সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ। আর মাত্র তিন দিন পর ৩০ নভেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই চাঙ্গা হয়ে উঠছেন নেতাকর্মী।
পদপ্রত্যাশী নেতারা এখন ছুটে চলেছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের বাড়ি বাড়ি, অফিস-আদালতে। অনেকেই নিজেদের জনপ্রিয়তা জানান দিচ্ছেন সর্বত্র। তারা অবশ্য যোগাযোগ রাখছেন তৃণমূল নেতাকর্মীর সঙ্গেও।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীরা আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু ৩২ এভিনিউ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভিড়ছেন। সম্মেলনেই নির্ধারিত হবে পদপ্রতাশীদের ভাগ্য। আলোচনায় নেই এমন নেতারা গভীর রাত পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়ের সামনে ভিড় করছেন। আবার অনেককে আড্ডা দিতে দেখা গেছে।
চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন। ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ কৃষক লীগ, ৯ নভেম্বর জাতীয় শ্রমিক লীগ, ১৬ নভেম্বর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ২৩ নভেম্বর আওয়ামী যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া ১১ নভেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ১২ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের পরই প্রতিটি সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার জন্য। সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সভাপতি আবুল হাসনাত, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী মো. নজিবুল্লা হিরু, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দিলীপ রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আশরাফ তালুকদার, হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল, প্রচার সম্পাদক আখতার হোসেন, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল আজিজের ছেলে ওমর বিন আব্দাল আজিজ ওরফে তামিম, ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের সাবেক উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবির, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ ও বর্তমানে সূত্রাপুর থানা
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী আবু সাঈদ।
সূত্রমতে, সভাপতি পদে একজন আদি ঢাকাইয়া খুঁজছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনকে বেছে নেয়া হতে পারে আদি ঢাকাইয়া হিসেবে। আবার যদি সাঈদ খোকনকে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী করা হয় তাহলে তাকে সভাপতি করা হবে না।
সেক্ষেত্রে ঢাকাইয়া হিসেবে বিকল্প হিসেবে খোঁজা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, বর্তমান কমিটির দায়িত্বে আছি। কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারছি, কতটুকু সফল সেবিচারের ভার আমার নেত্রীর ওপর। তিনি আমাকে যেখানে রাখবেন আমি সেখানেই থাকব। পদপদবি আমার কাছে মুখ্য নয়। শেখ হাসিনার একজন নিবেদিত কর্মী হয়ে আওয়ামী লীগটা করতে চাই।
মো. হুমায়ুন কবির আশির দশকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আদি ঢাকাইয়া হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগের এই পোড় খাওয়া তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতা ১৯৯৪ সালে বিএনপির শাসনামলে প্রথমবারের মতো ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
তিনি বলেন, ঢাকা কলেজেএইচএসসিতে পড়াকালীন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের হাত ধরে তার রাজনীতির হাতেখড়ি। ওয়ার্ড এবং থানা আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন, জাতীয় নির্বাচন এবং সিটি নির্বাচনের সময় পাওয়া অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি। ওয়ান-ইলেভেনের সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য এলাকায় মিছিল, মিটিং, মানববন্ধন ও স্বাক্ষর সংগ্রহসহ রাজপথের বিভিন্ন কর্মসূচি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছি। আমার বিশ্বাস আছে, প্রধানমন্ত্রী সব সময় ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীকে সবার আগে মূল্যায়ন করবেন।
ডা. দিলীপ রায় ’৭৫-এর পর ফরিদুপর এলাকায় ছাত্রলীগকে সংগঠিত করেন। ২০০১-৬ সাল বিএনপি, জামায়াতের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যে কয়েকজন নেতা সক্রিয় ছিলেন তাদের মধ্যে তিনি একজন ছিলেন। ১/১১ সময় জীবন বাজি করে নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। যা ছিল চোখে পড়ার মতো। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, রাজধানী ঢাকাতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি রাখা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর শীর্ষ পদেও এর প্রভাব দেখা গেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে মহানগরের দায়িত্ব হলে ডা. দিলীপ রায় এগিয়ে থাকবেন। কারণ তিনি দীর্ঘদিন মহানগরের রাজনীতির সাথে জড়িত।
বর্তমানের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের আগে স্বাস্থ্য সম্পাদকসহ নানা পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রার্থী প্রসঙ্গে তিনি মানবকণ্ঠকে বলেন, নেত্রী দায়িত্ব দিলে তা আমানত হিসেবে পালন করব। গোলাম আশরাফ তালুকদার দীর্ঘদিন মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ১/১১ সময়ে আওয়ামী লীগের প্রথম যে বর্ধিত সভা হয় এর খবর বহনকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীর মধ্যে তিনিই বলেনছিলেন, ‘নো শেখ হাসিনা নো ইলেকশন’। এরপর সবার এক দাবি ছিল এ বিষয়টি। প্রার্থী তালিকায় সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ এলে তার অবস্থান পাকাপোক্ত। কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল বৃহত্তর ধানমণ্ডি থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
এছাড়া তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ১/১১ সময়ে সক্রিয় ছিলেন। নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে রাজপথেও ছিলেন তিনি।
বার্তাবাজার/এইচ.আর