সরিষাবাড়ীতে ৭টি রেলস্টেশনের মধ্যে ৪টির কার্যক্রম বন্ধ

জনবল-সংকটের কারনে জামালপুরে সরিষাবাড়ীর ৭টি রেলস্টেশনের মধ্যে ৪টি ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। রেল স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় যাতায়াত ও টিকিট কাটা নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এসব এলাকার যাত্রীদের। এতে প্রতিনিয়ত হচ্ছে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়।

এ ছাড়া স্টেশনে মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি ও নষ্ট হওয়াসহ নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘ দিন বন্ধ হয়ে পড়া এসব জনমানবশূন্য ষ্টেশন গুলোতে চলে ধান মাড়াই, খড় শুকানো ও নানা অপরাধমূলক কাজ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক সময়কার জনপ্রিয় ও বিখ্যাত স্টেশন গুলো আজ জনশূন্য। চারদিকে সুনসান নীরবতা। স্টেশনের সব কক্ষই তালাবদ্ধ। ভবনের বারান্দায় রাখা হয়েছে খড়। সিলিং ভেঙ্গে পড়ে আছে।

স্টেশনে থাকা কয়েকটি দোকানও বন্ধ। এ উপজেলা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে ২টি আন্তনগর ও চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ফাইভ আপ (চট্টগ্রাম মেইল), দুপুরে ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা ধলেশ্বরী এক্সপ্রেস এবং রাতে ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা অন্য একটি লোকাল ট্রেনসহ মোট ৩টি লোকাল ট্রেন। এ উপজেলায় ৭টি রেলষ্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে জাফরশাহী (ভাটারা), বাউসী, বয়ড়া ও নব নির্মিত শহীদ নগর বারইপটল স্টেশন বন্ধ রয়েছে। এদিকে প্রতিটি রেলস্টেশনে একজন স্টেশনমাস্টার ও সহকারী মাস্টার এবং চারজন করে পয়েন্টম্যান থাকার কথা থাকলেও এসব স্টেশনে কেউ নেই। ফলে যাত্রীদের সহায়তা করা ও টিকিট কাটার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ৩টি লোকাল ট্রেন থাকলেও জাফরশাহী (ভাটারা), বাউসী, বয়ড়া স্টেশনে থামছে ২টি মাত্র লোকাল ট্রেন। একটি দিনে অন্যটি রাতে। আন্তনগরের পাশাপাশি ধলেশ্বরী ট্রেনও দাড়ায় না এসব ষ্টেশনে। এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মাঝে।

বয়ড়া রেল ষ্টেশনের দোকান ব্যবসায়ী মোঃ সুলতান ফকির বলেন, বৃটিশ আমল থেকে চলা এই বয়ড়া রেলষ্টেশন অনেকদিন ধরেই বন্ধ হয়ে রয়েছে। এখানে মাষ্টার বা কোন রেলের লোক নেই। অনেক যাত্রী এসে গাড়ীর খোজ না নিতে পারায় ঘুরে যায়। এখন আর আমার দোকান চলে না। আগে এখানে তিনটা ট্রেন দাড়াইতো কিন্তু এখন একটা ট্রেন দাড়ায়। ধলেশ্বরী ট্রেনও দাড়ায় না।

শহীদ নগর বারইপটল স্টেশনের যাত্রী হৃদয় শাওন বলেন, এই শহীদ নগর বারইপটল রেল ষ্টেশনে দুই বছর আগেও লোকজনের সমাগম ছিল। ছিলো ষ্টেশন মাষ্টার সহ রেলের অনেক লোক। এখানে বিশাল কোয়াটার আছে কিন্ত ষ্টেশন বন্ধ হওয়ার পর এসব কোয়াটারে কেউ থাকে না। নষ্ট হচ্ছে ভেতরে থাকা সব যন্ত্রাংশ।

সরিষাবাড়ী স্টেশন মাস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, লোকবল সংকটের কারনে এসব ষ্টেশন বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া ময়মনসিংহ, জামালপুর, সরিষাবাড়ী ও তারাকান্দি হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত চলাচলকারী তিনটি লোকাল ট্রেনের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকা-উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোর সময়সূচির মিল না থাকায় যাত্রীরা ট্রেনগুলোয় ভ্রমণের সুবিধা ভোগ করতে পারছে না। ফলে তিন লোকাল ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। যার কারনে রেল খাতে লোকসানের পরিমাণও বাড়ছে।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর