পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলার ভজনপুরে আলহাজ ডালিম উদ্দীন মহিলা দাখিল মাদরাসা এমপিও ভুক্তর তালিকায় অর্ন্তভুক্ত হয়েছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করার অভিযোগ উঠেছে ওই মাদরাসার সভাপতির বিরুদ্ধে।
জানা যায়, জেলার তেতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর আলহাজ ডালিম উদ্দীন মহিলা দাখিল মাদরাসার নাম হঠাৎ এমপিও ভুক্তের তালিকায় উঠে আসায় চালু করলো শিক্ষক ও মাদ্রাসার সভাপতি। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর গত ২৪ অক্টোবর (বৃৃহস্পতিবার) হঠাৎ এমপিও ভুক্তের তালিকায় আলহাজ ডালিম উদ্দীন মহিলা দাখিল মাদরাসা নাম উঠে আসায় শিক্ষক ও সভাপতিকে মাদরাসায় উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানায়, এমপিও ভুক্তের তালিকা হওয়ায় মাদরাসার সভাপতির লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করার পথ সৃষ্টি হয়। মাদরাসায় সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থী শূন্য। আর মাদরাসার একটি পাকা ঘরে সভাপতি ও হাতে-গনা ৫/৬ শিক্ষক কর্মচারী বসেই সময় কাটাচ্ছেন। রয়েছে একটি পাকা ও একটি ভাঙা টিনসেট ঘর।
ভাঙা টিনসেট ঘরে ৪টি কক্ষের একটি কক্ষে হাতে-গনা ৪টি বে ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়েনি। শুধু তাই নয় মাদরাসায় সভাপতি ও ৬ জন স্টাফ ছাড়া কোন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়নি। অথচ কাগজে কলমে ২৫৩ জন শিক্ষার্থীর নাম ও ১৬ শিক্ষক/কর্মচারী নাম দেখানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদরাসায় কোন ক্লাস নেই কোন ছাত্রী এবং নীতিমালা ও শর্ত পূরণ না করেও মাদ্রাসাটি এমপিও ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে মাদ্রাসা সুত্রে জানা যায়,নিয়মিত ছাত্রীরা ক্লাস করছে এবং বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পরীক্ষায় দিয়েছে।
আলহাজ ডালিম উদ্দীন মহিলা মাদরাসার সভাপতি মোঃ ফজলুল রহমান জানান, আমার বাবা ১৯৯৭ সালে এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করে। আমরা দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে আসছি। তবে দীর্ঘদিন মাদ্রাসাটিতে বিনা বেতনে চাকুরী করে আসছে শিক্ষক ও কর্মচারীরা।
মাদরাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৫৩ জন। আর শিক্ষক/কর্মচারীসহ মোট ১৬ জন কর্মরত রয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন শিক্ষক ও ৪ চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। ইতি পুর্বে ২০০২-০৩ সালে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়ে ছিলো। কোন টাকা পয়সা নেওয়া হয়নি। ২০০২-০৩ সালে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল তারাই এখন মাদরাসায় কর্মরতর রয়েছে। আর লাখ লাখ টাকার শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
সভাপতি আরো বলেন, মাদরাসার সুপার যে ছিলো তার সব বিষয়ের সাটিফিকেট তৃতীয় শ্রেনীর । তাই সে সুপার হতে পারেনি বলে এসব অভিযোগ করে বেড়াচ্ছে। আমাদের সুপার নেই। আমরা ভালো দেখে সুপার নিয়োগ করবো টাকা ছাড়াই। মাদরাসাটি এমপিও ভুক্ত হওয়ায় একটি মহল মাদরাসাটি ধ্বংসের পায়তারা করছে। তাদের পায়তারা সফল হবে না।
এদিকে পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা অফিসার হিমাংশু কুমার রায় সিংহ জানান, এমপিও ভুক্তের বিষয়টি আমাদের কোন ভূমিকা নেই। এসব বিষয়ে এমপি মন্ত্রী ও সচিবরা ভালো জানেন।
বার্তাবাজার/এমকে