দলীয় প্রধানের মুক্তির আন্দোলন বেগবান করতে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ের বিকল্প দেখছে না বিএনপি।
ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন দলটির নেতারা। বলছেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে জনগণ ভোট দিতে পারলে দুই সিটিতেই খালেদা জিয়াকে বিজয় উপহার দিতে পারবেন তারা।
আগামী মে মাসে শেষ হচ্ছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরশেনের মেয়াদ। এরইমধ্যে শুরু হয়েছে রাজধানীর দুই সিটিতে ভোটের ক্ষণগণনা। জানুয়ারির শেষ দিকে দুই সিটির নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে প্রস্তুত হচ্ছেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও।
কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী বুলবুল মল্লিক বলেন, “এ বছর আমি পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছি। জনগণের সাথে আছি, তাদের আশা আকাঙ্ক্ষায় তাদের সঙ্গেই থাকবো।”
সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও মনোনয়ন প্রত্যাশী বেগম মহেরুন্নেসা হক বলেন, “জনগণের প্রতিনিধি হয়ে এতদিন কাজ করে এসেছি। সামনেও সাধ্যমত চেষ্টা করবো।”
মাঝপথে নির্বাচন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার না করে শেষ পর্যন্ত ভোটযুদ্ধে থেকে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে দলের নীতি নির্ধারকদের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী আনোয়ার হোসেন ভাষ্য, এই নির্বাচনে যদি আমরা জয়লাভ করতে পারি তবে জনগণ কে সঙ্গে নিয়ে আমরা ঢাকায় বড় আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবো। এরেকজন কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী রাজিব হোসেন পিন্টু জানান, শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন তারা।
রাজধানীতে দলের জনপ্রিয়তা ও শক্তির প্রশ্নে এই নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ মনে করছেন দলটির নেতারা। সেই ভোটযুদ্ধে উত্তরে তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণে প্রয়াত নেতা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশকার হোসেনের ওপরই ভরসা রাখতে চায় বিএনপি।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “বর্তমান যারা কমিশনার আছেন, তারা বিভিন্ন দুর্নীতির কারণে জর্জরিত। এতে প্রমাণিত হয় আমাদের প্রার্থীরা বেশি যোগ্য।”
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, “সাদেক হোসেন খোকা মেয়র ছিলেন, তার জানাযায় বিপুল মানুষ অংশ নিয়েছে। এর মধ্য দিয়েও একটা আভাস পাওয়া যায়।
চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলে উত্তর দক্ষিণে জয়ের মধ্য দিয়ে আস্থার প্রতিদান দিতে প্রস্তুত তাবিথ আউয়াল। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির এই সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী বলেন, “আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে জনগণকে একটা আস্থার যায়গায় নিয়ে আসা। তাদের ভোটের অধিকার রক্ষা করা তাদেরই দায়িত্ব। সে দায়িত্ব থেকে উনারাও সরতে পারবে না। আর উনাদের সহযোগীতা করার জন্য বিএনপি প্রস্তুত।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, “দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী পর্যায় থেকে আমাকে বলা হয়েছে কাজ করার জন্য। আমি কাজ শুরু করে দিয়েছি। দল আমাকে যে দায়িত্বটা দিতে চাচ্ছে তা নিয়ে শতভাগ আমি ঘরে আসতে পারবো।
বার্তাবাজার/এমকে