বেআইনি, বিধিবহির্ভূত, ক্ষমতা অপব্যবহার ও চক্রান্ত মূলক এবং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে কুড়িগ্রাম পৌর আব্দুল জলিল এবং সচিব রেজাউল করিম সহ কর্মচারী নিয়োগ ও বাছাই কমিটির ১৯ জনকে আসামী করে কুড়িগ্রাম সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার নং-১৮০/১৯ ইং।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম পৌরসভার স্মারক নং-৪৬.০৩.৪৯৫২.১১০.০৯.০০৯.২০১৪-৯৭৯, তাং-০৭.১১.১৯ইং স্মারকে স্থগিতকৃত নিয়োগ পরীক্ষা ১০.১১.২০১৯ইং তারিখে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
এতে হিসাব রক্ষক, সাঁট মুদ্রাক্ষরিক, সহকারী কর আদায়কারী, নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, পাম্প চালক, অফিস সহায়ক ও নৈশপ্রহরী পদের নিয়োগ পরীক্ষা গত ১০ নভেম্বর শহরতলির ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন নিম্নমান সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদের প্রার্থী মোনালিসা। তিনি লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হন। যার রোল নং-৫৮। ওইদিন রাতে কুড়িগ্রাম পৌরসভায় মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত এবং সেখানেও তিনি উত্তীর্ণ হয়। যার ক্রমিক নং-৫৮। ফলাফল ক্রমিক নং-৫৮ উল্লেখ করে নোটিশ বোর্ডে প্রদর্শিত হলেও গত ১৮.১১.২০১৯ ইং তারিখে একই পরীক্ষার অন্যান্য সকল পদের নিয়োগ পত্র প্রদান করা হয়। কিন্তু আজবধি তাকে নিয়োগ পত্র দেয়া হয় নাই। এই মর্মে ২০/১১/২০১৯ইং তারিখে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কোনো প্রতিকার না পেয়ে মোনালিসা আদালতে নিয়োগ বোর্ডের ১৯ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। যার নং-১৮০/১৯ইং।
উল্লেখ্য, গত ১৭/৭/১৮ইং তারিখে কুড়িগ্রাম পৌর কর্মচারী সংসদের সভাপতি হাফিজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান রাসেল স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে ১২টি পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র ব্যতিরেকে প্রকাশিত হওয়ায় কুড়িগ্রাম পৌরসভা নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত ও বাতিল করণে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
নিম্নমান সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদের প্রার্থী মোনালিসা জানান, আমি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান। আমি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েও কেন নিয়োগপত্র পেলাম না? এজন্য আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছি। এছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণের নিয়ম থাকলেও তা কেন মানা হয়নি। আমি অসহায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে সর্বাগ্রে চাকুরীর দাবিদার। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সবাই নিয়োগপত্র পেল আমি পেলাম না।
কুড়িগ্রাম প্যানেল মেয়র, কর্মচারী নিয়োগ ও বাছাই কমিটির সদস্য মাসুদুর রহমান জানান, অভিযোগকারী অভিযোগ করতেই পারেন। তবে আমি যতটুকু জানি নিয়োগ স্বচ্ছ হয়েছে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পৌরসভার সচিব, কর্মচারী নিয়োগ ও বাছাই কমিটির সদস্য এস.এম রেজাউল করিম জানান, আমরা নিয়ম মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। একজন অভিযোগ করতেই পারে আমরা আদালতে এর জবাব দিব।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পৌর মোঃ মেয়র আব্দুল জলিল বলেন, ‘যে কেউ কমপ্লেইন করতেই পারে। আমরা এর জবাব দিব।”
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস