সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের গৃহবধু মারুফা হত্যার ঘটনায় নিহতের ভাই ফিরোজ বাদি হয়ে ভগ্নিপতি শহীদুলকে একমাত্র আসামী করে বৃহষ্পতিবার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত শহীদুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বৃহষ্পতিবার বিকালে তিনি সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম বিলাস মন্ডলের কাছে স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ পার্শ্ববর্তী বাড়ির একটি সেফটি ট্যাঙ্কির ভিতরে ফেলে লাশ গুম করার চেষ্টার ঘটনার চাঞ্চল্যকর এক জবানবন্দি দেন।
সাতক্ষীরা আদালতের কালিগঞ্জ শাখার উপ-পরিদর্শক (সিএসআই) নিত্য কুমার মন্ডল জানান, স্ত্রী মারুফা হত্যার দায়ের গ্রেপ্তারকৃত শহীদুল ইসলামকে বৃহষ্পতিবার বিকাল চারটার দিকে আদালতে আনা হয়। বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কালিগঞ্জ বিচারিক আদালতের হাকিম বিলাস মন্ডলের খাস কামরায়। সেখানে শহীদুল তার স্ত্রীকে ফিল্মি স্টাইলে হত্যার চাঞ্চল্যকর কাহিনী তুলে ধরেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপি জবানবন্দিতে সে প্রতিবেশি মাসুম বিল্লার সঙ্গে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে নির্যাতনের পর ঘরের মধ্যে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পরে লাশ পুকুরের পানি দিয়ে টানতে টানতে নিয়ে মাসুম বিল্লার বাথরুমের পিছনের সেফটি ট্যাঙ্কির ভিতরে ঢুকিয়ে মারুফার লাশ গুম করার চেষ্টা করেন। নিজের দোষ ঢাকতে ১৮ নভেম্বর শশুর বাড়িতে ফোন করে মারুফা অন্যর হাত ধরে পালিয়েছে বলে প্রচার দেয় সে। ১৯ নভেম্বর থানায় স্ত্রী নিখোঁজ রয়েছে মর্মে জিডি করে ছেলে রিপনকে নিয়ে শ্বোশুর বাড়ি শ্যামনগর যায় সে। লাশ হয়তো কোনদিনও খুঁজে পাওয়া যাবে না বা পাওয়া গেলেও মৃত্যুর জন্য সে দায়ী থাকবে না এমন ধারণা ছিল তার। তবে স্ত্রীকে হত্যা করে নিজে অনুতপ্ত বলে জানায় শহীদুল।
প্রসঙ্গত, কালিগঞ্জের দুদলী গ্রামে জন্ম হলেও এক বছর আগে একই উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের সোনাতলা পূর্বপাড়ায় নানার বাড়িতে স্ত্রী ও শিশু সন্তান রিপনকে নিয়ে বসবাস শুরু করে শহীদুল ইসলাম। সেখানে ভাঙড়ী মালের ব্যবসা ও ভাজা বিক্রিকরে সংসার চালাতো সে। প্রতিবেশী মাসুম বিল্লার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এমন অভিযোগে শহীদুল তার স্ত্রী মারুফাকে (২৬) প্রায়ই মারপিট করতো।
গত ১৭ নভেম্বর রবিবার রাত ৯টার দিকে প্রতিবেশি মাসুম বিল্লার সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের অভিযোগে মারপিটের পরে নাইলনের দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মারুফাকে। মাসুম বিল্লার বাড়ির বাথরুমের সেফটি ট্যাংঙ্কির মধ্যে লাশ লুকিয়ে রাখে। মারুফা অন্যের হাত ধরে পালিয়ে গেছে মর্মে পরদিন সকালে শালিকা ফিরোজা ও শ্যালকের স্ত্রী রাবিয়া ও চাচা শ্বোশুর জাহিদুল ইসলামকে খবর দেয় শহীদুল। ১৯ নভেম্বর মারুফাকে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে থানায় সাধারণ ডায়েরী (৭৯৬ নং) করে ছেলে রিপনকে নিয়ে শ্বোশুর বাড়িতে যায় সে। ২৭ নভেম্বর সকাল ৯টার দিকে দুর্গন্ধ পেয়ে প্রতিবেশিরা সেফটি ট্যাঙ্কিতে লাশ খুলে পুলিশে খবর দেয়। একইসাথে স্বামী শহীদুলকে আটক করে পুলিশ সোপর্দ করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আজিজুর রহমান বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে আদালতে শহীদুলের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের কথা নিশ্চিত করেছেন।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস