কারাগার থেকেই আনা হয় ‘আইএসের টুপি’

হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায়ের পর আদালত চত্বরেই কয়েকজন আসামির মাথায় কথিত আইএসের প্রতীক সংবলিত টুপি দেখা যায়। বুধবার (২৭ নভেম্বর) রায়ের পর আদালত থেকে বের হয়ে এলে কয়েকজন জঙ্গির মাথায় ওই টুপি দেখা যায়। তবে টুপি পৌঁছানোর মাধ্যম প্রসঙ্গে প্রাথমিকভাবে কেউ নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেনি।

রায়ের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের কাঠগড়া থেকে নামিয়ে আনার প্রস্তুতি যখন চলছিল হঠাৎ ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যানের মাথায় দেখা যায় কালো টুপি। সেখানে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পতাকার চিহ্ন। পরে দেখা গেল, শুধু রিগ্যান নয়, আরেক জঙ্গি জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধীর মাথায়ও রয়েছে একই ধরনের টুপি। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

ঘটনার পর, টুপি কীভাবে আসল তা তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির প্রধান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মাহবুব হোসেন। কমিটির আর দুই সদস্য হচ্ছেন ডিবি ডিসি উত্তর ও এডিসি (আইএডি)।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মো. মাহবুব আলম বলেছেন, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রিগ্যান কারাগার থেকে পকেটে করে টুপি নিয়ে আদালতে এসেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে আরো কারা জড়িত বিষয়টি তদন্তের পর স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার মামলার আট আসামির মধ্যে সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি একজন মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান খালাস পেয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জাহাঙ্গীর হোসেন, আসলাম হোসেন র‌্যাশ, মো. হাদিসুর রহমান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, মো. আব্দুল সবুর খান, শরিফুল ইসলাম খালেক ও মামুনুর রশীদ রিপন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিসানে হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। তাদের গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর