্ত যে কয়টা ধর্ষণ হয়েছে,তার বেশির ভাগ ভুক্তভুগী ও তার পরিবার সঠিক বিচার পাইনি, আর বিচার না পাওয়ার যথাযথ কারণও আছে, কারণ হচ্ছে আমাদের দেশের কিছু আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্প্প্ন আইনজীবী আছে যারা টাকার জন্য এসব বর্বর হায়নাদের জামিনে মুক্ত করার তদবির করে,এবং টাকার জন্য তারা তা করেও থাকে।
আসলে বিচার হবে কি?কারণ এসব আইনজীবীদের কারণে প্রমান ও পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, আজ আপনাদের কারণে আসামিরা শাস্তি পাইনা, যার জন্য দিনদিন ধর্ষণ, খুন, গুম দিনদিন বেড়ে চলছে।কারণ নরপশুরা জানে আইন ও বিচার বিভাগ তাদের হাতের মুঠোয়। আর আইন চাই উপযুক্ত প্রমান।তা ছাড়া বিচার বিভাগকে আরো দায়িক্তশীল ও কঠোর হতে হবে।
আমাদের কে এসব কাপুরুষদের প্রতি সোচ্চার হতে হবে। সমাজ ও দেশকে ধর্ষণ মুক্ত রাখতে আইনের কঠোর প্রয়োগ ও বিচার বিভাগকে আরো নিরপেক্ষ হতে হবে। তাছাড়া ধর্ষণ ও নারীর অধিকার নিয়ে বিচার বিভাগে একটা বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার কাজ সম্পন্ন করা উচিত। আর তাদের শাস্তি হতে হবে মৃত্যদন্ড। এসব পশুরা যেন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করতে না পারে।
এদের বিরুদ্ধে সমাজের প্রতিটা মানুষ কে সোচ্চার হতে হবে। আজ না হয় অন্যের মা বোনের সাথে হয়েছে ,কাল যে আপনার আমার মা বোনের সাথে হবেনা তার কি প্রমান আছে? কবে আমাদের মেয়েরা স্বাধীন ও নির্ভয়ে চলতে পারবে।তবে ধর্ষণ থেকে আমাদের মতন তরুণ যুবকদের কে সচেতন ও নিয়ন্ত্রনে কাজ করতে হবে। কারণ এই দেশ আমার আপনার সবার। তাই নারীর জন্য চাই সুরুক্ষা ও আত্মনির্ভর জীবন।
লেখক: হাদিউজ্জামান হৃদয়, শিক্ষার্থী , গ্রিন ইউনিভার্সিটি
* প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বার্তা বাজার-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বার্তা বাজার কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।