সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর’র (এলজিইডি) সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করে রাস্তা পাকাকরণের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এলজিইডির লোকজনকে ‘ম্যানেজ’ করেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মান করে যাচ্ছেন। তাই অল্প দিনেই রাস্তাটি ভেঙ্গে ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগি হওয়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।
রায়গঞ্জ উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভূইয়াগাঁতী এলাকার শশ্বান ঘাট থেকে লাঙ্গনমোড়া গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ১৫৬০ মিটার আঞ্চলিক রাস্তা পাকাকরণ কাজের দরপত্র আহবান করে এলজিইডি। এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে মেসাস ওসমান গুনি অটো রাইজ এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। কাজটি কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর ইতিমধ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রাস্তাটির নির্মান কাজ শুরু করেছে।
রোববার (২৪ নভেম্বর) সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, প্রায় পুরো রাস্তার সাববেজ (নিচের স্তর) শেষ করে শুরু হয়েছে ডব্লিউবিএম (দ্বিতীয় স্তর) নির্মান কাজ। ইতিমধ্যে অর্ধেকের বেশি ডব্লিউবিএম শেষ হয়েছে। তবে পুরো ডব্লিউবিএমের জন্য ব্যবহৃত খোয়া অত্যন্ত নিম্নমানের ব্যবহার অযোগ্য ইটের খোয়া। যা স্থানীয় ভাবে রাবিশ হিসেবে পরিচিত। এবং দেখা যায় রাস্তার মাঝে মাঝে স্তূপ করে ইটের গুঁড়া মিশ্রিত ব্যবহার অযোগ্য ইটের খোয়া রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, এলজিইডির লোকজনকে ‘ম্যানেজ’ করে শুরু থেকেই দায় সারাভাবে ঠিকাদার রাস্তাটির নির্মান কাজ করছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করা হলেও কোনো কাজ হয়নি। তারপরও নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে রাস্তা নির্মানের কাজ করা হচ্ছে। তাই অল্প দিনেই রাস্তাটি ভেঙ্গে, ডেবে ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগি হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে মেসার্স অটো রাইজ এন্টারপ্রাইজ’র স্বত্তাধিকারি মো. ওসমান গুনির সাথে মুঠোফোনে করা হলে তিনি জানান, কাজটি আমি স্থানীয় একজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। তবে এ সময় ভাটা গুলো চালু হচ্ছে মাত্র। ইট গুলো হয়তো তার আগের ছিলো তাই মনে হয় কিছু ইটের খোয়া খারাপ বের হয়েছে।
এদিকে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাছেদ জানান, অভিযোগ পেয়ে কাজটি পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি। এবং এ বিষয়ে আমার উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আজ চিঠি প্রেরণ করেছি।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস