বাঙালীর লোক ইতিহাস-ঐতিহ্যে পিঠা-পুলির গুরুত্ব ভূমিকা পালন করে আসছে বহুকাল ধরে। পিঠা খেতে কে না পছন্দ করে! বলতে গেলে ছোট বড় সকলেই পিঠা খেতে পছন্দ করে। পিঠা নিত্য দিনের খাবার নয়।
আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের আগমন, পারিবারিক অনুষ্ঠান, বর বা কনে বরণ অনুষ্ঠানসহ বাড়ীতে বেড়াতে আসা অতিথী আপ্যায়নে পিঠা পরিবেশন করার ঐতিহ্য বেশ পুরোনো। অনেক সময় ছোট ছেলে মেয়ে কিংবা পরিবারের সদস্যরা পিঠা বানাবার আবদার করে, সেই আবদার রক্ষায় মা, দাদি/নানিরা পিঠা তৈরি করে থাকে। অনেক সময় গ্রামে প্রতিবেশীরা একসাথে মিলে পিঠা তৈরির আয়োজন করে।
পিঠা সারা বছরই তৈরি হয়। কিন্তু কিছু পিঠা শীতকালে বেশী তৈরি করা হয়। আর সেগুলো শীতকালে খেতে সুস্বাদু। শীতকালে পিঠা খাওয়ার মজাই অন্য রকম। সাধারণত দেশের গ্রাম গঞ্জে চিতই, পাটিসাপটা, পাকান, ভাপা, আন্দশা, কুলশি, কাটা পিঠা, ছিট পিঠা, গোকুল পিঠা, চুটকি পিঠা, মুঠি পিঠা, জামদানি পিঠা, হাঁড়ি পিঠা, চাপডি পিঠা, নকশি পিঠা, পাতা পিঠা, তেজপাতা পিঠা, ঝুরি পিঠা, ফুলঝুরি পিঠা। এর মধ্যে শীতকালে গ্রামের মানুষজনকে পাটিসাপটা, ভাপা, চিতই পিঠা বেশী বানাতে দেখা যায়। পিঠা তৈরির উপাদান হচ্ছে চালের গুঁড়া, ময়দা, গুড় বা চিনি, নারিকেল ও তেল।
পিঠা যেমন অতিথী আপ্যায়নের জন্য বানানো হয়। তেমনি পিঠা বিক্রির জন্যও বানানো হয়। সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘূরে রাস্তার পাশে লক্ষ্য করা যায় পিঠার বিক্রির দোকান। চালের গুড়ো, গুর আর নারিকেল দিয়ে বানানো ভাপা পিঠা কিনতে প্রায় সব সয়সী মানুষকেই দোকান গুলোতে ভিড় জমিয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসমহল বালুচর গ্রামের আলী মার্কে ও বালুচর চৌরাস্তায় গেলে এক পিঠা বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, যারা পিঠা বিক্রি করছেন তারা সবাই সংসার চালানোর জন্যই করছেন। খাসমহল বালুচর গ্রামের পিঠা বিক্রেতা ইয়াকুব আলী বলেন, এখন আর আগের মতু বাড়ীতে বাড়ীতে পিঠা বানায় না।
পিঠা লাগলে বা বাড়ীতে মেহমান আসলে তারা আসমাদের দোকানে অর্ডার করে যায়। আমরাই পিঠা বানিয়ে পাঠিয়ে দেই। আমি অন্যকোন কাজ করতে পারি না। এই পিঠা বিক্রি করে কোন রকম আমার সংসার চালাচ্ছি।
বার্তাবাজার/এমকে