বিজয় একাত্তর হলে ভিপি নুরকে ধাক্কাধাক্কি ও গালাগাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিজয় একাত্তরের গণরুমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে হলটির প্রাধ্যক্ষ বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। এতে তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে বিজয় একাত্তরের গণরুমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে মে-৩০০২ ক রুমে পালি ও বুদ্ধিস্ট বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিকসহ বেশ কয়েকজন ধাক্কাধাক্কি ও গালাগাল করে।

এক পর্যায়ে আমার হাত ধরে টানাটানি করে। শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত সর্বোচ্চ প্রতিনিধি হয়েও হলে গিয়ে এমন অসৌজন্য আচরণ ও লাঞ্ছিত হওয়া খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছি।

এদিকে, লাঞ্ছিতের বিষয়ে ভিপি নুরুল হক গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, আজ দুপুরে বিজয় একাত্তর হলের একটি গণরুমে শিক্ষার্থীদের খোঁজ-খবর নিতে গেলে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী এসে কক্ষটির দরজা আটকে দেন। এরপর আরেকটি কক্ষে ঢুকলে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা এসে তাকে লক্ষ্য করে অশোভন ও অপমানজনক কথাবার্তা বলতে থাকেন।

তাঁদের একজন একপর্যায়ে তাঁকে (নুরুল) ধাক্কা দেন ও হাত ধরে টানাটানি করেন। এ সময় গণরুমকে ‘ছাত্রলীগের রুম’ বলে দাবি করে তাঁরা জানতে চান, তিনি (নুরুল) কেন গণরুমে এসেছেন।

আর ছাত্রলীগের দাবি, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু করে থাকলে সে দায় ছাত্রলীগের নয়। নুরুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা সহযোগিতা না চেয়ে হল পরিদর্শনে যাওয়ায় এর দায়ভার নুরুলকেই নিতে হবে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেছেন, নুরুলের এই আচরণ ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’৷ ভিপি নুরুল হক বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক ছাত্র নন।

সেখানে গণরুম পরিদর্শনে যাওয়ার আগে তিনি প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেননি বা সহযোগিতাও চাননি। এটি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ। শুধু এই ঘটনা নয়, এর চেয়ে বেশি কিছুও যদি ঘটত, তার দায়ভার নুরুলেরই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ভিপির কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়। আমরা তাঁকে আরও দায়িত্বশীল ও বিবেচক হওয়ার আহ্বান জানাই।’

এ বিষয়ে ভিপি নুরুলের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে এক হল থেকে আরেক হলে গেলে অনুমতি নেওয়ার কোনো নিয়ম বা আইন নেই। ভিপি নুরুল হক আরো বলেন, ‘ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রায়ই অভিযোগ করা হয় যে আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করি না, তাঁদের খোঁজ-খবর নিই না। কিন্তু আসলে ছাত্রলীগ চায় না, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের সংযোগ তৈরি হোক। এই ঘটনার মাধ্যমে তা আবারও প্রমাণিত হলো।’

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর