টাকা পরিশোধ করেও ২২ বছরে জমি লিখে দেয়া হয়নি

নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ৭ নং প্রসাদপুর ইউনিয়নের চকক্ষোপা গ্রামে মৃত- হোসেন আলী মন্ডলের ছেলে মোঃ শাহাদত আলী মন্ডলের কাছ থেকে ১৯৯৭ সালে ১০ শতক জমি বিক্রয়ে কথা বলে সম্পুর্ন টাকা পরিশোধ নিয়ে আজ পর্যন্ত জমি লিখে দেয় নাই উক্ত উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের মৃত কলিম উদ্দিনের কুটু বুদ্ধি আলা দুই ছেলে মোঃ মিজানুর রহমান ও মোঃ আমিনুল রহমান।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, এনায়েতপুরের মৃত কলিম উদ্দিনের ছেলে বর্তমান মালয়েশিয়া প্রবাসী মোঃ আমিনুল রহমান ১৯৯৭ সালে তাদের পরিবারের সকল দায়ীত্ব পালন করতো। সেই সময় গোডগাড়ী বালিকা বিদ্যালয়ে কাম-কমপিউটার পদে চাকরী নেওয়ার জন্য কোন টাকা পয়সা না থাকাতে হাত-জোর করে শাহাদত আলীর কাছে অনুনয়-বিনয় করে এবং বলে, চকক্ষোপা মৌজার, জে-এল নং -১২৬, খতিয়ান নং- ৪১, দাগ নং-৫১৭, জমির পরিমান ১ একর ২০ শতাংশর কাতে ১০ শতাংশ জমি রেজিষ্ট্রেরী করে দেবো। আপনি আমাদের টাকাটা দেন, আমরা এক বাপের জন্মানো, কোন দিনই, কখনোই আমরা আপনাকে ফাঁকি দেবো না বলে হাতে-পায়ে ধরে। শাহাদত আলী সরল বিশ্বাসে তার শশুরবাড়ীর জমি বিক্রয় করে, ছেলে- মেয়ের কথা চিন্তা করে বাড়ী করার উদ্দ্যেশে গোডগাড়ী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাজামাল ও স্থানীয় ব্যাক্তি- বয়তুল্যা প্রাং, আব্দুস ছালামের সামনে সেই সময়ের বাজার দরে ১০ শতক জমির মুল্যের সমুদ্বয় টাকা আমিনুলকে দিলে সে টাকা আমিনুল আবার প্রধান শিক্ষক শাহাজামাকে দিয়ে বলে, আমার ভাই মিজানুরের চাকরীটা যেন হয় আর আমরা অল্প দিনের মধ্যই জমিটা রেজিষ্ট্রেরী করে দিয়ে দেবো শাহাদত চাচাকে। আমিনুলের ভাই মিজানুরের গোডগাড়ী বালিকা বিদ্যালয়ে চাকরী হয়েছে। শাহাদত আলীকে ঐ জায়গায় বাড়ীও করতে বলেছে, বাড়ীও করেছে। মিজানুর এখনো সেই চাকুরী করে বউ, ছেলে, মেয়ে নিয়ে করে খাচ্ছে কিন্তু আজ দেবো, কাল দেবো বলে বলে আজ পর্যন্ত জমি রেজিষ্ট্রেরী করে দেয় নাই।

এ বিষয়ে গোডগাড়ী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাজামালের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয় এই এলাকার সবাই জানে হ্যাঁ আমিও জানি শাহাদত চাচা সম্পুর্ন টাকা দিয়েছে এবং চাকরীও হয়েছে মিজানুরের। কিন্তু জমি আজও লিখে দেয় নাই এটা খুবই দুঃখ জনক। এ বিষয় নিয়ে শাহাদত চেয়ারম্যানের স্বরণাপন্নও হয়েছিলো, জানি না সেখানে কি সিদ্ধান্ত হয়েছিলো।

বালিকা বিদ্যালয়ের পিয়ন শরিফ হোসেন বলেন, আমিও জানি শাহাদত চাচা সম্পুর্ন টাকা দিয়েছে, কিন্তু মিজানুরেরা বাড়ীও করতে বলেছে শাহাদত চাচা বাড়ীও করেছে, কিন্তু দেবো দিচ্ছি করে করে শাহাদত চাচাকে এখনো ঘুরাতেই আছে। বালিকা বিদ্যালয়ের কাম কমপিউটার মিজানুরের সাথে কথা হলে সে প্রথমে সাংবাদিকদের ভিডিও ক্যামেরা কথা না বলতে চেয়ে পরবর্তীতে বলে, হ্যাঁ আমরা সম্পুর্ন টাকা নিয়েছি কিন্তু আমিনুল ভাই বিদেশ আছে, বিভিন্ন কারনে রেজিষ্ট্রেরী দিতে পারি নাই। সে আবারও রেজিষ্ট্রেরী করে দেবো বলে স্বীকার করে। ৭ নং প্রসাদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেনের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি জানান, আমার আগের ট্রামে চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় এ নিয়ে বসা হয়েছিলো, শাহাদত আলী টাকা পয়সা সম্পুর্ন দিয়েছে কিন্তু মিজানুর ও আমিনুল জমি রেজিষ্ট্রেরী করে দিতে চেয়ে চেয়ে এখনো দিচ্ছে না। বিষয়টা খুবই দুঃখ জনক।

শাহাদত আলী মন্ডল একজন প্রতিবন্ধী, তিনি বলেন, আমাকে এভাবে প্রায় ২২ বছর ধরে দেবো দিচ্ছি বলে ঘুড়াতেই আছে আমি এর সুষ্ঠ সুরাহা চাই।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর