কুমিল্লার মুরাদনগরে গোমতী নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ সড়কটি বেড়ীবাধের ভেতরের অর্ধেকেরও বেশি অংশ দেবে গেছে। এ কারণে সড়কের ওপর দিয়ে গত দুইদিন ধরে সব ধরনের যন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে বিকল্প কোন সড়ক না থাকায় উপজেলাবাসী রাজধানীতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে।
জানা যায়, গত কয়েক বছরে উপজেলার ভূবনঘর নামক স্থানে গোমতী নদীর ভাঙ্গনের কারনে রাজধানী শহর ঢাকা যাওয়ার একমাত্র সড়কটির অর্ধেক এরও বেশি আগেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে সড়কটির বাকি অংশের অর্ধেকেরও বেশি দেবে যাওয়ায় যে কোন সময় পুরো সড়কটি নদীতে বিলিন হয়ে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় বিকল্প কোন পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে যাত্রীবাহি মুরাদনগর এক্সপ্রেস, ইলিয়টগঞ্জ এক্সপ্রেস, তিসা পরিবহন, মাইক্রোবাস, মালবাহি ট্রাকসহ শত শত যানবাহন প্রায় ২০কিলোমিটার ঘুরে ঢাকায় যেতে হচ্ছে।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির সংস্কার নিয়ে কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপথের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের তাই সড়কের সংস্কার করার দ্বিয়ীত্ব তাদের।
অপরদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে নদী ভাঙ্গনের কারনে সড়কটি ভেঙ্গে গেছে। তাই পানি উন্নয়ন বোর্ড যতক্ষন সড়কটির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গোমতী নদীতে পাইলিং এর কাজ না করবে ততক্ষন সড়কটির স্থায়ী ভাবে সংস্কার কাজ করা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, যেহেতু সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের তাই সড়ক সংস্কারের কাজ তারাই করবে। আমাদের এ ব্যাপারে কিছুই করার নেই।
অপরদিকে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহাদ উল্লাহ বলেন, সড়কটির পাশেই গোমতী নদী রয়েছে। তাই নদীতে স্থায়ী ভাবে কোন কাজ না করে সড়কটি সংস্কার করলে সমস্যা থেকেই যাবে।
যেহেতু পানির স্রোতের করনে সড়কটি ভেঙ্গেছে আর নদীর পাড়ের সুরক্ষার কাজটি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে করতে হবে। সড়কের বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ও পানি উন্নয় বোর্ডকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি।
বার্তাবাজার/এমকে