সংবাদ প্রকাশের জের ধরে, ইবি সাংবাদিককে ছাত্রলীগ নেতার হুমকি

“ছাত্রত্ব নেই, ৪ বছরের স্নাতক পড়ছেন ৯ বছর ধরে” শীর্ষক সংবাদ গত ২৪ নভেম্বর প্রকাশ হওয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমানে পদবঞ্চিত ও বিদ্রোহীদলের নেতা তৌকির মাহফুজ মাসুদ সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীলতায় বিশ্বাসী সাংবাদিক সংগঠন ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সভাপতি আবু সালেহ শামীমকে +8801713884601 এই নাম্বার থেকে কল দিয়ে তিনি হুমকি দেন। পাশাপাশি তিনি দপ্তর সম্পাদক মুরতুজা হাসান নাহিদের নামও উল্লেখ করেন।

তিনি কথোপকথনে বলেন, তোমরা কার কথায়, কিসের ভিত্তিতে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করেছো? আমি একটা সংগঠন করি, আমি ক্যান্ডিডেট। তুমি এভাবে নিউজ করতে পারোনা।

এসময় তিনি অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে বলেন, কোথায় তুই ? আমার সাথে দেখা কর।
তোর শেঠা বের করে দিবানে খানকির ছেলে।

তৌকির মাহফুজ মাসুদ ও আবু সালেহ শামীম এর মধ্যকার ৩ মিনিট ৯ সেকেন্ডের কথোপকথনটি তুলে ধরা হলো।

সালেহ : হ্যালো আসসালামু আলাইকুম
মাসুদ : মাসুদ, আমি তৌফির মাহফুজ মাসুদ, চিনতে পারছো।
সালেহ : হ্যাঁ ভাই চিনছি।
মাসুদ : তোমাদের দুজনের (সালেহ ও নাহিদ) এর সাথে আমরা ৩ জন কথা বলবো।
তোমরা কারো সাথে কথাবার্তা না বলে কার কথা মতো তোমরা করছো, কিসের ভিত্তিতে?
সালেহ : নিউজ তো কারো কথা মত হয়না ভাই।
মাসুদ: তাহলে এতদিন কোথায় ছিলে তোমরা?

সালেহ : আপনার সাথে ত কথা বলা হয়েছে।
মাসুদ : কার সাথে কথা বলেছ?
সালেহ : আপনার সাথে কথা বলা হয়নি?
মাসুদ: কার সাথে।
সালেহ : আপনার সাথে।
মাসুদ : না আমার সাথে কথা বলা হয়নি।
সালেহ : কথা বলা হয়নি আপনি অস্বীকার করতে পারবেন।
মাসুদ : আমার কাছে জানতে চাইছে আমি সামনাসামনি আসতে বলছি। তুমি কে তোমার পরিচয় দিয়ে কথা বলতে হবে।

আমি একটা সংগঠন করি আমি হলাম ক্যান্ডিডেট। তুমি এভাবে নিউজ করতে পারো না।

সালেহ : যেটা নিউজ হয়েছে তাতে অসত্য কোন কিছু নেই!
মাসুদ: সেটা তো তোমার প্রমাণ করতে হবে।

সালেহ: প্রমাণ সাপেক্ষে নিউজ হয়েছে।
মাসুদ : সে প্রমাণটা কি?
সালেহ : বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এর সাথে কথা বলা হয়েছে ডিপার্টমেন্টে কথা বলা হয়েছে তারপরে নিউজ করা হয়েছে।
মাসুদ : তুমি ডিপার্টমেন্টের কথা বলেছ আর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছ আর আমি বাল ছাল।
সালেহ : আপনি অসভ্য ভাষায় কথা বলতে পারেননা।
মাসুদ : তুমি আমার বিরুদ্ধে নিউজ করছো আর আমি কিছু বলতে পারবোনা।
সালেহ :সত্য তথ্য দিয়ে নিউজ করা হয়েছে, এখানে কোনটা অসত্য তথ্য?
মাসুদ : তুমি কোথায়। তুমি নিয়ম না মেনে নিউজ করছো।
সালেহ : সাংবাদিককে কি আপনি নিয়ম শেখাবেন।
মাসুদ : তোর শেঠা বের করে দিবানে খানকির ছেলে, তুই কোথায়।

উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র তৌকির মাহফুজ মাসুদ প্রতিবন্ধী না হয়েও প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তি হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শ্রবণ প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তি হলেও স্নাতক চার বছরের কোর্স নয় বছরে শেষ করতে পারেননি তিনি। তার রোল নাম্বার (রোল-১০১০১০৯)।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, তিনি ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হলেও স্নাতক চতুর্থবর্ষে চূড়ান্ত পরীক্ষা ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সাথে দিয়েছেন। ২০১৭ সনে অনুষ্ঠিত ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ বর্ষ স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষা ২০১৫ এর ফলাফলে দেখা যায়, তিনি ১০৬ নম্বর কোর্সে অকৃতকার্য হয়েছেন। পরবর্তীতে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ বর্ষ মান উন্নয়ন (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষা ২০১৮ সনে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু তৌকির মাহফুজ এ মান উন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি এবং নম্বর পত্রে তার নামও পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে সে বিশেষ মান উন্নয়নের জন্য আবেদন করলেও বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একাডেমিক কাউন্সিলে তা গৃহীত হয়নি।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন বলেন, হুমকির বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। যে নিউজটি হয়েছে আমি মনে করি সাংবাদিকদের সেটার ভিত্তি আছে। আর যার বিরুদ্ধে নিউজ হয়েছে তাকেও বলেছি যে আমরা এটা প্রশাসনিকভাবে দেখবো এবং যত দ্রুত সম্ভব এটা আমরা মীমাংসা করার চেষ্টা করবো।

এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ছাত্রলীগের ক্যান্ডিডেট যে কেউ হতে পারে, সে (তৌকির মাহফুজ মাসুদ) ক্যান্ডিডেট হলেই আমরা এ ধরণের কাউকে নেতা বানাবোনা। এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিবো।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর