পুলিশের থেকে জমিদারী আচরণ মানুষ আশা করে না: ব্যারিস্টার সুমন

সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের আট বছরের কারাদণ্ডাদেশ প্রসঙ্গে মামলার বাদী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেছেন, দেশের থানাগুলোতে যেসব পুলিশ কর্মকর্তারা জমিদার বাড়ির মতো বা জমিদারের মতো মনে করেন কিংবা অন্যদের সঙ্গে যারা জমিদারের মতো আচরণ করেন তাদের জন্য এই রায়টি মাইলফলক ও অশনি সংকেত হয়ে থাকবে। থানার কর্মকর্তাদের থেকে জমিদারের মতো আচরণ সাধারণ মানুষ আশা করে না।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের শাস্তি ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন বাদী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ওসি মোয়াজ্জেমের সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিলো না। আমি চেয়েছিলাম তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে। অনেকেই মনে করেন পুলিশ কিংবা শক্তিশালী কেউ হলে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা যায় না। আমার ইচ্ছা ছিল ওসি মোয়াজ্জেম যে অপরাধ করেছেন তাকে বিচারের মুখোমুখি করা। আমি তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে পেরেছি, এটাই আমার সবচেয়ে বড় সফলতা।

তিনি আরও বলেন, এই মামলায় আমার একটা ইচ্ছা ছিল, দেশের থানাগুলোতে যেসব পুলিশ কর্মকর্তারা জমিদার বাড়ির মতো বা জমিদারের মতো মনে করেন কিংবা অন্যদের সঙ্গে যারা জমিদারের মতো আচরণ করেন তাদের জন্য এই রায়টি মাইলফলক ও অশনি সংকেত হয়ে থাকবে। থানার কর্মকর্তাদের থেকে জমিদারের মতো আচরণ সাধারণ মানুষ আশা করে না।

এর আগে সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন দু’টি ধারায় মোয়াজ্জেমকে মোট আট বছর কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে দু’টি ধারায় আরও ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, নুসরাত জাহান রাফিকে ‘অসম্মানজনক’ কথা বলা ও তার জবানবন্দি ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল সাইবার ট্রাইব্যুনালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ওই দিনই আদালত এ মামলার তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর