সাতক্ষীরার শ্রীরামপুর জাল দলিল সৃষ্টি করে কুলিয়ার এক ব্যবসায়ীর সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধ মিথ্যা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুর সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে পাল্টা এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন, সদর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে ভুক্তভোগী নেছারুল আল-আমিন।
তিনি তারলিখিত বক্তব্যে বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে অত্যান্ত সুনামের সাথে কুলিয়া বাজারে ‘মেসার্স মীম বস্ত্রালয়’ নামক প্রতিষ্ঠানে কাপড়ের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। গত ২০১৬ সালে আমার গ্রামের বাড়ি শ্রীরামপুর মৌজায় ৫২৯২ দাগে বাস্তো ২৭ শতকের মধ্যে টিন সেডের দুটি দোকানসহ ০৪ শতক সম্পত্তি মৃত. মোশাররফ হোসেনের পুত্র বজলুর রহমানের কাছ থেকে বর্তমান বাজার দরে অনুযায়ী ক্রয় করি।
উক্ত সম্পত্তির রেকর্ডীয় মালিক রুহুল কুদ্দুস বিগত ২১/০৪/২০০৫ সালে, হাল ৫২৯২ দাগে কোবলা দলিল মূলে বজলুর রহমানের কাছে বিক্রয় করে। আমি বজলুর রহমানের কাছ থেকে হেবাবলে এওয়াজ মূলে গত ০৪/১২/২০১৬ তারিখ ক্রয়ের পর উক্ত সম্পত্তির দখলও বুঝে পাই। ক্রয়ের পর উক্ত ৪ শতক সম্পত্তির মিউটেশন আমার নিজ নামে সম্পন ও খাজনা পরিশোধ করছি। কিন্তু সম্প্রতি একই এলাকার মৃত. গোলাম বারী বিশ্বাসের পুত্র কুখ্যাত মামলাবাজ, পরসম্পদ লোভী রুহুল কুদ্দুস উক্ত সম্পত্তির জাল দলিল সৃষ্টি করে অবৈধভাবে দখলের ষড়যন্রে লিপ্ত হয়। এঘটনায় ওই মামলাবাজ রুহুল কুদ্দুস ৩১/০৩/২০১৯ তারিখ সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
কিন্তু আদালতে হাজির হয়ে সকল কাগজপত্র উপস্থাপন করত না পারায় মামলাটি গত ০৯/০৯/১৯ তারিখে আদালত খারিজ করে দেয়। মামলাটি খারিজ হওয়ার পর সুচতুর রুহুল কুদ্দুস আবারো আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া ১৪৫ ধারায় আরো একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশ উক্ত জমিতে শান্তি – শৃংখলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ উভয়পক্ষকে নিয়ে মিমাংসার চেষ্টা করলে মামলাবাজ রুহুল কুদ্দুস কাগজপত্র নিয়ে হাজির না হয়ে তালবাহানা শুরু করেন।
তিনি বলেন, রুহুল কুদ্দুস অবৈধভাবে সম্পত্তি দখল করতে না পেরে আমার বিরুদ্ধ গভীর চক্রান্ত লিপ্ত হন এরই জের গত ২২/১১/২০১৯ তারিখে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার করে একটি বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলন করেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাছি। প্রকৃত পক্ষে আমি জীবনে কোনদিন নেশাজাতীয় কোন দ্রব্য গ্রহণ করিনি। আমি ১৯৯৬ সাল থেকে অত্যান্ত পরিশ্রম করে সুনামের সহিত কুলিয়া বাজারে কাপড়ের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। আমি নিয়মিত সরকারের আয়করও প্রদান করি। আমার সম্পত্তির সকল প্রকার বৈধ কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে এবং সেটি আমার দখলেও রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, রুহুল কুদ্দুস অত্র এলাকার চিহ্নিত মামলাবাজ ও পরসম্পদ লোভী। তিনি নিজের মা আমেনা খাতুনের নামীয় সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখে নিতে চাইলে তিনি তা না দেয়ায় নিজের মাতাকে ফেন্সিডিল দিয়ে আটক করিয়ে জেল হাজত খাটিয়েছেন। এছাড়া তার আপন ভাইদের সম্পত্তি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে রেকর্ড করে নিয়েছে এই রুহুল কুদ্দুস। এমতাবস্থায় তিনি (নেছারুল আল-আমিন) উক্ত মামলাবাজ ও পরসম্পদলোভী রুহুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক তার রেকর্ডীয় সম্পত্তি রক্ষায় পুলিশ সুপারসহ সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস