হাসপাতাল ফটকে সন্তান প্রসব, তদন্ত কমিটি গঠন

সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের প্রধান ফটকে সন্তান প্রসবের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর ১৯) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান এ তদন্ত কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে দৈনিক ভোরের পাতা ও বার্তা বাজার এর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি এম এ মালেক’কে প্রকাশিত প্রতিবেদনের জবাব দিতে প্রথম কার্যদিবস বুধবার (৪ ডিসেম্বর ১৯) বিকেল ৩ টায় সিরাজগঞ্জ ২৫০ শস্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের ১৬নং কক্ষে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করে চিঠি প্রেরণ করে। পরে প্রতিবেদক এম এ মালেক যথা সময়ে উপস্থিত হয়ে ঘণ্টাব্যাপী ওই প্রতিবেদনের সুস্পষ্ট তথ্য তদন্ত কমিটির নিকট ব্যাখা করেন।

উল্লেখ্য রোববার (১ ডিসেম্বর ১৯) সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রুপসাচর এলাকার মো. আব্দুর রহিমের স্ত্রী মোছাঃ রহিমা খাতুন (২২) গর্ভকালীন সমস্যা নিয়ে রাত ১০ টার দিকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তি হওয়ার পর প্রসবের কোন ব্যথা অনুভব না হওয়া ও রক্ত স্বল্পতায় ভুগছে এই মর্মে রহিমা খাতুনকে ১০ টা ২০ মিনিটের দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক বনশ্রী সাহা ছাড়পত্র প্রদান করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) এন্ড হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশ দেন।

ওই সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক বনশ্রী সাহা প্রসব বেদনায় ছটফট করতে থাকা প্রসূতি রহিমার চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে ফোনে কথা বলতে থাকেন। এক পর্যায়ে রোগীর বেদনা আরও তীব্র হলে প্রসূতির স্বামী মো. আব্দুর রহিম ও মামা মাসুদ গাইনী ও প্রসূতি ওয়ার্ড এর ২য় তলা থেকে চিকিৎসা না পেয়ে নিচে নামিয়ে হাসপাতালের প্রধান ফটক ইমাজেন্সি রুমের বাইরে সিএনজিতে ওঠানোর সময় জনসম্মুখেই সন্তানের জন্মদেন রহিমা খাতুন।

প্রতিবেদনটি সোমবার (২ ডিসেম্বর ১৯) দুপুরের দিকে সর্ব প্রথম অনলাইন বার্তা বাজারে “চিকিৎসকের অবহেলায় হাসপাতাল ফটকে প্রসূতি মায়ের সন্তান প্রসব” শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। পরের দিন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সিরাজগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগের কথা সহ জাতীয় কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হওয়ায়, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা হলেন- সিরাজগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক মো. তারিকুল আনোয়ার ও সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর