বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড হলেও তা কার্যকরে অনুমোদন লাগে হাইকোর্টের। সেখানে রায়ের পর সংক্ষুব্ধপক্ষ যেতে পারেন আপিল বিভাগে। আইনের এমন কয়েকটি চৌকাঠ পেরোনোর অপেক্ষায় আছেন, মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত প্রায় ১৭শ জন আসামী।
সেই তালিকায় বুধবার যোগ হয়েছে, হলি আর্টিজান হামলা মামলার ৭ জন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশেষ ব্যবস্থায় এই মামলার নিষ্পত্তির উদ্যোগ না নিলে বহুদিন লাগবে তা কার্যকর করতে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে হোলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস জঙ্গি হামলায় জড়িতরা কোনো ধরনের অনুকম্পা বা সহানুভূতি পেতে পারেন না।
তবে জঙ্গিবাদে উন্মত্ত এই আসামিদের চোখে মুখে তখনও ছিল না অনুশোচনার লেশমাত্র। বরং নানাভাবে উদ্ধত্য দেখিছেন জনসম্মুখে।
ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মানুষ হত্যার এই বিচারের রায়, মৃত্যুদণ্ড দিলেও বাস্তবায়ন এখনও যোজন দূর। কারণ চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য পেরুতে হবে আরও কয়েকটি আইনি চৌকাঠ।
কেননা হিসাব বলছে উচ্চ আলাদতে এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত প্রায় ১৭’শ জনের মামলা। যদি বিশেষ ব্যবস্থায় হলি আর্টিজান মামলার শুনানি করা না হয় তাহলে দিন গোনা ছাড়া কিছুই করার থাকবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, নিম্ন আদালত উচ্চ আদালত মিলে ৩৫ লক্ষ মামলা ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সুতরাং সেটা হিসাব করলে এই মামলা অনেক দিন লেগে যাবে।
ডিবিসি নিউজের সম্পাদক জাহেদুল হাসান পিন্টু বলেন, এই মামলাটা যদি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে হিয়ারিংয়ের ব্যবস্থা না করা হয় তাহলে আগামী ১৮ বছরেও নিস্পত্তি হবে না।
সাবেক আইনমন্ত্রী বলছেন, এমন চাঞ্চল্যকর মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি আইন করার কথা ছিল। যেহেতু তা হয়নি ফলে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে তা সমাধানের।
শফিক আহমেদ বলছেন, এই রায় জঙ্গি নির্মূলে সরকারের আন্তরিকতার বিষয়ে একটি দৃষ্টান্ত। তবে জঙ্গিবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার অন্য আসামিদের মামলাগুলো দ্রুত শেষ না হওয়ার আক্ষেপ ছিলো তার কণ্ঠে।
বার্তাবাজার/এইচ.আর