প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার জয়দেবপুর বাজারে এক পাগলি জন্ম দেয় এক কন্যা সন্তান।পাগলির সন্তান প্রসব,এমন খবরে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও পাওয়া যায়নি ওই সন্তানের পিতৃ পরিচয়।তাই ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই আলফাডাঙ্গা উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের তত্বাবধানে স্বেচ্ছায় দাই মা হিসেবে নবজাতকের দেখভাল আর সেবার দায়িত্ব নেন ওই এলাকার স্থানীয় এক মহিলা গ্রাম পুলিশ শিরিনা বেগম।
তবে পাগলির সন্তান হওয়ার পর থেকেই ওই সন্তানকে দত্তক নিতে দাই মা শিরিনা বেগম ও উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের নিকট আরজি নিয়ে আসেন অনেক সন্তানহীন দম্পতি।
তেমনই এক সন্তানহীন দম্পতি শাহাবুল হাসান ও ফারজানা ইসলাম।উপজেলার টগরবন্ধ ইউনিয়নের পানাইল গ্রামের বাসিন্দা তারা।১১ বছরের দাম্পত্য জীবনে নিঃসন্তান তারা।তাই মনের আক্ষেপ গোছাতে এবং শূন্য কোল পূরণ করার আকুতি জানিয়ে উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের নিকট আবেদন জানান।পরে উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে হলফনামার শর্ত সাপেক্ষে সন্তানটিকে তাদের কোলে তুলে দিতে সম্মত হন।
এরই প্রেক্ষাপটে রবিবার (১ ডিসেম্বর) বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে শিশুটিকে ওই দম্পতির কোলে তুলে দেয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভাপতি মো. রাশেদুর রহমান।
এসময় আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের অফিসার ইনচার্জ মনিরুল হক সিকদার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বজলুর রশীদ,আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি এনায়েত হোসেন, দাই মা শিরিনা বেগম ও গণমাধ্যম কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সন্তান কোলে তুলে আনন্দে আত্মহারা নতুন মা শিরিনা বেগম।তিনি বার্তা বাজারকে বলেন, ‘আজ থেকে ওকে আমি আমার সন্তান হিসেবেই মানুষ করবো।ওর লালন-পালন, ভরণ-পোষণ,লেখাপড়াসহ যাবতীয় সবকিছুই এখন আমাদের।’
বাবা মো.শাহাবুল হাসান ‘বার্তা বাজার’কে বলেন, ‘শিশুটি আমাদের পরিচয়ে বড় হবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতে আমাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওয়ারিশ হিসেবে গণ্য হবে।’
দাই মা শিরিনা বেগম বার্তা বাজারকে বলেন, ‘শিশুটি বাবা-মায়ের পরিচয় পেয়েছে এটা ভেবেই অনেক ভালো লাগছে।’
বার্তা বাজার/এম.সি
বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।