ইয়াবা সম্রাট ও ভাড়াটে খুনি কাশেম ৫ দিনের রিমান্ডে

পিকনিক বাসের মাধ্যমে ইয়াবা পাচারকারী চক্রের সদস্য ও ভাড়াটে খুনি আবুল কাশেম ওরফে শাহীনকে(৩০) অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সুনির্দিষ্ট নাম ঠিকানা ও পরিচয় খুঁজে না পাওয়ায় ঘটনার দশ মাস পর সোমবার (২ ডিসেম্বর) টেকনাফ থেকে ইয়াবা সরবরাহকারী আবুল কাশেম ওরফে শাহীনকে (৩০) গ্রেফতার করে পিবিআই।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দীন মুরাদের আদালতে আবুল কাশেম প্রকাশ শাহিনকে ১০ দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করা হলে শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবির।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এনায়েত কবীর বলেন, গত ৯ই ফেব্রুয়ারি শাহ আমানত সেতু এলাকায় একটি পিকনিক বাস থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়। বাকলিয়া থানায় করা মামলায় গ্রেফতার বাস মালিক আতিয়ার রহমান, চালক জুয়েল রানা ও ইকবাল হোসেনকে আসামী করে আদালতে হাজির করলে তারা জবানবন্দি দেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তারা রাজু ও কাশেম নামের দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহের তথ্য দিয়েছিলেন।”

বাকলিয়া থানার মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছিল কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে। মামলা তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন কাউন্টার টেরোরিজম আদালতে একটি অভিযোগপত্র জমা দেয়। যেখানে কাশেম ও রাজুর পূর্ণাঙ্গ নাম, ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত করতে না পেরে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে তাদরকে অব্যহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন।

তবে আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ না করে কাশেম ও রাজুকে খুঁজে বের করার জন্য অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআইকে)।

পিবিআই’র পরিদর্শক এনায়েত কবির বলেন, “মামলাটি আমরা গ্রহণ করে গত ২৫ সেপ্টেম্বর প্রথমে রাজুকে গ্রেফতার করি। পরে তার কাছ থেকে কাশেম এবং ইয়াবা চালানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ সহ বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজারের রামু হতে ছদ্মবেশে কাশেমকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। তাকে গ্রেফতার করে সোমবার চট্টগ্রামে নিয়ে আসি।”

পরিদর্শক এনায়েত কবির ঘটনার পুরো বিবরণী উল্লেখ করে বলেন, “মামলার শুরুতে গ্রেফতারকৃত আসামীরা জবানবন্দিতে জানিয়ে ছিলেন পিকনিকের যে বাসটি র‌্যাব আটক করেছিল সেটির মালিক আতিয়ার। আতিয়ার আগে ট্রাক মালিক ছিল। কিছু অসাধু ব্যক্তি ট্রাক মালিক থেকে বাসের মালিক হওয়া আতিয়ারকে পিকনিকে গিয়ে ইয়াবা আনার পরামর্শ দিয়েছিল।

“সেজন্য তারা যশোরের লোকজনকে বিনা ভাড়ায় কক্সবাজারে পিকনিকে এনেছিল। তবে পিকনিকের যাত্রীরা ইয়াবা সংগ্রহের বিষয়ে কিছুই জানতেন না।”

এনায়েত কবির আরো বলেন, “আতিয়ার ও তার সহযোগীরা রাজুকে বাসের সহকারী হিসেবে ঠিক করেছিল। সে এবং কাশেম টেকনাফ থেকে ইয়াবাগুলো বাসে তুলে দিয়ে নেমে গিয়েছিল। কথা ছিল যশোরে নিয়ে ইয়াবাগুলো বিক্রি করার। কিন্তু চালানটি চট্টগ্রামেই র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ে।”

কাশেম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে এনায়েত কবির বলেন, সে ও তার পরিবার বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রধারী নাগরিক হলেও তারা মূলত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক। প্রায় ৪০ বছর আগে তার বাবা নবী হোসেন বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে কৌশলে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে যান। পরে বাংলাদেশী নাগরিক গোলজার বেগমকে বিয়ে করে রামু এলাকায় বসবাস করতে থাকেন। কাশেম এক সময় কক্সবাজারে হিল লাইন সার্ভিস নামে একটি বাসের হেলপার ছিল। তখন সে ডাকাতদের সোর্স হিসেবে বিভিন্ন তথ্য দিত, রোডে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়িতে ডাকাতি এবং যাত্রীদের অপহরণ করে পাহাড়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় সহযোগী হিসেবে কাজ করতো। যা সকলে জানতে পারলে কাশেম কাজ ছেড়ে পাহাড়ে পালিয়ে ডাকাত দলে যোগ দেয় এবং ইয়াবা কারবারির সম্রাটে পরিণত হয়।”

এছাড়া তিনি আরো বলেন, কাশেম ২০১৪ সালে ভাড়াটে খুনি হিসেবে রামুর এক স্কুল শিক্ষককে খুন করার তথ্যও পিবিআই সংগ্রহ করেছে। শীঘ্রই সে বিষয়েও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তা বাজার/ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর